Bhanu Bandyopadhyay

আমার বাবা ও সত্যেন বোস

প্রোফেসর সত্যেন বোস আর অভিনেতা ভানু ব্যানার্জি, এই নাম দুটো একসঙ্গে উচ্চারিত হলে কীরকম অদ্ভূত লাগে তাই না? জ্ঞান, বিদ্যা, বুদ্ধি, বয়েস কোনদিকেই তো কোন মিল নেই। কিন্তু এঁরা আসলে বাস্তব জীবনে দু’জনে দু’জনার অত্যন্ত কাছের মানুষ।

প্রোফেসর বোসকে ‘সত্যেন দা’ বলার মতো লোক বোধহয় একমাত্র বাবাই ছিলেন।

আমার বাবা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতেন তখন সেখানে পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন প্রফেসর বোস।পাকেচক্রে বাবা হয়ে ওঠেন প্রোফেসর বোসের প্রিয়পাত্র। প্রোফেসর বোসকে ‘সত্যেন দা’ বলার মতো লোক বোধহয় একমাত্র বাবাই ছিলেন। একবার প্রোফেসর বোসের জন্মদিন পালন করা শুরু করেন বাবা। আর আমৃত্যু সেটা তিনি নিষ্ঠা সহকারে পালন করে গিয়েছেন। প্রত্যেক বছর পয়লা জানুয়ারি আমার মাকে সঙ্গে করে উপস্থিত হতেন ওঁর বাড়িতে। আমার মা ছিলেন নামকরা সঙ্গীতশিল্পী। প্রোফেসর বোস আমার মা, নীলিমা দেবীর গান শুনতে খুব ভালবাসতেন। বোসসাহেব একসময় ঠাট্টা করে বলেছিলেন—“আমি ভাবছি তোকে বিয়ে করে নীলিমা ভাগ্যবতী, না তুই ওকে বিয়ে করে ভাগ্যবান।”

প্রোফেসর বোসের রসবোধ ছিল অত্যন্ত প্রখর। একবার এক সংস্থা থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে তাঁর কাছে কয়েকজন আসে। প্রোফেসর বোস বলেন, “আমি কেন? তোমরা উপযুক্ত লোক খুজে পেলে না?” অনুষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা বললেন, “আপনার থেকে উপযুক্ত আর কে আছেন?” প্রোফেসর বোস বলেন “কেন ভানু?” 

ভদ্রলোকেরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকেন।

তখন বাবা বলেন “তোমাদের যে রসগোল্লা খেতে দেওয়া হয়েছে, তাতে তোমরা এখানে পেলে শুধু গোল্লা, ভানুর কাছে গেলে পাবে রসটা, বুঝেছো?”