tea story

বিজ্ঞাপনে চা

চা বিষয়ক বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ‘ওহা চায়’ শীর্ষক বিজ্ঞাপনটির কথা মনে পড়া খুব স্বাভাবিক। এই বিজ্ঞাপনটি আশির দশকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং দূরদর্শনের পর্দায় প্রায়ই দেখা যেত। আর যিনি এই বিজ্ঞাপনটি করতেন তাঁর কথা কোনোদিনও ভোলা যাবে না। তিনি প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ওস্তাদ জাকির হুসেন।

বিজ্ঞাপন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের মধ্যে অন্নদা মুন্সীর কিছু কাজ নান্দনিক দিক থেকে উৎকৃষ্ট। ওই বিশেষ কাজগুলি কোথাও প্রকাশিত হয়েছিল কিনা জানিনা তবে মূল কাজগুলি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ হয়েছে। প্রত্যেক কাজগুলির শিরোনাম ভিন্ন। ‘টি উইথ মিউসিক’, ‘টি উইথ আর্ট’, ‘টি উইথ নিউজ পেপার’ ইত্যাদি।

tea-ad

চা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের একটি বিশেষ সেটের মধ্যে ভারতের ৬টি তীর্থস্থানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যার ভেতরে রয়েছে এলাহাবাদের কুম্ভমেলা, দ্বারকার মন্দির, শ্রীক্ষেত্র অর্থাৎ পুরীর জগন্নাথ মন্দির, পাঞ্জাবের স্বর্ণ মন্দির ইত্যাদি।

tea-ad

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ছোঁয়া লক্ষ করা যায় চায়ের বিজ্ঞাপনে। রাগমালার চিত্রাবলি আর ‘মালকোষ’, ‘ললিত’, ‘কেদারা’-র মত রাগের সঙ্গে চায়ের বিজ্ঞাপন। শুনেছি যে এই বিশেষ তিনটি বিজ্ঞাপনের অলংকরণ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।
কিন্তু এই তথ্যের স্বপক্ষে কোনও প্রামান্য নথি পাইনি।

tea adv

চিনের কোয়ঙ কোম্পানির বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে আগেই বলেছি সেই বিজ্ঞাপনে চিনা রেস্তোরাঁর ছবির সঙ্গে সেখানকার সমাজে চায়ের গুরুত্ব ঠিক কতটা সেটা বোঝা যায় একটি লেখায়, ‘চীনের অধিবাসীদের কাছে চা-টা যেমন তেমন করে খেয়ে শুধু একটু তৃপ্তি লাভ করার বস্তু নয়, চা-পান তাঁদের কাছে একটি বিশিষ্ট অনুষ্ঠান এবং এই অনুষ্ঠানের নিয়ম-কানুন তাঁরা সবাই যথেষ্ট শ্রদ্ধা এবং যত্নের সঙ্গে পালন করেন।’

সাম্প্রতিককালে একটি ইংরেজি শব্দ প্রায়ই শোনা যায়, সেটা হল ‘হাই টি’, সম্প্রতি নজরে পড়ল একটি আমন্ত্রণপত্র, যে পত্রের মাধ্যমে স্যার বীরেন এবং লেডি মুখার্জী মানে রানু মুখার্জী একটি চায়ের আসরে নিমন্ত্রণ জানাচ্ছেন অতিথিদের তাঁদের হারিংটন স্ট্রিটের বাসভবনে। আমন্ত্রণপত্রের তারিখ ১৭ জুলাই ১৯৭২।

mudis tea

লোপচু চা কোম্পানি তাদের একটি বিজ্ঞাপনে তাদের চায়ে হিমালয়ের প্রাকৃতিক ঘ্রান আশ্বাদন করার অনুরোধ জানাচ্ছে চা-প্রেমীদের। ষাটের দশকে ইংরেজি পত্রিকা রিডার্স ডাইজেস্ট পত্রিকার পাতায় ‘মুডিস ক্রাউন দার্জিলিং চায়ের বিজ্ঞাপন প্রায়ই দেখা যেত। সঙ্গে দেখা যেত লিপটন কোম্পানির ‘রিচব্রু’ ব্রান্ডের চায়ের বিজ্ঞাপনও। বাংলার ১৩৫৫ সালের ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় ইন্ডিয়ান টি মার্কেট এক্সপ্যানশন বোর্ড কতৃক প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে চা তৈরির পাঁচটি নিয়মের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে!

tea and bank

১৩৬৫ সালের ‘শারদীয়া বসুমতী’ পত্রিকায় ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া লিমিটেড ভারত এবং পাকিস্তানে চায়ের স্বকীয় উৎকর্ষের কথা বলেছে। তাদের ব্যাঙ্ক যে এই দুই দেশের চা বাগানে চা গাছের চারা লাগানো থেকে বিদেশী বাজারে বিক্রি পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা ও অভিজ্ঞ পরামর্শের সঙ্গে যুক্ত, সে কথাও বলা হয়েছে। আবার ১৩৬৩ সালের ‘শারদীয়া বসুমতী’ পত্রিকায় খার্সারং টি হাউস বাংলার মফঃস্বলে পাইকারি ও খুচরো চা বিক্রয়ের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। বসুমতী পত্রিকায় কলকাতার উপকণ্ঠে হাওড়া জেলার কালীবাজারের ‘সোনেলার চা’ দোকানের বিজ্ঞাপনও চোখে পড়ে। লিপটন কোম্পানির রেড লেবেল এবং ইয়েলো লেবেলের চায়ের বিজ্ঞাপনে রয়েছে নন্দনিকতার ছোঁয়া। এই বিজ্ঞাপনগুলিও রিডার্স ডাইজেস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

lipton tea

কত বিচিত্র রকমের চা আর তার কত রঙবেরঙের বিজ্ঞাপন প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন পত্রিকার পাতায়! এর পরে আলোচনা করা যাবে বিলেতের টি কার্ড সম্পর্কে।