প্রজাতন্ত্ররাজ হিন্দুস্থান হামারা

আজ আমাদের ভারতীয় সাধারণতন্ত্রের পঁচাত্তরতম (৭৫) প্রজাতন্ত্র দিবস পালনে উৎসাহের সীমা নেই৷ ১৯৫০ সলের এমনই এক দিনে আমরা সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশে একটি‍ সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েছিলুম৷ কিন্তু বিগত চুয়াত্তর বছরের অনলস সাধনায় আমরা অবশেষে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি৷ ব্রিটিশরাজ তথা দেশীয় রাজা গেলেও রাজমহিমার খোঁয়াড়ি আমরা ত্যাগ করতে পারিনি৷ প্রজার স্বভাব যায় না ম’লে, তাই আমরা প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপ্লুত৷তারই উল্লসিত কুচকাওয়াজে, অ-সাধারণ ভিভিআইপিদের উপস্থিতিতে আজ গগন অন্ধকার৷

স্বাধীনতা-উত্তর দেশ শাসনের সংবিধান গ্রহণের পর দেশে নাম হল রিপাবলিক অফ ইন্ডিয়া, যেমন ফ্রেঞ্চ রিপাবলিক, সোভিয়েত রিপাবলিক ইত্যাদি৷ আমাদের সংবিধানও রচিত হয়েছিল ইংরেজিতে৷ তারপর মহাবিদ্বান মহোদয়রা অতি বিচক্ষণতার সঙ্গে তার অনুবাদ করলেন ‘ভারতীয় প্রজাতন্ত্র’৷ কিমাশ্চর্যম, এইসব ইংরেজিনবিশ, সারাজীবন ইংরেজিতে মুসাবিদা করে, ‘সিটিজেন’ এবং ‘সাবজেক্ট’ শব্দ দুটোর পার্থক্য ধরতে পারলেন না৷

আর পারবেন কোথা থেকে৷ সেই যে ইংরেজিতে ইয়েস স্যার, নো স্যার করতে করতে চাকর-বাকরের মনোভাবটা গেঁড়ে বসল, তা আর ত্যাগ করতে পারলেন না৷ মীরাবাই ভজন গেয়েছিলেন— ‘ম্যায়নে চাকর রাখোজি’, সেটাই হল এঁদের থিমসঙ৷ এই উদ্বুদ্ধ বুজুর্গদের বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি৷ সুতরাং বুদ্ধিশ্রমের অন্যথা হয় কী করে৷ ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে রিপাবলিক-এর সংজ্ঞায় ‘সিটিজেন’ দ্বারা পারিচালিত রাষ্ট্রের কথা আছে বটে, তবে ‘সাবজেক্ট’-এর কোনও কথা নেই৷ কিন্তু দেশের ব্রিটিশ সাবজেক্ট-রা সেকথা হৃদয়ঙ্গম করতে না পারার ফলেই বোধহয় এই বিপত্তি৷ 

সংস্কৃত আপ্তবাক্যে আছে‍—যাদৃশী ভাবনা যস্য সিদ্ধর্ভবতী তাদৃশী৷ আমাদের বুজুর্গরা ‘সাবজেক্ট’ ভাবনায় এমনই ভাবিত হলেন যে, অবজেক্ট বা অবজেক্টিভ-এর কথা বেমালুম বিস্মৃত হলেন৷ তাই সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সিটিজেনস’ রিপাবলিক-এর লোকতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে আমরা সগৌরবে সৃষ্টি করলুম সাবজেক্টস’ রিপাবলিক বা মহান প্রজাতন্ত্র৷ সাধে কি বলে, অতি বুদ্ধির গলায় দড়ি৷

আমাদের গণতান্ত্রিক অভিচার কিন্তু অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং ভোটতন্ত্রে অত্যন্ত প্রকাশ্য৷ গণতন্ত্রকে আমরা মূল্য দিই বলে ভোটতন্ত্রের এত রমরমা৷ এই ভোটতন্ত্রের প্রকাশ্য অভিচারেই আমাদের প্রজারাজ নির্বাচিত হন রাজভোগ সেবা করার জন্য৷ কেননা প্রজাভোগ আসলে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়৷

তবে এই প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পশ্চাতে বোধ হয় আরও একটি গূঢ় কারণ ছিল৷ সেটি হল আরব্য উপন্যাসের আবু হোসেনের মতো রাজা হওয়ার অভিলাষ৷ যাত্রাদলে যদি রাজা উজীর হতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক যাত্রাদলেই বা রাজা উজীর হওয়ার খ্যায়েশ থাকবে না কেন৷ ব্রিটিশরাজ গেছে তো কী হয়েছে, আমরা আছি কী করতে৷ আমরাই এবার রাস্তা থেকে রাজা হয়ে বসব৷ সেই বিষয়ে আমাদের দেশে ঐতিহ্যও আছে, রাখাল কৃষ্ণ গরু চরাতে চরাতে, লোক চরানো শিখে কি মথুরার রাজা হয়ে বসেননি? 

আমরাও তেমনি রাস্তায় রাস্তায় রাজনীতির গরু চরাতে চরাতে হনুমানজি, কালীমাঈ কি‍ কিরপা, জয় বজরংবলি বলে রাজতকতে বসে পড়তে পারি৷ তারপরে আমরাও হরবখত কেষ্টঠাকুরের গীতার মতো গণতন্ত্র ও সমানাধিকারের ব্যাপারে জ্ঞানগর্ভ বাণী আওড়াতে পারি৷ তবে এই বাণী দেওয়ার অধিকার একমাত্র যাঁর কর্ম তেনাকেই সাজে৷ কেননা নবীনরা ফোর্সের মাথায় ফস করে কিছু ন্যায়নীতির কথা বলে ফেলতে পারে৷ ওরে ন্যায়নীতি করতে হলে শ্মশানে মশানে গিয়ে কালীকেত্তন করোগে যাও৷ ওটা রাজনীতির লাইন নয়৷ রাজনীতির লাইন হল সাধু হওয়া নয়, সাধু সাজার লাইন—চুরি, জোচ্চুরি, খুন, ধর্ষণ করে সাধু সাজার লাইন৷

এগুলো সুচারুরূপে সকলে পারে না, এর জন্য হিম্মত লাগে৷ তাই যে হিম্মতওয়ালা বা হিম্মতওয়ালি‍ ওটা করতে পারে ওহি সিকান্দার৷ তাই আমাদের এই অভিনব প্রজাতন্ত্রে কেউ যদি ভাবে, আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে, সে নিঃসন্দেহে একটা বেওকুফ৷ আসল কথাটা বুঝতে হবে, আমরা কেউ কেউ রাজা আমাদের এই প্রজার রাজত্বে৷ আরে নৈবে

দ্যেরই চূড়ায় মণ্ডা আর তার নিচের আলোচনাগুলো কি এক? আমাদের প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রে এই চালরূপ গণের কাজ হল, প্রজাতান্ত্রিক গণরাজাকে সমুন্নত রাখা৷ 

সেই জন্যেই আমাদের প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের এত গুরুত্ব৷ শক্তিক্ষেত্র এই বাংলায় তন্ত্রের অভি‍চার নিয়ে কারোর কোনও সংশয় থাকার কথা নয়৷ এই তান্ত্রিক অভিচার হিন্দুরা সৃষ্টি করেছিলেন, না বৌদ্ধরা, সেই সূক্ষ্ণ বিচারে গিয়ে লাভ নেই৷ তবে উভয়তই তান্ত্রিক অভিচার এক গুহ্যতত্ত্ব৷ আমাদের গণতান্ত্রিক অভিচার কিন্তু অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং ভোটতন্ত্রে অত্যন্ত প্রকাশ্য৷ গণতন্ত্রকে আমরা মূল্য দিই বলে ভোটতন্ত্রের এত রমরমা৷ এই ভোটতন্ত্রের প্রকাশ্য অভিচারেই আমাদের প্রজারাজ নির্বাচিত হন রাজভোগ সেবা করার জন্য৷ কেননা প্রজাভোগ আসলে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়৷ 

তবে হ্যাঁ, আরও একটি পুলিশ লাইনের সিলভার রুল মেনে চলা প্রয়োজন৷ সেটি হল, ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান৷ খাবে খাও, কিন্তু দেবতা মনিষ্যি সবাইকে দিয়ে খেলে আর দোষ নেই৷ পার্টিকে দিতে হবে, পার্টি দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, মহাগুণ্ডা, মহাগুণ্ডিদের সেলামি দিতে পারলে তবেই তোমার গৃহে লক্ষ্মী অচলা হবে৷

জনগণের এই ভোটের মহড়া ছাড়া কিন্তু গণতন্ত্র সফল হতে পারে না৷ তাই এই ভোটভিত্তিক গণতন্ত্রই আমাদের জাতীয় প্রজাতন্ত্রের বিশেষত্ব৷ ভোটের লাগিয়া ‘চরণ ধরিতে দিও গো আমারে নিও না নিও না সরায়ে’৷ তবে এই ভোট যে সবসময় ভোটারদের নিজহাতে দিতে হবে, সংবিধানে এমন কোনও কথা নেই৷ গণধর্ষক জনসেবকরা সবসময়ই তৈরি, ভোটারদের ভার লাঘবের জন্য৷ কেননা ভোট কারোর বাপের নয়, ভোট হল পার্টির দাপের৷ সেই পার্টি মহাজনরা জানেন, কোন মহল্লায় কোন জনপ্ৰিয় গণবিরোধীর জন্য জনতা হন্যে হয়ে উঠেছেন৷ সুতরাং ক্লেশের কোনও প্রয়োজন নেই৷ প্রক্সি ওয়র হতে পারে, প্রক্সি প্রধানমন্ত্রী হতে পারে; আর প্রক্সি ভোট হতে পারে না৷ এ কেমন কথা৷ 

তাছাড়া সুমহান গণতন্ত্রের দায়বদ্ধ সরকারি কর্মচারীরা বিলক্ষণ জানেন, কার হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ছাপ্পা মারলে আখেরে লাভ৷ তারপরেই বাজারে ফুল অপ্রতুল হয়ে যাবে৷ কেননা বিজয়োৎসবে শ্রাদ্ধবাসরের মতোই মুখ ঢাকা মালা চাই৷ তারপরেই পাড়া কাঁপিয়ে‍ রব উঠবে, জিতল কে, পার্টি‍-বাল্মীকি আবার কে? বাল্মীকি কেন? ইনি দস্যু রত্নাকরের গুণ্ডামি দিয়ে পাড়ায় ত্রাস হিসেবে শুরু করেছিলেন, এখন রাজনীতির নব অবতারে মহাকবি বাল্মীকি৷ তবে একটু পার্থক্য আছে, পেটে বোমা মারলে বড় জোর এক ঝুড়ি কোটেশান বেরোতে পারে, শ্লোক রচনা নৈব নৈব চ৷ 

তা বাপু, জনসেবার জন্যে এত মেহনত করে মরা কেন৷ সেকথা বললে হয়! আমাদের সামাজিক দায়িত্ব আছে না৷ তাছাড়া ভোটের রাজনীতি এখন সবচেয়ে ‘অর্থপূর্ণ’ পেশা৷ একদিনের ভোটে মারামারি কাটাকাটি করে যদি ভোটবাক্স ভরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা যায়, তাহলে পাঁচ বছরের মওকা৷ ‘এসকাই জি দ্য লিমিট’৷ চিচিং ফাঁক ব্যাঙ্ক থেকে সরকারি ও বেসরকারি টাকা আসবে ছপ্পড় ফাড়কে৷ কিন্তু একটি গোল্ডেন রুল পালনে ফেল করলে চলবে না৷ তুমি সর্বত্যাগী শঙ্কর, তোমার কাছে টাকা মাটি, মাটি টাকা৷ লেনদেন হবে গৃহের লক্ষ্মীদের মাধ্যমে৷ তাহলেই এই নির্বাচনে যদি তোমার ডিক্লেয়ার্ড অ্যাসেট হয় এক কোটি, তাহলে পরের নির্বাচনে সেটা একশো কোটি হওয়া আটকায় কে৷ ইয়াদ রাখ না, এ শুধু ঘোষিত সম্পত্তির হিসাব৷ 

বামপন্থী সাধুরাই প্রমাণ করলেন, আসলে ওসব পুঁথি‍গত বিদ্যা অর্থহীন; প্রয়োজন শ্রেণিঘৃণার শিক্ষা, শ্রেণিসংঘর্ষের শিক্ষাই উত্তম (মধ্যম) শিক্ষা৷ আমার পার্টির শ্রেণিতে যে নেই, সেই শ্রেণিসংঘর্ষের শিকার৷ এই মার্কসবাদী শ্রেণিসংঘর্ষের শিক্ষায় শ্রেণিহীন সমাজে সবাই সমান৷ কিন্তু এই প্রজাসাম্যের মধ্যেও রাজার অভাব হয় না৷ সর্বহারার মহান নেতা সর্বহারা রাজা, সরকারি পয়সায় রাজসূয় যজ্ঞ ছাড়া যাঁর দিনাতিপাত হত না৷ সেটাই প্রমাণ করে মার্কসবাদী প্রজাতন্ত্রও রাজা ছাড়া চলতে পারে না৷

তবে হ্যাঁ, আরও একটি পুলিশ লাইনের সিলভার রুল মেনে চলা প্রয়োজন৷ সেটি হল, ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান৷ খাবে খাও, কিন্তু দেবতা মনিষ্যি সবাইকে দিয়ে খেলে আর দোষ নেই৷ পার্টিকে দিতে হবে, পার্টি দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, মহাগুণ্ডা, মহাগুণ্ডিদের সেলামি দিতে পারলে তবেই তোমার গৃহে লক্ষ্মী অচলা হবে৷ লোকে আগে বলত, বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী৷ এখন সেটা বদলে হয়েছে‍— রাজনীতিতে বসতে লক্ষ্মী৷ সেই জন্যেই ইসকুল পাঠশালে পড়াশোনার পাঠ উঠে গেছে৷ সেখানে গুরুবাণী টাঙানো আছে, লিখিবে পড়িবে মরিবে দুখে, পার্টির বুলবুল হও থাকিবে সুখে৷

বামপন্থী মহাবুজরুকরা একদিন বললেন, শিক্ষা আনে চ্যাতনা, চ্যাতনা আনে বিপ্লব৷ তাঁদেরই তিন দশকের কর্মকাণ্ডে তাঁরা প্রমাণ করলেন— পার্টিশি‍ক্ষা আনে শ্রেণিচ্যাতনা এবং শ্রেণিচ্যাতনা আনে মসনদ দখলের বিপ্লব৷ সেই ক্ষমতার বিপ্লববহ্নিতে সব পরিশুদ্ধ হয়, পড়ে থাকে শুধু অবিকল্পের সাধুতা৷ এই বামপন্থী সাধুরাই প্রমাণ করলেন, আসলে ওসব পুঁথি‍গত বিদ্যা অর্থহীন; প্রয়োজন শ্রেণিঘৃণার শিক্ষা, শ্রেণিসংঘর্ষের শিক্ষাই উত্তম (মধ্যম) শিক্ষা৷ আমার পার্টির শ্রেণিতে যে নেই, সেই শ্রেণিসংঘর্ষের শিকার৷ এই মার্কসবাদী শ্রেণিসংঘর্ষের শিক্ষায় শ্রেণিহীন সমাজে সবাই সমান৷ কিন্তু এই প্রজাসাম্যের মধ্যেও রাজার অভাব হয় না৷ সর্বহারার মহান নেতা সর্বহারা রাজা, সরকারি পয়সায় রাজসূয় যজ্ঞ ছাড়া যাঁর দিনাতিপাত হত না৷ সেটাই প্রমাণ করে মার্কসবাদী প্রজাতন্ত্রও রাজা ছাড়া চলতে পারে না৷ সেটাই ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে বামপন্থীদের অভিনব অবদান৷

দক্ষিণপন্থীরা অবশ্য এদিক দিয়ে অনেক এগিয়ে৷ ডাইন্যাসটিক ডেমোক্র্যাসি সৃষ্টি করে তাঁরা ইতিহাসপ্রসিদ্ধ (মিসচিফ) মেকার অফ ইন্ডিয়া চাচার পরে ভাতিজি, তারপরে নাতি নাতবৌ এবং এখন আপোগণ্ড পুতির পালা৷ এই কুলতিলক দেশের জন্য ত্যাগব্রতে দীক্ষা নিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতীক্ষায়৷ মানর্কি যুগের অবসানের পর এখন ডেমোক্র্যাটিক মানর্কির যুগ৷ তাদের রাজবংশের পর নতুন করে স্থান করে নেবে এই ডেমোক্র্যাটিক দাসের রাজবংশ৷ দিল্লির মহানায়কদের দিয়ে এর আবির্ভাব৷

কিন্তু এই আদর্শ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে দেরি হয়নি৷ বংশানুক্রমে এইসব রাজবংশী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে যাঁরা পৈতৃক নির্বাচনকেন্দ্র থেকে গণতন্ত্রের ধ্বজা ধরে গণভোটে জনতার মহিমাকে উচ্চে তুলে নাচাচ্ছেন. দলিতরাও এ ব্যাপারে মনুবাদী বংশানুক্রমিক বর্ণধর্মী হয়ে উঠেছেন৷ হায় মনু, তুমি বলেছিলে, বামুনের ছেলে গরু হলেও বামুন, এখন সেটা বদলে বলতে হবে, এমপি‍-র ছেলে গরু হলেও এমপি, এমন কী ভাইপো হলেও চলবে৷ এই বংশানুক্রমিক অ-সাধারণদের নিয়েই আমাদের সাধারণতন্ত্র৷ 

কিন্তু একথা ভুললে চলবে না, প্রজাদের নিয়েই আমাদের গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র৷ তাই আমাদের প্রজাতন্ত্রে সবশেষে আমরা অনায়াসেই গাইতে পারি, সারে জাহাঁ সে আচ্ছা, প্রজাতন্ত্ররাজ হিন্দুস্থান হামারা, হামারা৷