রামকিঙ্কর বেইজের কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শেষতম জীবিত ছাত্রী কিরণ দীক্ষিত থ্যাকার -এর ভাস্কর্য ও চিত্রকলার পাচদিনব্যাপী একক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে সাদার্ন অ্যাভিনিউ -এর বিড়লা অ্যাকাদেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারে, আগামী ২ থেকে ৬ এপ্রিল, প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা। উদ্যোক্তা আলিপুর মিউজিয়াম এর কর্মকর্তার জয়ন্ত সেনগুপ্ত। ২ এপ্রিল সন্ধে ছটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সৌমিত্র দাস, পংকজ পানোয়ার ও মৃণাল ঘোষ।
৮০ ছুঁই ছুঁই বয়সে কিরণ দীক্ষিত থ্যাকার আজও মাটি,পাথর, ধাতু দিয়ে গড়ে তোলেন ভাস্কর্য। রং ছড়ান ক্যানভাসে। গত ৫০ বছর ধরে তিনি এটাই করে আসছেন। তাঁর শিল্পকর্মের মধ্যে দিয়ে শান্তিনিকেতনের ভাস্কর্যের ঘরানার পরিচয় মিলবে।
শিল্পী কিরণ দীক্ষিত থ্যাকার তাঁর ব্যক্তি জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবের মাটিতেই ভাস্কর্য সৃষ্টি করেছেন। নিজের জীবনের বিবর্ণতা ডাকতে ক্যানভাসের রং ফুটিয়েছেন। ছেলেবেলার সৎ মায়ের দুর্ব্যবহার, যৌবনের অসুখী দাম্পত্য, পরিণত বয়সে একমাত্র সন্তানের মৃত্যু– সব যন্ত্রণার নির্যাস থেকে তিনি শিল্পকে সৃষ্টি করেছেন। তার ভাস্কর্যের উপজীব্য বিষয় হল, প্রকৃতি ও মানুষ তাদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক, সাইকেলে আরোহী সাঁওতাল পরিবার, বাসে বসা বরযাত্রী, জলে ঝাপানো ছেলের দল ইত্যাদি।
স্কুলের পার্ট শেষ করে কিরণ বিশ্বভারতীতে এসে ভর্তি হন। সাম্মানিক দর্শনীয় স্নাতক ডিগ্রি এবং ফাইনার্স এর ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেন। সেখানেই তিনি রামকিঙ্কর বেইজের সান্নিধ্যে আসেন। প্রথম দিকে তিনি আর্টের প্রতি ততখানি আগ্রহী ছিলেন না, কিন্তু রামকিঙ্করের অনুপ্রেরণায় একসময় শিল্পই তাঁর জীবনের রসদ হয়ে উঠল। কিন্তু পারিবারিক দমবন্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেতেই তিনি ইংল্যান্ডবাসী একজনের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। কিন্তু সেই বিয়েও সুখের হয়নি। এক সময় ক্রাফট ডিজাইনারের পেশাকে তাঁকে বেছে নিতে হয় নিজের এবং একমাত্র মেয়ের জীবন নির্বাহ করার জন্য। ঘটনাচক্রে একমাত্র সন্তান চলে যাওয়ার পর আবার তিনি ফিরে আসেন শান্তিনিকেতনে।
শিল্পী কিরণ দীক্ষিত থ্যাকার -এর ব্যক্তি জীবনের এই ভাঙাচোরাই তার শিল্পকে ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন রূপদান করেছে। তারই ঝলক দেখা যাবে তাঁর একক প্রদর্শনীতে।