শহর কলকাতার সঙ্গীতরসিকরা শীতকালেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান দেখতে ও শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু বসন্তের প্রথমার্ধে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় রোটারি সদনের শ্রীপতি সিংহানিয়া প্রেক্ষাগৃহে এক মনোরম সুরমূর্ছনা উপভোগ করলেন উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকেরা।

তপন সিনহা ফাউন্ডেশন আয়োজিত, ‘লাইভ কনসার্ট সিরিজ’-এর অন্তর্গত এই অনুষ্ঠানের প্রথম শিল্পী ছিলেন ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতের নবাগতা এবং সম্ভবনাময় কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী শুভাঙ্গী মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রথম নিবেদন ছিল হংসধ্বনি রাগ। অত্যন্ত মুন্সীয়ানার সঙ্গে হংসধ্বনি সঙ্গে শুভাঙ্গী পরিবেশন করে মাঝ-খাম্বাঝ। শেষ পরিবেশনা ছিল, ‘চারুকেশি’ রাগাশ্রিত একটি মারাঠি নাট্যসঙ্গীত। শিল্পীর তিনটি পরিবেশনাই প্রশংসার দাবি রাখে।

পরবর্তী পরিবেশনা ছিল কলকাতার মার্গসঙ্গীত জগতের পরিচিত শিল্পী বেদর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেতারবাদনে নিবেদন করলেন, ‘ইমন’ রাগ। আলাপ দিয়ে শুরু করে বিলম্বিত, মধ্যলয় তিনতাল, দ্রুত এবং ঝালার মাধ্যমে তন্ত্রকারী বোলতান এবং গায়কী অঙ্গের কিছু তালের মেলবন্ধন ছিল দেবর্ষির পরিবেশনায়। শিল্পীর সেদিনের পরিবেশনা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। উপস্থিত শ্রোতারা তাঁর বাদনশৈলীতে মুগ্ধ হন।

আরেক গুণীশিল্পী সৌরভ মুখোপাধ্যায় পরিবেশন করলেন, ‘বাগেশ্রী’। প্রথমে বিলম্বিত গাইলেন একতালে পরে ছোট খেয়াল গাইলেন ত্রিতালে। এর পরের পরিবেশনা সংগীতাচার্য পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রিতালে নিবদ্ধ বাংলা রাগপ্রধান, ‘কে তুমি গো এখনও জেগে’ এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ পরিবেশের সৃষ্টি করে। শিল্পীর শেষ পরিবেশনা কৌশিক ধ্বনি রাগে একটা ছোট খেয়ালের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করেন। শিল্পীর সমগ্র পরিবেশনার রেশ থেকে গিয়েছিল অনুষ্ঠান শেষেও।

