Samar Mitra story Kushum

আমি কুসুম বলছি

হঠাৎ শান্তর ঘুম ভেঙে গেল। শীতের সবে শুরু।  রাত বড় হতে শুরু করেছে।  বিকেল কখন এল,  কখন গেল বোঝাই যায় না।  সে বেশ বুঝতে পারল, বাইরের বাতাসে একটা কুয়াশার সর পড়তে শুরু করেছে।  আকাশে চাঁদ আছে কি? থাকলে দৃশ্যমান কি? কোনও ধারণা করতে পারল না শান্ত।

হালকা একটা কাঁথা তার গায়ে।  এতেই এখন চলে যাচ্ছে। পরে হলে লেপ বার করতে হত।  কোথায় আছে কুসুমিতা বলে দিয়েছে। তাই কোনও অসুবিধে হত না। কুসুমিতা গেছে তার দিদির বাড়ি, বাঁকুড়া।  তার জামাইবাবুর হার্টের সমস্যা বোধ হয়। খুব শরীর খারাপ। এই ফাঁকে সে এখন দেশের বাড়িতে। দুর্গাপুরের বাড়িতে এখন রয়েছে কাজের দিদি, কণিকাদি। সত্যি খুব কাজের। ভরসা করার মতো। দেশের বাড়ি থেকেই নিয়ে গেছে ওকে। কুসুমিতা বলেছিল, যাও না দিদি, ভাইকে তো অনেকদিন দেখোনি। যাও না ক’দিন ঘুরে এসো। তা কণিকাদি বলল, বাড়ি খালি করে যাব না। দিনকাল ভালো নয়। তোমরা যাও না। আমি কয়েকদিন পর বাবার বাৎসরিকের সময় তো যাবই।

দোতলা বাড়ির ওপরতলার ঘরগলো শান্তদের জন্য নির্দিষ্ট।  একতলায় থাকে শান্তর দাদা, বৌদি ও তাদের দুই ছেলে মেয়ে। ওদের বাবাই এ সব ব্যবস্থা করে গেছেন। রাত্রে খাওয়ার সময় শান্তকে বৌদি বলেছিল, তোমার সঙ্গে রাতে না হয় রন্তু শুতে যাক। শান্ত বলেছিল, আমি রাতে একটু পড়াশোনা করব। ওর ঘুমোতে অসুবিধে হবে। আমার কোনও অসুবিধে হবে না।  তাছাড়া তোমরা তো নীচে রইলেই। সে ওপরে উঠে এসেছে।

ড্রেসিং টেবিলে ওদের দুজনের ছবি। আর দুই দেওয়ালে বাবা  আর মার ছবি। মুখোমুখি। শান্ত পাশাপাশি রাখতে চেয়েছিল। কুসুমিতা বলেছিল,  না, ওঁরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকুন। দেখে খুব ভালো লাগবে।

এই ঘরে কত স্মৃতি।  বাবার একটা দম দেওয়া গ্রামোফোন ছিল। দম দেওয়া। কিছু পুরোনো রেকর্ড।  সেগুলো দাদা নীচে নিয়ে যায়। ঘরের পুব-দক্ষিণ কোণে একটা টেবিলের ওপর গ্রামাফোনটা রাখা থাকত। পাশেই থাকত পুরোনো রেকর্ডগুলো। সেসব এখন কোথায় আছে কে জানে!  দাদা শান্তর চেয়ে বেশ কিছুটা বড়।  তাই দাদাকে এ ব্যাপারে কোনও কথা বলতে পারেনি। অথচ এখন তার মনে হয়, ওই গ্রামাফোন আর পুরোনো গানগুলো যদি থাকত, তাহলে মাঝে মাঝে শোনা যেত।

একটা গানের কথা খুব মনে পড়ে যায়।  কে এল সায়গলের গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত।   তোমার বীণায় গান ছিল আর আমার ডালায় ফুল ছিল গো, ফুল ছিলতার একটা লাইন, ‘গান তবু তো গেল ভেসে’এই লাইনটির জন্যেই ছেলেবেলায় গানটি শান্ত‘র খুব প্রিয় ছিল। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন বা সায়গল গাইতেন গান তবু তো – আর বালক শান্ত শুনত কান্ত ভুতো। কারণ কান্ত আর ভুতো তার চেনা। তারা তাদের জমিতে কাজ করে। বিকেলে মজুরি আর চাল নিতে তাদের বাড়িতে আসে। গান গেয়ে গ্রামোফোন তাদের নাম বলছে, এটা বালক শান্ত’র কাছে ছিল দারুণ আনন্দের। সে দাদা দিদিদের কাছে বারবার এই গানটিই শুনতে চাইত। আর ওরা বিরক্ত হয়ে যেত।

ভাইঝিটা খুব কাজের। কাকু কাকিমার খুব বশংবদ। নাম লালিমা। মাত্র ক্লাস  নাইন। বিছানা করা, মশারি টাঙানো সব সে নিপুণভাবে সেরে রেখেছে। মনে হয় ওর কাকিমা কুসুমিতা বোধ হয় আগেই ফোনে সব নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল। ওর পছন্দমত পায়ের দিকে জানালাটাও একটু খুলে রেখেছে। শান্ত একেবারে  সব বন্ধ করে শোয়া পছন্দ  করে না। তেমন করে শুলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে। মাথার গোড়ার টেবিলে এক বোতল জল আর একটি গ্লাসও রেখে দিয়েছে। শান্ত সকালে উঠেই বাসি মুখে এক গ্লাস জল খায়। মাঝে আর ও ওঠে না।  ড্রেসিং টেবিলে ওদের দুজনের ছবি। আর দুই দেওয়ালে বাবা  আর মার ছবি। মুখোমুখি। শান্ত পাশাপাশি রাখতে চেয়েছিল। কুসুমিতা বলেছিল,  না, ওঁরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকুন। দেখে খুব ভালো লাগবে। শান্ত শুনেছে, আগে উত্তরের দেওয়ালে বাবার ঠাকুরদাদার একটা অয়েলপেন্টিং টাঙানো ছিল। উনি বসে, পাশে গড়গড়া।  তাঁর হাতে গড়গড়ার নল।  বহুদিন ছিল। শান্তও ছোটবেলায় ছবিটা দেখেছে বলে মনে পড়ছে।  তবে স্মৃতিটা আবছা। সেটা কবে যেন সরে গেছে। সরে গেছের চেয়ে বলা ভালো, সরানো হয়েছে। শান্ত মাঝে মাঝে ভাবে, এইভাবেই পুরনোকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। হতে পারে ছবিটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তা না হলেও হয়ত সরে যেত। শান্ত  ভাবল,  তারা হয়ত এইভাবে এদিন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। এই পৃথিবী তাদের একদম ভুলে যাবে। 

এই সব ভাবনা সরিয়ে রেখে সে শোওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছিল। নীচে যখন খাচ্ছিল তখনই কুসুমিতা ফোন করেছিল। বলেছিল, তুমি কাল অনেক রাত অবধি বই পড়েছ। আবার সকালে উঠে দেখি, আগেই তুমি উঠে বসে আছ। আজ তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বে। আমি আর ফোন করব না। হ্যাঁ, জামাইবাবু স্টেবল আছেন।  ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বললেন, চিন্তার কিছু নেই। যা হোক, তুমি সময় করে জামাইবাবুকে একবার ফোন ক’র। অনেকবার করে বলছিলেন, শান্তকে সঙ্গে করে নিয়ে এলি না কেন। একবার দিদিভাইকে দাও, একটু কথা বলে নিই। শান্ত বৌদির দিকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, মিতা তোমাকে চাইছে। ওকে দাদা বৌদি মিতা বলেই ডাকে। ওর বাপের বাড়িতেও ওর ডাকনাম মিতু। শুধু শান্ত’র কাছে কুসুমিতা- কুসুম। সেই ফুলশয্যার রাত থেকেই। অবশ্য সকলের সামনে সাধারণত সে মিতা বলেই ডাকে।

মাঝখানে ঘুম ভাঙার কোনও কারণ ছিল না। ও শোওয়ার সময় মনে করেছিল, একঘুমে সকাল হবে। আর ঘুম ভাঙবে কুসুমিতার ফোন পেয়ে। কিন্তু কটা বেজেছে এখন? যটাই বাজুক, ও আর ঘড়ি দেখবে না। চোখ বন্ধ।  কিন্তু কান খোলা। সেই কানে আসছে কী যেন একটা সুর। কী সুর? ও একটু উদগ্র হল। মনে হচ্ছে কীর্তনের সু্র।

সত্যি,  নিজেকে একটু  ক্লান্তই মনে হচ্ছিল শান্ত’র।  সে বেশি দেরি না করে শুয়ে পড়েছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল, একবার কুসুমিতাকে বলে দেয়, কুসুম, শুয়ে পড়েছি। তারপর ভেবেছিল, ও নিশ্চয় ওর স্বভাবমতো এক জায়গায় ফোন রেখে আর এক জায়গায় ওর দিদির সঙ্গে গল্পে মেতেছে। ফোনটা শুধু শুধু বেজে যাবে।  তার চেয়ে থাক। সকালে উঠে ও নিজেই ফোন করবে শান্তকে।

মাঝখানে ঘুম ভাঙার কোনও কারণ ছিল না। ও শোওয়ার সময় মনে করেছিল, একঘুমে সকাল হবে। আর ঘুম ভাঙবে কুসুমিতার ফোন পেয়ে। কিন্তু কটা বেজেছে এখন? যটাই বাজুক, ও আর ঘড়ি দেখবে না। চোখ বন্ধ।  কিন্তু কান খোলা। সেই কানে আসছে কী যেন একটা সুর। কী সুর? ও একটু উদগ্র হল। মনে হচ্ছে কীর্তনের সু্র। এখন মনে হচ্ছে কোথাও অষ্টপ্রহর কীর্তনের আসর বসেছে। মাইকের মুখটা ওদের বাড়ির দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। রাতের নিঝুমতায় সুরটা কানে এসে যাচ্ছে। সখী বলে টানা অনেকক্ষণ সুর তুলে চুপ করে গেল এক গায়ক। তারপর অন্যরা একসঙ্গে নিচু স্বরে কী যেন গেয়ে চলেছে। হয়ত রাধার সখীদের গান।  গানটা এখন থেমে গেছে। গাইয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে হয়ত।  হ্যাঁ, ঠিক তাই। এই অবসরে শুধু খোল বাজছে। খোলের আওয়াজটা একটু যেন স্পষ্ট হল। মানে বাজনদারকে মাইকের সামনে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেটে কেটে কেটে কেটে করে সে বোল তুলে চলেছে।

ছেলেবেলা থেকে শান্ত’র ওই এক অভ্যেস, কোনও আওয়াজ শুনলে সেটাকে কথায় বেঁধে ফেলা। তার মনে আছে, তখন হয়ত ক্লাস ফোর বা ফাইভ। তাদের বাড়িতে যে বাটনা বাটত, জল তুলে দিত, ফাই-ফরমাস খাটত, তাকে ওরা বলত গয়লাখুড়ি।  সেই গয়লাখুড়ি বাটনা বাড়ছে, শিলে নোড়া পেষার একটা শব্দ বের হচ্ছে। শান্ত সেই শব্দটা শুনে মাকে বলল, শোন মা, গয়লাখুড়িকে শিলনোড়াটা কী বলছে। বলছে, পঞ্চুখুড়ো, পঞ্চুখুড়ো! পঞ্চুখুড়ো গয়লাখুড়ির বর। শান্ত’র বেশ মনে পড়ে, শুনে  গয়লাখুড়ি শান্ত’র দিকে তাকিয়ে একটু হেসে একগলা ঘোমটা টেনে দিয়েছিল। তারপর ওর দিকে মুখ উঁচু করে বলেছিল, তুমি এখান থেকে যাও তো ছোটবাবা। মা হাসতে হাসতে বলেছিলেন, এই দুষ্টু ছেলে, যা এখান থেকে। শান্তর সেই অভ্যেস এখনও যায়নি।

খোলে একটা বোল উঠল। সেই অনুযায়ী শান্ত কথা সাজাতে লাগল। প্রথমে সে সাজাল,  বেনারসী পাড়,  এটা কাহার। দু’বার উচ্চারণ করল সে। কিন্তু তা তার পছন্দ হল না। তখন সেটাকে বারানসীর গঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে সে ভেবেচিন্তে নতুন করে কথা সাজাল, ময়নামতীর ঢাল, পৌঁছে যাব কাল। বাহ, বেশ হয়েছে। ময়নামতীর ঢাল, পৌঁছে যাব কাল। খুবই ভাল লাগল তার। নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে  দিল। তারপর ময়নামতীর কথা ভাবতে ভাবতে,  কিসে যাবে, পালকিতে সাইকেলে না গরুর গাড়িতে সেই ভাবতে ভাবতে সে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।

শান্ত একটা গরুর গাড়িতে চেপে চলেছে। কোথায় চলেছে সে? সে একা বসে আছে ছইয়ের ভেতর। মা নেই, বৌদি নেই, কুসুমিতা নেই।  সে একা। –ও গাড়োয়ানদাদা, কোথায়  চলেছি গো? — কেন, ময়নামতীর ঢালে!  আরে, এটা কি ঠাকুরদার আমলের অর্জুনদা মালিকের গলা! শান্ত শুনেছিল, অর্জুন মালিকের ছিল বাবড়ি চুল, পেটাই চেহারা, গম্ভীর গলা। ঠাকুরদার বাগানের মালি আর আবার গরুর গাড়িও ছোটায়। শান্তর ডাক্তার ঠাকুরদাকে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের কাছেও পৌঁছে দেয়। — কালকের মধ্যে পৌঁছব অর্জুনদাদা?– আলবৎ, এই দেখ হেলে গোরু দুটো পক্ষীরাজ ঘোড়া হয়ে গেল  আর  তখন শান্ত পুষ্পকরথে আসীন। সারথি অর্জুনদাদাকে আর চেনা যাচ্ছে না। সারথি অর্জুনদাদা বলে চলল, ওই তো সামনে ময়নামতীর ঢাল তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে। ঢাল পার হলেই মস্ত দিঘি। ওই দিঘির নামই তো ময়নামতী।

এদিকে শান্ত তেঁতুলতলায় দাঁড়িয়েই রইল। সে শুধু ভাবল, কিশোরীর নাকে নাকছাবি আছে কি? মনে করতে পারল না। কারণ সে লক্ষ করেনি। শান্ত এখনও কিশোরীকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।  ওই তো সে আস্তে আস্তে বাঁদিকের দোপাটি গাছগুলোর দিকে এগিয়ে গেল। হাতের ঢিল ফেলে দিয়ে সে একটা লালফুলকে আদর করতে লাগল।

শান্ত দেখল, সে ময়নামতীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে। টল টল করছে ময়নামতীর জল। শালুক ফুল ফুটে আছে এদিকে ওদিকে।  মাঝখানে একটা পানকৌড়ি ডুবছে আর উঠছে। তার বড় দিঘি দেখলেই জলে খোলামকুচি ছুড়তে ইচ্ছে করে। যখন সেটা জল কেটে কেটে এগিয়ে যায়, তখন মুখে শব্দ করতে ইচ্ছে হয়, ছি- লি- লি-লি। কিন্তু এতে ওই পানকৌড়িটা ভয় পেয়ে যাবে। সে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটা বিশাল তেঁতুলগাছ।তার মাথার ওপর ওই তেঁতুলগাছের ছায়া। দিঘির চারপাশে আদিবাসীদের ঘর। পাড়া নিশ্চুপ। সবাই কাজে বেরিয়ে গেছে। ডানদিকে খড়ে ছাওয়া একটা ঘর থেকে বেরিয়ে এল এক কিশোরী। পরনে শাড়ি। মাথায় দুটি বিনুনি। সে তার মাথার চুলগুলোয় হাত বুলিয়ে নিল। আঁচলটা কোমরে গুঁজে নিল। কিশোরী নিশ্চয় ইস্কুলে পড়ে, সিনেমা দেখে। তার নজর পড়ল ওই পানকৌড়ির দিকে। সে একটু এগিয়ে গিয়ে চিৎকার করে বলল, পানকৌড়ি, পানকৌড়ি ডাঙায় ওঠসে/ তোমার শাশুড়ি বলে গেছে বেগুন কোটসে। ও বেগুনটা কুটো না বীজ রেখেছে–

সে ভেবেছিল, ওর কথা শুনে পানকৌড়ি তার ডুব দেওয়া বন্ধ করে দেবে। তারপর তার শাশুড়ি কাছে উড়ে যাবে। কিন্তু পানকৌড়ি বাংলা বোঝে না। সে কিশোরীর ছড়ার মানে বুঝল না। কিশোরী হতাশ হল। হাতে একটা ঢিল নিয়ে ছুড়তে গিয়েও ছুড়ল না। কোমরে হাত দিয়ে একটা নাচের ভঙ্গি করে উল্টো দিকে ঘরের পানে মুখ করল। হাতে তার ঢিল।    

এদিকে শান্ত তেঁতুলতলায় দাঁড়িয়েই রইল। সে শুধু ভাবল, কিশোরীর নাকে নাকছাবি আছে কি? মনে করতে পারল না। কারণ সে লক্ষ করেনি। শান্ত এখনও কিশোরীকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।  ওই তো সে আস্তে আস্তে বাঁদিকের দোপাটি গাছগুলোর দিকে এগিয়ে গেল। হাতের ঢিল ফেলে দিয়ে সে একটা লালফুলকে আদর করতে লাগল। শান্ত আর ওর মুখ দেখতে পাচ্ছিল না। নাকছাবি আছে কিনা জানতে পারেনি। ওর নামটাও জানতে পারল না সে। ও যে ফুল ভালবাসে তা বুঝতে পারল  শান্ত। তাই সে ওর নাম দিল কুসুমকুসুমকে আর বেশিক্ষণ দেখতে পায়নি সে।

বালিশের পাশে মোবাইল বেজে উঠল। ঘুম ভাঙল শান্ত’র। মোবাইলটা কানে টেনে নিল। ওপার থেকে গলা– আমি কুসুম বলছি। অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছ এবার উঠে পড়। শান্ত চুপ। কুসুমিতা বলল,  কথা বলছ না কেন? আমি কুসুম বলছি। বুঝতে পারছ?  শান্ত বলল,  তোমার নাকছাবি– তাকে থামিয়ে দিয়ে কুসুমিতা বলল, নাকছাবি? নাকেই আছে! কী বলছ বলতো!

 অঙ্কনঃ দেবাশীষ দেব