About Us

সময়ের সারণীতে ‘শনিবারের চিঠি’

শতবর্ষে এসে পৌঁছল ‘শনিবারের চিঠি’। অনেক প্রতিকূলতার পথ পাড়ি দিয়ে, সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে, অনেক কাঁটাতারের আঘাত সয়ে।

প্রথম পথ চলা শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীতে, ১৯২৪ সালের ২৬ জুলাই (১০ শ্রাবন, ১৩৩১)। সূচনা থেকেই ‘শনিবারের চিঠি’ বাংলা ভাষার এক ব্যতিক্রমী সাহিত্য সাময়িকী। এই ‘চিঠি’র ভাষ্যে কটাক্ষের তির, বিদ্রুপের ভঙ্গিমা, বঙ্কিম হাস্যরস সকলের নজর কেড়েছিল। ‘শনিবারের চিঠি’র ব্যঙ্গ শেলের আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, চিত্তরঞ্জন দাশের মতো ব্যক্তিত্বরাও। শুধু ব্যক্তি নয়, ব্রিটিশ রাজশক্তির দমননীতি ও অত্যাচার, নানারকম কুসংস্কার, ধর্মের নামে উগ্রপন্থা ইত্যাদিও ছিল ‘শনিবারের চিঠি’র আক্রমণের বিষয়বস্তু। সাহিত্য-সমাজ, রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে ‘শনিবারের চিঠি’ হয়ে উঠেছিল ‘কাউন্টার লিটারেচার’-এর এক সাহিত্যপত্র। তবে সেই সমালোচনার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আক্রমণই ছিল না, সেইসঙ্গে ছিল সংশোধনও। এছাড়া নতুন লেখকদের সাহিত্য প্রতিভা উন্মেষের সুযোগ করে দিয়েছিল ‘শনিবারের চিঠি’। গড়ে তুলেছিল ‘শনিমন্ডলী’ শিরোনামে লেখকগোষ্ঠী।

১৯২৪ সালের ২৬ জুলাই প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে শনিবারের চিঠির আত্মপ্রকাশ। ‘প্রবাসী’ পত্রিকার আঁতুরঘরে। ‘প্রবাসী’ ও ‘মর্ডান রিভিউ’ পত্রিকার স্বনামধন্য সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কনিষ্ঠ পুত্র অশোক চট্টোপাধ্যায় প্রথম শনিবারের চিঠি প্রকাশের প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবের সম্মতি জানিয়ে সেই সময়কার প্রখ্যাত চিকিৎসক সুন্দরীমোহন দাসের কনিষ্ঠ পুত্র যোগানন্দ দাসের সম্পাদনায় ডাবল ক্রাউন ২৪ পৃষ্ঠার কাগজ প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রচ্ছদ করেছিলেন কল্লোল পত্রিকার সম্পাদক দীনেশরঞ্জন দাস।

এই সাপ্তাহিক পত্রিকার একাদশ সংখ্যা থেকেই (১৩৩১ সালের ১৮ আশ্বিন সংখ্যা) সজনীকান্ত দাস এই পত্রিকার পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এরপর প্রথমে সহ-সম্পাদক এবং পরবর্তীকালে ১৩৩৪ সালের ভাদ্র মাসে যখন ‘শনিবারের চিঠি’র নবপর্যায়ে যখন তা মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হতে শুরু করে, তার দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে সম্পাদক হিসেবে অবতীর্ণ হন সজনীকান্ত দাস। আমৃত্যু তিনি ‘শনিবারের চিঠি’ সম্পাদনার দায়িত্বে থাকেন। কিছু সময়ের জন্য অবশ্য এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন নীরদ চন্দ্র চৌধুরী ও পরিমল গোস্বামী।

‘শনিবারের চিঠি’তে স্বনামে এবং ছদ্মনামে বহু খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা লিখতেন। ছদ্মনামে লিখতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদার, শান্তা দেবী, অশোক চট্টোপাধ্যায়, সজনীকান্ত দাস প্রমুখ। আবার স্বনামে লিখতেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, কালিদাস নাগ, সুবিমল রায়, পুলিনবিহারী দাস, শিবরাম চক্রবর্তীর মতো খ্যাতনামা সাহিত্যিকরা। ‘শনিবারের চিঠি’র লেখকগোষ্ঠীর তালিকায় ছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বনফুল, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ
স্বনামধন্যরা। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সারা জীবনের সমস্ত গবেষণাপত্র ‘শনিবারের চিঠি ‘তে প্রকাশিত হত ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ -এর পত্রিকার সঙ্গে সমান্তরালভাবে।

একদা সমালোচিত হলেও ‘শনিবারের চিঠি’র প্রতি বিরূপ ছিলেন না রবীন্দ্রনাথ। তার প্রমাণ মেলে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের, ২৩ পৌষ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে লেখা বিশ্বকবির একটি চিঠিতে। সম্পাদক সজনীকান্ত দাসকে ‘শনিবারের চিঠি’তে তাঁর লেখা ছাপানোর অনুমতিও দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

সজনীকান্ত দাসের অকালপ্রয়াণের পরের তাঁর পুত্র রঞ্জনকুমার দাস এবং বন্ধুবর চিরন্তন মুখোপাধ্যায় যুগ্মভাবে ‘শনিবারের চিঠি’র সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছুদিন। এরপর ২০১২ সাল থেকে সজনীকান্ত দাসের দৌহিত্রী সাগর মিত্রের সম্পাদনায় ‘শনিবারের চিঠি’ পুরনো গন্ধ নিয়ে ফিরে এলো নতুন সাজে। আকৃষ্ট করল বাংলা সাহিত্যের লেখক ও পাঠকদের। এরই মধ্যে সহ্য করতে হল অতিমারীর আঘাত। এরপর যুগের দাবি মেনে এই শতবর্ষের বছরে (২০২৪ সালে) পয়লা বৈশাখ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে আবার পুনঃপ্রকাশিত হতে শুরু করেছে ‘শনিবারের চিঠি’, সাগর মিত্রের সম্পাদনায়।

বর্তমানে ‘শনিবারের চিঠি’ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ডিজিটাল অঙ্গসজ্জায়, তার ফিজিক্যাল অবয়বের গরিমা না মুছেই। বিষয় নির্বাচনে বর্ণময় হয়ে উঠেছে চটকের রংচং না মেখেই। ভাষার জাদুতে সন্মোহন নয়, পাঠকের মনন ঋদ্ধ করাই ‘শনিবারের চিঠি’র লক্ষ্য। পরম্পরার ছন্দে প্রযুক্তির পদক্ষেপের এই নতুন যাত্রাপথকে স্বাগত জানিয়েছেন বহু পাঠক। ডিজিটাল ‘শনিবারের চিঠি’র পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এই সময়ের বহ লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্খীরা। তবে শুধু পায়ে পা মেলানোই নয়, চলার পথে চাই ধরবার মতো শক্ত হাতও। তবেই তো ‘চরৈবেতি’র মন্ত্রে এগিয়ে যেতে পারবে শতবর্ষ পূর্ণ করা এই ‘শনিবারের চিঠি’।

Sanibarer Chithi : A Renowned Bengali Literary Magazine — ‘A glimpse of 100 years of its glorious past.’

History:

In 1924, 24 th July, Sanibarer Chithi was first published from ‘Prabashi Press’, 120/2, Upper Circular Road, Calcutta. Jogananda Das was the first publisher of the magazine and the registered address of this magazine was his residence. The planning for Sanibarer Chithi publication was primarily initiated by few youngstars. They were Ashok Chattopadhyay (youngest son of Ramananda Chattopadhyay, the pioneer of Indian Journalism), Jogananda Das (youngest son of Dr. Sundari Mohan Das), Hemanta Chattopadhyay, Sudhir Kumar Chowdhury and Pravakar Das. The cover of this magazine was done by Dinesh Ranjan Das, the then Editor of ‘Kallol’ (one of the famous Bengali literary magazine of golden era). The main aim of this production was to play a role as satirical critique, not only to Bengali literature also to its society and state. A double crown size weekly magazine was published in every Saturday of the week in its initial stage. From 1924, August Sajanikanta Das became the soul responsible person of this publications and remained as the Edior and Proprietor of this famous magazine till his death, 11 th February 1962.

The Glorious Past:

Sanibarer Chithi was not only a literary magazine of undivided Bengal, it also played an important role as a strong critique with satirical characteristics against modern Bengali literature. With full essence of Bengal Renascence, a bit conservative in its approach, and full of humour and wit Sanibarer Chithi ruled in the Bengali literary world with extreme glamour and full prestige till 1962. The author and writer of the golden era of that period, almost all were the contributed to the magazine. Namely, Rabindranath Tagore, Abanindra Nath Tagore, Mohitlal Majumder, Brajendra Nath Bandyopadhyay,Kalidas Nag, Suniti Kumar Chattopadhyay, Tarashankar Bandyopadhyay, Bibhuti Bhushan Bandyopadhyay, Bibhutibhushan Mukhopadhyay, Premankur Atarthi, Nirad C. Chowhudy, Parimal Goswami, Narayan Ganguly, Banaphool, Sajanikanta Das were the few of the great list of contributors. Sajanikanta with his natural witty character introduced cartoon pictures in Sanibarer Chithi. The famous P.C.L. is no ward to say, a product of Sanibarer Chithi.

Role to Rule:

Despite its Satrical character since its inception Sanibarer Chithi played a very important role to promote, support and establish new, young, fresh author in the Bengali literary world with great success.

The Glory of 100 years and Tradition we continue:

In 2011, I, Sagar Mitra (grand daughter of Sajanikanta Das) become the Editor and Proprietor of this said magazine, which was published bi- monthly from 9 th Jan., 2011) regularly with full success till Covid period.

The tradition we inherits and the legacy we continue:

From 14 th April 2024, till today, in a more modern way with the help of technology Sanibarer Chithi starts a new journey in a portal form as a digitalized magazine, reaching every corner of the world with full success and popularity with its traditional glory. It caters different aspects of literature and livelihood of Bengal in every month in a portal form.