এর আগের কয়েকটি পর্বে চা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি কয়েকটি চা উৎপাদনকারী সংস্থার সম্পর্কেও কিছু তথ্য এবং ইতিহাস পরিবেশন করেছিলাম। আলোচনা করেছিলাম মূলত ইউল টি নিয়ে। বর্তমান রচনায় চা বিষয়ক বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনার আগে কয়েকটি চা উৎপাদনকারী সংস্থা সম্পর্কে জেনে নেব।

প্রথমেই ইতিহাসের পাতা উল্টে জেনে নেব ঔপনিবেশিক সময় প্রতিষ্ঠিত, ‘ওয়ারেন টি কোম্পানি’-র সম্পর্কে।
ভারতের অসম প্রদেশে চা উৎপাদনকারী সংস্থা হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করে ১৮৫০ সালে। প্রাচীন এই সংস্থাটি ব্ল্যাক টি উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং চা বিপণনের মত কাজগুলি করত। চা চাষ, ফসল সংগ্রহ, চা উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং রপ্তানির সঙ্গেও যুক্ত ছিল জেমস ওয়ারেন প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি। ১৮৫০ সালে আসামের ডিব্রুগড়ে ওয়ারেন সাহেব প্রথম চা বাগান স্থাপন করেন। বর্তমান সময়ে অবশ্য কোম্পানির অস্তিত্ব আর নেই কিন্তু অতীতের কিছু বিজ্ঞাপনে রয়ে গেছে ওয়ারেন কোম্পানির স্মৃতি।

রাঙ্গারুন চা কোম্পানি ১৯৪৪ সালের ৩ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গের একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে। রাঙ্গারুন চা বাগান দার্জিলিং-এর একটি প্রাচীন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। পর্যটকদের কাছেও এই অঞ্চলটির আকর্ষণ রয়েছে।

গুডরিক হল ভারতের অন্যতম চা উৎপাদনকারী সংস্থা। ক্যামেলিয়া পিএলসির সহায়ক এই সংস্থাটির আসাম এবং ডুয়ার্স অঞ্চলে ২৯টি চা বাগান রয়েছে। কারখানায় উৎপাদনের মাধ্যমে এরা মূলত চা, টি ব্যাগ, গ্রিন টি এবং ব্ল্যাক টি তৈরি করে। ১৪০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই সংস্থাটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা উৎপাদক। ডুয়ার্স সিসিটি, দার্জিলিং চা এবং মশালা চাও এরা উৎপাদন করে থাকে।

এইসব ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে হাতে এল লিপটন কোম্পানির একটি চায়ের বিজ্ঞাপন, যেখানে ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেট খেলোয়াড় সুনীল গাভাস্কার ও তাঁর স্ত্রী মারসেনিল গাভাস্কার লিপটন চায়ের গুণগান করেছিলেন। এই ইংরেজি বিজ্ঞাপনটি রিডার্স ডায়েজেস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল আশির দশকের কোনও এক সময়।

প্রায় একই সময় লিপটন চায়ের আরেকটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায় প্রবাদপ্রতিম সরোদবাদক ওস্তাদ আমজাদ আলী খান এবং ওঁর স্ত্রী শুভলক্ষ্মীকে।

টি বোর্ড কতৃক প্রকাশিত চায়ের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন নিয়ে আগে আলোচনা করেছি, কিন্তু টি বোর্ডের একাধিক ইংরেজি বিজ্ঞাপনগুলিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

