সে ছিল এক সাধারণ মেয়ে, কিন্তু তার চিৎকার আমেরিকার ঝলমলে পার্টিগুলোর চমক ভেঙে দিয়েছিল।
গ্যাব্রিয়েলা রিকো হার্নান্দেজ—একটি নাম, যা এক রাতে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
শোনা যায়, সে এক বিলাসবহুল পার্টি থেকে বেরিয়ে এসে তারস্বরে চিৎকার করে বলেছিল—“এখানে ছোট শিশুদের মাংস খাওয়া হচ্ছে…!”
তার চিৎকার শুধু একটি অভিযোগ ছিল না, তা ছিল এক অন্ধকারের উন্মোচন, যা শুনতে সাহস পায়নি এই পৃথিবী তখনও।
এপস্টিন ফাইলের সূত্রে পরবর্তীতে গ্যাব্রিয়েলার নাম উঠে আসে
যে নথিগুলো আজ বিশ্ব চেনে এপস্টিন ফাইলস নামে।
সেসব নথি, যেখানে রয়েছে ক্ষমতাবানদের নাম—
যেখানে বিলিয়নেয়ার, রাজনীতিবিদ আর সেলিব্রিটিদের ছায়া মানবতাকে ঢেকে ফেলে।
গ্যাব্রিয়েলার চিৎকার তুলে দেয় এক ভয়াবহ প্রশ্ন—এটা কি শুধু একটি মেয়ের আর্তনাদ, নাকি এমন এক সমাজব্যবস্থার যা অপাপবিদ্ধতাকে নিলামে তোলে?
আজও দিকে দিকে এই সব প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—গ্যাব্রিয়েলা কি সত্য বলেছিল?
যদি বলে থাকে, তবে তার কণ্ঠ রুদ্ধ করা হলো কেন?
এই বিষয়ে কেন নীরব পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী লবি আর সংস্থাগুলো?
তার চিৎকার এখনও বাতাসে ভাসে, এবং প্রতিটি মানুষকে প্রশ্ন করে—
মানবতা কি তবে শুধু বইয়ের পাতাতেই বেঁচে আছে?
গ্যাব্রিয়েলা রিকো হার্নান্দেজের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
কখনও কখনও একটি মাত্র কণ্ঠ
পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
এই গল্প কেবল এক মেয়ের নয়,
এ গল্প সেই মানবতার যা প্রতিদিন শক্তি আর লোভের সামনে পিষে ফেলা হয়।

