Kolkata book fair

বুক ফেয়ারের হট্টমেলায় ঝাঁটার চাহিদাও কম নয়!

বই মেলায় শুধু বই নয়, দেদার বিকোচ্ছে ঝাঁটাও।

এ আবার যে সে ঝাঁটা নয়, রীতিমত ফোল্ডিং ঝাঁটা। সাধারণ ভাবে সাকুল্যে হাতখানেক লম্বা। কিন্ত টেনে বড় করলে প্রায় দেড় মানুষ দীর্ঘ। সল্ট লেকের মেলা প্রাঙ্গণের নয় নম্বর গেটের বাইরে পা রাখলেই করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে নির্মিত এই গেটের দু হাত সামনেই রমরমিয়ে চলেছে নাজিবের ঝাঁটার ব্যবসা। বইমেলা চত্বরে রীতিমতো ‘বেস্ট সেলার’ এই ফোল্ডিং ঝাঁটা।

ব্যাপারটা একটু খোলসা করা যাক। শুক্রবার সস্ত্রীক বইমেলায় এসেছিলেন বাগুইয়াটির এস সরকার। শুধুমাত্র চোখের দেখা নয়, পুরো মেলা চষে বেরিয়ে মন ভরে বই কিনেছেন পুস্তকপ্রেমী এই সরকার দম্পতি। তবে সন্ধ্যার সময় বই কেনাকাটি সেরে মেলার প্রাঙ্গণের বাইরে এসেই সরকার গিন্নির চোখ পড়ল ফোল্ডিং ঝাড়ুর উপর। সঙ্গে সঙ্গে তিনি খানিক দর দাম করে কিনে ফেললেন একটি। তাঁর হাতে বই এর ব্যাগ থাকায় কর্তার হাতুলে দিলেন ঝাড়ু। বললেন, “আমার খুব পছন্দের বইও কিনলাম। শাওলি মিত্রের ‘ সীতা কথা ‘। ”

তা, বইয়ের সঙ্গে ঝাঁটাও?

সাফ জবাব, ” কেন বই পড়লে, ঘর পরিষ্কার করতে নেই বুঝি! বইপত্রও তো ঝেড়েঝুড়ে সাফ সুতরো করে রাখতে হয় । আর এই ফুল ঝাড়ুটা বেশ কাজের। ঘরের সব জায়গায় ঝুল , ময়লা পরিষ্কার করা যায় l”

kolkata book fair retail

পেশায় মূকাভিনেতা কমল নস্কর শুধু একনিষ্ঠ পাঠক নন, তিনি লেখকও বটে। চলতি বইমেলায় মূকাভিনয় নিয়ে রচিত একটি তাঁর রচিত একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এবারের বই মেলায় বই কেনার পাশাপাশি তিনি তাঁর নতুন বই নিয়েও খানিক ব্যস্ত। এদিন অবশ্য বই মেলা থেকে বেরিয়েই তাঁরও নজর টানল ফোল্ডিং ঝাড়ুর দিকে। তৎক্ষণাৎ তিনি কিনে ফেললেন একটি। তিনিও জানালেন, এই ধরনের ঝাড়ু বেশ কাজের।

সব মিলিয়ে, বই মেলার প্রাঙ্গণে নাজিবের ঝাড়ু বিকোচ্ছে মন্দ নয়। তাঁর আক্ষেপ, “এই কটা দিন যদি বই মেলার মধ্যেই এই ঝাড়ুগুলো বিক্রি করতে পারতাম, খুব ভালো হত। কিন্তু আমাদের তো বই মেলার মধ্যে দূরের কথা। বই মেলার বাইরে দাঁড়ালেও দু কথা শুনতে হয়। ”

বস্তুত, আগে বই মেলার অন্দরে যেভাবে কারু বা হস্ত শিল্পজাত নানা মনোহর সামগ্রী যে বিক্রিবাটার সুযোগ ছিল, তা আর নেই। কারন, মেলা কর্তৃপক্ষের যুক্তি, একদিকে যেমন স্থান সংকুলানের বিষয়টা আছে, অন্যদিকে বেআইনি ভাবে বিদ্যুৎ টানার অভিযোগও এক্ষেত্রে উঠেছে।

তবে বঙ্গ জীবনে ঝাঁটাকে আর কে ঠেকিয়ে রাখতে পারে! একদিকে যেমন বাঙালির ঘরের অন্দরের বারোমাস্যায়ায় রয়েছেন ” সুখী গৃহ কোণ, শোভে গ্রামোফোন” – এর মধুর আখ্যান, এর সংগে একটি উপছে পড়া বুক কেস যোগ হলে মন্দ কী। আর বইয়ে যাতে ঝুল না পড়ে তার জন্য ঝাড়ুর সংস্থানও নিতান্তই জরুরি। ফলে বাঙালির বুক ফেয়ার এর মেলায় বইয়ের সংগে ঝাড়ুর “কম্বো অফার” নিয়ে নাক কুচকোনোর কোনো কারণ নেই।