হ্যাঁ, বলছিলাম আমার বাবা অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা — ওঁর চিত্রজগতে আসার পেছনে দুটি ঘটনা আছে।
উনি খুব শিশু বয়েস থেকে নাটক ও সিনেমা দেখতে ভালবাসতেন। শিশির ভাদুড়ির গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন। তার ওপর একদিন শুনলেন ওঁর বাবা মানে আমার ঠাকুরদা শিশির ভাদুড়িকে পড়াতেন, এটা শুনে তো উনি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
বাবা খুব অল্প বয়েসেই বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের চ্যালা ছিলেন এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে বহু খবর সংগ্রহ করে দীনেশদার কাছে পৌছে দিতেন এবং তার পুরস্কার স্বরূপ বাবাকে দীনেশদা সিনেমা দেখাতে নিয়ে যেতেন।
দীনেশ গুপ্তের আদেশ মতো বাবা বুড়িগঙ্গার ধারে বসে ইংরেজদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন।, ওই গঙ্গার ধারে ঢাকার গাড়োয়ানরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, যাদের রসবোধ ছিল অত্যন্ত প্রখর। বাবা ওদের থেকে সংগ্রহ করা কৌতুক নক্সা মঞ্চে পরিবেশন করতেন
একবার বাবার যখন বেশ অল্প বয়েস, পাড়ায় একটি নাটকের মহড়া চলছিল, উনি স্টেজের কাছে গিয়ে স্টেজের ওপর হাত রেখে মহড়া দেখছিলেন। হঠাত একজন শিল্পী এসে ওঁর হাতটা পা দিয়ে লাথি মেরে সরিয়ে দেন। সেই থেকে বাবার জেদ চেপেছিল যে স্টেজে অভিনেতা হিসেবে দাড়াতেই হবে।
দীনেশ গুপ্তের আদেশ মতো বাবা বুড়িগঙ্গার ধারে বসে ইংরেজদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন।, ওই গঙ্গার ধারে ঢাকার গাড়োয়ানরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, যাদের রসবোধ ছিল অত্যন্ত প্রখর। বাবা ওদের থেকে সংগ্রহ করা কৌতুক নক্সা মঞ্চে পরিবেশন করতেন এবং সেইভাবেই বলা যায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায হলেন আমাদের বাংলাদেশের স্ট্যান্ড আপ কমেডির পুরোধা।
বাবার একটা কৌতুক নক্সা শোনাই–
স্বামী-স্ত্রী ঘোড়ায় উঠে বসেছে, বেশ কিছুটা সময় কেটে গেছে, গাড়ী আর নড়ে না। তখন ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করছেন,“কি মিঞা, তোমার ঘোড়া দেখি নড়চড় করে না?”
গাড়োয়ান বলল “কী করব কন কত্তা? আপনের গিন্নি যা মেকাপ দিসে ঘোড়ায় তো সামনের দিকে মুখ ফিরাইতে পারতাসে না, চলব ক্যামনে?”