kolkata

আগুনে পোড়ে শহর কলকাতা

গত তিরিশ বছরে কলকাতা মহানগরী জুড়ে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে গেছে একের পর এক। বসত বাড়ি , হোটেল, বাজার , শপিং মল, অফিস, হাসপাতাল , সিনেমা হল, শহর লাগোয়া বস্তি এমনকী ১৯৯৭ এর বইমেলা – কিছুই রক্ষা পায়নি আগুনের হাত থেকে। আর প্রতিবারই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আমরা হা-হুতাশ করি। দমকল, পুলিশ, পুরসভা এবং আগুনছোঁয়া বাড়ির মালিক, বাসিন্দা এবং এলাকার মানুষের মধ্যে চলে বাগ বিতণ্ডা – দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা । খবরের কাগজের পাতা , টিভি চ্যানেলের পর্দা আর সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ছবির মেলা ; খানিক খেদ, দুঃখ প্রকাশ, রাজনৈতিক আস্ফালন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, কিছু ব্যর্থ অনুসন্ধান – অতঃপর শান্তি ঘোষণা। সময়ের সঙ্গে ক্রমশ বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যায় অগ্নিকান্ডের স্মৃতি, কলকাতা থেকে যায় কলকাতাতেই !!

আসলে কলকাতা শহরে অগ্নিকান্ডের সমস্যার সৃষ্টি তার আদিযুগে, জনপদ থেকে গ্রাম হয়ে নগরীর গোড়াপত্তনের কালে । নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ে জনসংখ্যা। তৈরি হয় বাসস্থান। ব্যবসায়িক বা প্রশাসনিক কাজের জন্য তৈরি হয় দোকান, বাজার বা ভবন। ক্রমশ শহরের শূন্য স্থান হারিয়ে যেতে থাকে। শহর গঠনের সঙ্গে অগ্নিকান্ডের সম্ভাবনা এবং ঝুঁকি বাড়ে ।

১৬৯০ সাল এর ২৪ শে অগস্ট, কলকাতা মহানগরের জন্মদিন বলে বহুল স্বীকৃত হলেও, তার সলতে পাকানোর কাজটি শুরু হয়েছিল সেই ১৬১০ সালে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম সফল প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন হকিন্সের সুরাটে অবতরণের সময় থেকে । সেদিন দিল্লির মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে ব্যবসার ফরমান না পেলেও, তার বছর দু’য়েক পরেই তাঁর জাত ভাই ক্যাপ্টেন বেস্ট এসে সেই সুরাটেই পর্তুগীজদের পরাস্ত করে জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে আদায় করে নিলেন ব্যবসা করবার, কুঠি বানানোর ফরমান । ক্রমশ সুরাট থেকে কোম্পানি মাদ্রাজ , কাশিমবাজার আর হুগলীতে বিস্তৃতি লাভ করল। বাংলার দুই বন্দর তাম্রলিপ্ত ও সপ্তগ্রাম ঘিরে তখন ব্যবসার ঢল নেমেছে। ইংরেজদের চোখ জুড়ে তখন আফিম, রেশম, মসলিন, সল্টপিটার। আর হুগলী তখন ‘বাংলার চাবিকাঠি’ ! টমাস রো ভারতে এসে এবার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসার হাল ধরলেন। জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে পাওয়া গেল বিহার ও বাংলায় কুঠি বানিয়ে ব্যবসা চালানোর অনুমতি। হুগলী কুঠির সর্বেসর্বা জোব চার্ণক বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁয়ের হাতে পর্যুদস্ত হয়ে বালেশ্বরের কুঠিতে পালিয়ে যাওয়ার পথে আবিষ্কার করেন গ্রাম সুতানুটিকে। এখানেই বসত পাতার ইচ্ছে থাকলেও শায়েস্তা খাঁয়ের সৈন্যদের তাড়া খেয়ে তিনি লোক-লস্কর নিয়ে পালিয়ে যান আরও দক্ষিণে হিজলীতে। এরপর উলুবেড়ে, চাঁটগা ঘুরে অবশেষে বেশ কিছু সময় পরে ঔরঙ্গজেবের হুকুমে বাংলার নতুন নবাব ইব্রাহিম খাঁর কাছ থেকে সুতানুটিতে এসে ব্যবসা শুরু করবার অনুমতি পান।

১৫৩৭ থেকেই তন্তুবণিক জাতির সুতানুটিতে ব্যবসার কারণে আসা । হুগলী নদীর কোল ঘেঁষে দক্ষিণে গোবিন্দপুর আর উত্তর পশ্চিমে সুতানুটির মাঝে কলকাতার অবস্থান। এরপর বাংলার নবাব আজিম ওসমানের কাছ থেকে আদায় হল আরেক অনুমতিপত্র, যার বলে ১৬৯৮ সালে সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের কাছ থেকে ১৩০০ টাকায় ইংরেজ কোম্পানি কিনে নিল ডিহি কলকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর গ্রাম তিনটির সত্ত্ব।

এভাবেই হল কলকাতা নগরীর গোড়া পত্তন ।
নগর সভ্যতার বদল যেভাবে মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে তেমনিভাবে সে বদলে দিয়েছে বিপত্তির উৎস।

সেকালের অগ্নিজনিত দুর্ঘটনার কারণ আজকের সময়ের চেয়ে ছিল একবারেই অন্য ধাঁচের। প্রাচীন কলকাতায় অগ্নিকান্ডের সেই সব কারণ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মনে হতে পারে অতিসরলীকরণ। কিন্তু এর মধ্যে আসলে ছিল সামাজিক অনবধানতা বা অজ্ঞতা।

kolkata-burns-in-fire

সুতানুটি অঞ্চলে তখন খড় ও টালি ছাওয়া কুঁড়েঘর ও খোলার ঘর ছিল প্রচুর সংখ্যায়। ঘরগুলি ছিল একটার গায়ে আরেকটি লাগানো, যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে এক মাইলটাক দীর্ঘ হত। খড়ে ছাওয়া বাংলোও ছিল এর পাশে পাশে। এই ধরনের কাঁচা বাড়ি ছিল আগুন লাগবার বা লাগাবার পক্ষে সবচেয়ে সুবিধেজনক। চোরেদের চুরি করার উপায় ছিল এই ধরনের একটি বা দুটি ঘরে আগুন লাগিয়ে তার উপর লক্ষ রাখা। একটি ঘরে আগুন লাগার অর্থ এক মাইল জুড়ে পর পর ঘরগুলি পুড়বে আর বাঁচবার তাগিদে ঘরের জিনিস বাইরে ফেলা শুরু হলে তা নিয়ে সরে পরাই ছিল এই চোরেদের কাজ । খোদ জোব চার্ণকের বাড়িতেই তাঁর মৃত্যুর একবছর বাদে, ১৬৯৪ সালের ১৮ই ডিসেম্বর, আগুন লাগে । এও কোন তস্করের কুকীর্তি না নিতান্তই অঘটন, সে কারণ অবশ্য জানা যায় না।

Fire Hazards in Old Calcutta

অগ্নিকান্ডের আরেক বড় কারণ আতসবাজি। উৎসব, পার্বণ উপলক্ষে মাটির প্রদীপ দিয়ে বাড়ি সাজানো হত আর তা জ্বালানো হত রেড়ির তেলে বা ঘিয়ে। পয়সাওয়ালা বাবুদের মধ্যে প্রথমদিকে আলোর সমারোহ ঘিরে প্রতিযোগিতা চললেও ক্রমে তার সঙ্গে যোগ হ’ল আতসবাজির দ্যুতি। বিশেষ করে পতিতা পল্লী ঘিরে চলত আতসবাজির খেলা। বাবুরা সেখানে গিয়ে শখে বাজি পোড়াতেন ; অন্য বাবুদের সঙ্গে রেষারেষি চলত তুবড়ি জ্বালিয়ে। কলকাতা নগরে আতসবাজি সেরকম তৈরি না হলেও আতসবাজেরা অধিকাংশ আসত কলকাতার বাইরে, বিশেষত লখনউ থেকে।

উইলিয়াম হিকির বর্ণনায় পাওয়া যায় এডওয়ার্ড ফেনওইকের নাম। তিনি ছিলেন কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ সিভিলিয়ান। গার্ডেনরিচে তাঁর বাগান বাড়িতে প্রত্যেক বছর মে মাসে বসত বিশাল মেলা। সেখানেও এই লখনউ থেকে আসা বাজিগরদের তৈরি চোখ ধাঁধানো বাজির কথা পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হল ‘হাউই’ বাজি নিয়ে। খড়ের চালা ঘরে সব চেয়ে বড় বিপদের সম্ভবনা ‘হাউই’বাজি। সেই বিপদ থেকে বাঁচবার তাগিদে ১৭৫৭ সালে কলকাতার দখল কোম্পানির কাছে এলে হাউই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। মইনদ্দির মতো এক বাজিওয়ালা যখন সবরকম বাজি তৈরির অনুমতি চায়, তাকে ১৪ মে তারিখে কোম্পানির নির্দেশনামায় ‘হাউই’ ব্যতীত অনান্য সব বাজি বানানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

১৭৬২ সালে ১২ ডিসেম্বর কোম্পানির প্রসেডিংস সূত্রে জানা যায় ‘কলকাতা শহরের মধ্যে আতসবাজি ছোঁড়ায় অনেক জায়গায় চালাঘরে আগুন লেগে পল্লীকে পল্লী ভস্মসাৎ হয়ে গিয়েছে । … সেই কারণে আদেশ করা যাচ্ছে যে, কলকাতার মধ্যে এখন থেকে আর আতসবাজি ছুঁড়তে দেওয়া হবে না এবং বাজীর দোকানগুলি তুলে দেওয়া হবে।’

এরপরেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে থাকে । ১৭৮০ নাগাদ পর পর অনেকগুলি অগ্নিকান্ড ঘটে যায় কলকাতার বুকে। এপ্রিল মাসে বউবাজার অঞ্চলে প্রায় ৭০০ কুঁড়েঘর পুড়ে যায়। সে মাসেই ধর্মতলা , কুলেবাজার (রাজাবাজার ) এলাকায় প্রায় কুড়ি জন মানুষ ও প্রচুর গবাদি পশু মারা যায় আগুনে পুড়ে । মেছুয়াবাজার, হরিংবাড়ি ( লালবাজার এলাকা ) অঞ্চলে একের পর এক অগ্নিকান্ড হতে থাকে ।
আগেই বলেছি আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটত। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্করটি বোধহয় ১৭৮০ সালের মার্চ মাসে সংগঠিত হয়েছিল যার জন্য দায়ী একটি বাঙালি । প্রায় ১৫০০০ খড়ে ছাওয়া কুঁড়ে ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মারা যায় প্রায় ১৯০ জন অগ্নিদগ্ধ বা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে । পরে অপরাধী ধরা পড়লে তাকে হরিংবাড়ি জেলে পাঠানো হয় এবং গরুর গাড়ির পিছনে বেঁধে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় চাবুক মারা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে ।

উনিশ শতকের শুরুতেও শ্যামবাজার, জোড়াসাঁকোর উত্তর রাস্তার পুব দিকে কাশীনাথবাবুর বাজারের আশেপাশেও অগ্নিকান্ডের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়াও গঙ্গার ঘাট বরাবর ব্রাইটম্যান সাহেবের তুলার কল এবং চান্দপাল ঘাটে সোরা, চিনি, রেশম বোঝাই জাহাজে আগুন লেগে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় ১৮১৯/২০ সাল নাগাদ । যে টেরিটি বাজার সম্প্রতি আগুনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেখানেও এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে ২৪ শে মার্চ ১৮২১ এ ।

কী ঘটেছিল সেদিন ? ‘বৈকালে পাঁচ ঘণ্টার সময় চুনা গলিতে অগ্নি প্রজ্বলিত হইয়া কলুটোলাতে তেরেটির বাজার ও বহু বাজার দগ্ধ হইয়া আট ঘণ্টা রাত্রির সময়ে অগ্নি নির্ব্বান হইল। ‘

কলকাতার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আর শহরে অট্টালিকার সংখ্যা কম হওয়ায়, নদীর দিক থেকে বাতাস সহজেই বয়ে যেত শহরের ভিতর দিকে । বাতাসের কাঁধে চেপে আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ছিল । ১৮২৩ সালের ৮ই এপ্রিল ‘সমাচার দর্পণ’-এর পাতায় মেহেন্দিবাগানে এক আগুনের বর্ণনা খানিক এইরকম :‘২৩ শে চৈত্র ৩ এপ্রিল, সোমবার সায়ংকালে মোকাম কলিকাতার মেহেন্দিবাগানে প্রথম অগ্নি লাগিল পরে মহাপ্রচণ্ড বায়ু তাহার সহকারিতা অনেক করিল এবং তাহার সায়ংকালে চতুর্দিকে বিস্তর কাঁচা ঘর ছিল সেই ঘরে আশ্রয় পাইয়া ক্রমে ক্রমে অগ্নি বর্ধিষ্ণু হইতে লাগিল।’

A Market Saved from Fire

আগুনের হাত থেকে রেহাই পায়নি শুঁড়িখানা ও গুদাম। ১৮২১ সালের ১৪ই এপ্রিল ‘সমাচার দর্পণ’ প্রকাশ করে, ৭ এপ্রিল তারিখ শনিবারে নবাব বাজারে মৌলালী দরগার দক্ষিণে এক দরজীর বাটিতে অগ্নি লাগিয়া জ্বলিতে জ্বলিতে অর্দ্ধ ঘন্টার মধ্যে বেনেপুখরিয়ার বাজার পর্যন্ত্য গেল ইহার মধ্যে তিন চারি শত ঘর দগ্ধ হইল । … সে অগ্নির নিকটে এক শুঁড়ির দোকান ও তাহার পশ্চাতে এক তাড়ীর দোকান ছিল। তাড়ীর দোকানের দুই ঘর ভাড়া এক ঘরে অগ্নি লাগিয়াছিল। সেই সময়ে একজন সাহেব অনেক লোক লইয়া তাড়ীর দোকান ও তার নিকটবর্তী দুই ঘর ভাঙ্গিয়া দিল তাহাতে শুঁড়ির দোকান রক্ষা পাইল। ‘

শহর কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সেরকমভাবে গড়ে ওঠেনি প্রথম দিকে। দুর্গত বাসিন্দা এবং তার পাড়া -পড়শিরা মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে চেষ্টা করেছে আগুন নেভানোর, যা হয়ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রক্ষা করতে পারেনি ঘর দুয়ার। চোখের সামনে জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে সব কিছু । গোরা জাহাজি এবং নাবিকরা সেই সময় ত্রাণের কাজে হাত লাগাত বলে জানা যায় । ১৭৮০ নাগাদ শ্যামবাজার এলাকায় এদের খুব যাতায়াত ছিল । বিপদের মুখে, পোশাক আশাক খুলে সারা গায়ে কাদা মেখে তারা প্রবেশ করত আগুনের ভিতরে এবং বাড়ির চাল ভেঙে বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরে নিয়ে এসে অনেক ঘর সম্পত্তি এরা রক্ষা করেছে আগুনের হাত থেকে।

কলকাতার বুকে দমকল গোরাদের গায়ে জল দিয়ে আগুন নেভাচ্ছে এই খবর দেখা গেছে ১৮২১ সালে খবরের কাগজের পাতায় । এর আগ , ১৭৮৪ সালে, এক চীনে ব্যক্তির খোঁজ মেলে। সে নাকি এক চীনে ‘দমকল’ নিয়ে এসেছিল যা দিয়ে নিমেষে পুকুরের জল ছেঁচে ফেলা যেত। তবে এই যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায় না। শহরের মধ্যে এক এক জায়গায়, যেখানে অগ্নিকান্ড বেশী হত, উঁচু টাওয়ারের মাথায় লোক বসে থাকত – ধোঁয়া দেখলেই শিঙা ফুঁকে লোকজনকে সাবধান করত আর হাত দমকল ঘুরিয়ে জল তুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা হত । ভিস্তিওয়ালা এই কাজে ছিল পারদর্শী।

১৮৭১ সালে কলকাতার অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়। শহরকে ভাঙা হয় পাঁচটি অঞ্চলে ১. লালবাজার ২. টালা ৩. পামারস ব্রিজ ৪. ভবানীপুর ৫. ওয়াটগঞ্জ । ওই বছরেই কলকাতা পুরসভার ওয়ার্কশপে তৈরি করানো হয় পাঁচটি দমকল। যার মধ্যে তিনটি ঘোড়ায় টানা, দুটি মানব চালিত। ১৮৩৭ সালের ১২ নম্বর আইন এরপর বিধিবদ্ধ করা হয়। বলা হয় দাহ্য পদার্থে তৈরি বাড়ির ছাদ অদাহ্য বস্তু দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। অবশেষে ১৮৮২ সালে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় বসল FIRE লেখা লোহার লাল রঙের বাক্স, যার কাঁচের জানালা ভেঙে একটা হাতল ঘোরালে টেলিফোন লাইন বেয়ে খবর পৌঁছাত দমকল দপ্তরে।

এভাবেই শহর কলকাতাকে আগুনের হাত থেকে বাঁচাবার রাস্তা খোঁজা হয়েছিল, যা দিনে দিনে পেয়েছে আর এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। তাও কি আমরা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারি এই শহর আর তার নাগরিকদের ? ‘অগ্নিদেব হলে প্রবল, নির্বাণ করে দমকল’– লিখেছিলেন রূপচাঁদ পক্ষী। কিন্তু সামাজিক অনবধানতা বা অজ্ঞতা ? ‘সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিতেছে !’