bengal cricket

বাংলার ক্রিকেটঘরে লজ্জা!

অভিধান থেকে ‘লজ্জা’ শব্দটা এখন বাংলার খেলাঘরে জায়গা করে নিয়েছে। লজ্জা এখন বাংলার অলঙ্কার‍। এর জন্য কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। অক্ষেপ নেই। কষ্ট নেই। প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছে নেই। ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও ভাবনা নেই। কিন্তু আছে বাবুয়ানা। তারই পূর্ণাঙ্গ ছবিটা এবারে দেখতে পাওয়া গেল রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে সেমিফাইনাল ম্যাচে। প্রতিপক্ষ জম্মু-কাশ্মীর দল ইতিহাস গড়তে পারে আর বাংলার ক্রিকেটাররা হতাশ করতে জানে। বাংলার ক্রিকেট এখন ব্যর্থতার আকাশটা তৈরি করতে জানে। তা না হলে ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে বাংলা হার মেনে নিতো না জম্মু-কাশ্মীরের কাছে। চেনা উইকেট। চেনা পরিবেশ। তবুও বাংলা শিবিরে কোনও লড়াকু মনোভাব ছিল না।

জম্মু-কাশ্মীরের মতো দল বাংলাকে হারিয়ে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটের ফাইনালে খেলার ইতিহাস রচনা করতে পারে। সেই জায়গায় বাংলার ক্রিকেটারদের কোনও হেলদোল ছিল না। ছিল না কোনও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বাজিমাত করার কোনও ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায়নি। বাংলার ছেলেদের মধ্যে নেই কোনও লড়াকু মনোভাব। নেই ক্ষিদে। কিন্তু প্রতিপক্ষ শিবিরে সব সময় প্রত্যয় খেলা করেছে। তাদের সংগ্রামী মনোভাব সবসময় উঁকি দিয়েছে। বাংলার সামনে এখন কুসংস্কার ও নানা অজুহাত খাড়া করা যেতে পারে। অনেক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করবে বাংলার ক্রিকেট কর্মকর্তাদের কাছে। বাংলার ক্রিকেটে যে শূন্যতা খেলা করছে এটাই এখন বড় প্রাপ্তি।

ranji trophy

এখন তার ঘরের ছেলেদের নিয়ে সাফল্যের পথ খোঁজা হয় না। ভিনরাজ্যের খেলোয়াড় নিয়ে আসা হয়। তাই তাঁদের কাছে কোনও কষ্ট অনুভব হয় না হারের গহ্বরে প্রবেশ করলেও। ভারতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের বাংলা দলে ঠাঁই পেলেও, তাঁদের দক্ষতা ক্রিটে মাঠে সেইভাবে বিচ্ছুরিত হয় না। তা না হলে অভিমন্যু ঈশ্বরণ থেকে শুরু করে মুকেশ কুমার, আকাশদীপ, শাহবাজ আহমেদ, শাকিব হাবিব গান্ধী ও মহম্মদ শামিরা বাংলা দলকে সমৃদ্ধ করতে ভাবেন না।
প্রায় আনকোরা জম্মু-কাশ্মীরের বোলার থেকে ব্যাটসম্যানরা দাপটের সঙ্গে খেলে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে মুখ থুবড়ে পড়ল। বাংলার ক্রিকেটাররা উইকেটে দাঁড়িয়েছেন আর তড়িঘড়ি করে ড্রেসিংরুমে চলে গিয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। বাংলা একশো রান টপকাতে পারল না।
বাংলার প্রথম ইনিংসে সুদীপকুমার ঘরামি শতরান করে স্কোরবোর্ডকে ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দেন। তারপরে মহম্মদ শামির দুরন্ত বোলিং জম্মু-কাশ্মীরকে চিন্তায় ফেলে দেয়। শামি একক কৃতিত্বে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি উইকেট নিলেও আখেরে কোনও কাজে আসেনি। বরঞ্চ প্রতিপক্ষ দলের অকিব নবি ও সুশীল কুমারের হাতের ম্যাজিকে বাংলা ছন্নছাড়া হয়ে যায়। এককথায় বলা যায়, বাংলা জয়ের লাড্ডুটা তুলে দেয় জম্মু-কাশ্মীরের হাতে।
আসলে বাংলার আত্মতুষ্টি আর অতি অবিশ্বাসে ভাঙনটা প্রকট করে দেখা দেয়। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ ডোগরা যেভাবে পুরো দলটাকে উৎসাহিত করেছেন, তার জবাব নেই।

জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটাররা হোমওয়ার্ক করে মাঠে বাংলার সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার অঙ্ক যে ভুল ছিল, তাও প্রমাণিত হয়ে গেছে। তা না হলে জম্মু-কাশ্মীর দল ৬ উইকেটে ম্যাচটা জিতে রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে প্রথমবার ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।
বাংলার খেলাধুলোয় এখন বিলাপ ছাড়া কোনও কথা শুনতে পাওয়া যায় না। একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে খুঁজে পাওয়া গেল জম্মু-কাশ্মীর দলে। আর বাংলার ঘরে শূন্যতা বিরাজ করছে। ফুটবলের মতো বাংলার ক্রিকেটে ব্যর্থতা ছাড়া নতুন সূর্যকে দেখতে পাওয়া যায় না। উপরে চাকচিক্য থাকলে বাংলার ক্রিকেট বাসায় ঘুণ ধরে গেছে। তাই এমন কিছু করতে হবে, যা ঘুণ ধরা বাংলার ক্রিকেটকে আলো দেখাতে পারে।