gurukul

গুরুকুলের পরম্পরা বয়ে জ্ঞান বিতরনের এক নিঃসঙ্গ আলোকবর্তিকা

পড়াশোনার আনন্দে পড়াশোনা!

সে আবার কী? চলতি দুনিয়ায় এই শব্দচয়ন কেমন যেন কানে ঠেকে। কারণ হাল আমলে কোনোও মানুষ শুধু ভালো লাগে বলেই পড়াশোনা করছেন, এই ধারণাটা জীবনের অভিধান থেকে প্রায় হারিয়ে গিয়েছে বললেও অতুক্তি হয় না। সেই সব নির্বিকল্প জ্ঞানতাপস আজকের দুনিয়ায় মেলা ভার। যাঁদের জীবনের মোক্ষ ছিল পড়াশোনা। কোনও কোনও সময় তাঁদের গ্রন্থকীটও বলা হত। যদিও সেই অভিব্যক্তির মধ্যে লুকিয়ে থাকত সম্ভ্রমের ছোঁয়াচ, শ্রদ্ধার স্পর্শ।

আসলে এখন পড়াশোনার দুনিয়ায় ছড়ি ঘোরাচ্ছে করপোরেট জীবন দর্শন। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, দুই তরফই পড়াশোনা ব্যাপারটাকে বাণিজ্যিক মনোভাব বা “লাভালাভে”- র কষ্টি পাথরে ক্রমাগত যাচাই করে নেওয়ার পক্ষপাতী। যার পরিণতিতে উচ্চ শিক্ষার আঙিনায় পা রেখে শিক্ষার্থীরা হন্যে হয়ে খোঁজে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ দিয়ে ঝটা ঝট চাকরি মিলবে। কোনও পড়ুয়া যদি ঘুণাক্ষরেও তার সহপাঠীদের সামনে একবার বলে বসে যে নির্ভেজাল জ্ঞানার্জনই সে জীবনের ধ্রুবতারা করতে চায়, তবে তার সহপাঠীদের কাছে সে নিতান্তই উপহাসের পাত্র হবে।

কিন্ত এই গড্ডালিকা প্রবাহের মধ্যেও রয়েছেন কোনও কোনও ব্যতিক্রমী মানুষ। যাঁরা নীরবে অবিরত অবগাহন করেন জ্ঞানের দরিয়ায়। প্রচারের আলো থেকে তাঁরা দূরে থাকাই শ্রেয় বলে মনে করেন। তেমনই একজন মানুষ, অবসরপ্রাপ্ত আই এ এস অফিসার দেবাশিস সোম। বালিগঞ্জ প্লেসে তাঁর বাড়ির সিংহভাগ জায়গা জুড়েই শুধু বই আর বই। সংখ্যাটা চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতই। দশ হাজার! সবই কিন্তু বিজ্ঞানের বই , মূলত অঙ্ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক।

তিনি নিজেও বিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র। আই আই টি থেকে ইলেকট্রনিকসে ইঞ্জিনিয়ার। তবে সেখানেই থেমে যাননি। মধ্য বয়সের চৌকাঠ পেরিয়েও ৫৪ বছর বয়সে তিনি অঙ্কে স্নাতকোত্তর হন। এই মুহুর্তে তিনি পেশাগত জীবনের চরম ব্যস্ততার চাপ থেকে মুক্ত। তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, ‘আমি এখন মুক্ত পুরুষ। কাজের জগৎ থেকে অবসর নিয়েছি, কিন্তু চিন্তার জগৎ থেকে অবসর নিইনি। আমি এখন শুধু পড়ি। পড়ার আনন্দে পড়ি।’

তবে শুধু নিরবিচ্ছিন্ন পড়া নয়, এর সঙ্গে রয়েছে অঙ্ক আর পদার্থবিজ্ঞানের নানা জটিল ” প্রবলেম” “সলভ” করা। আর বিজ্ঞানের উৎসাহী ও মেধাবী পড়ুয়া গবেষকদের সাধ্যমত পথ দেখানো।

debashis-som

বিজ্ঞানের সিরিয়াস গবেষকদের কাছে দেবাশিসবাবুর বইয়ের সংগ্রহ রীতিমত ঈর্ষণীয়। বহু দুষ্প্রাপ্য বা দুর্মূল্য বইও আছে এই সংগ্রহের তালিকায়। ত্রিশের দশকের মাঝবরাবর চাউন্ডি এর লেখা “ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাস” যার মধ্যে অন্যতম।

আজকের বাংলায় নূন্যতম আর্থিক সঙ্গতি আছে, এমন পরিবারে ছেলেমেয়েদের ইংরাজি মাধ্যমে পড়ানোর তাগিদে তাদের বাবা মায়েরা সর্বস্ব পণ করেন। সবারই প্রায় একই ঝোঁক– প্রথমত সন্তান যেন থাকে “দুধে ভাতে ” আর দ্বিতীয়ত যেন সে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার সুযোগ পায়! এর জেরে বাঙলা মাধ্যম স্কুল গুলির হাল সঙ্গীন। বহু এই ধরনের স্কুলে সরকারি বিধি মাফিক পর্যাপ্ত সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী না থাকায় স্কুল গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হচ্ছে।

অল্প কিছুদিন আগের ঘটনা। হিন্দু স্কুলের মত প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। তাদের ক্ষোভ স্কুলে বিভিন্ন সাবজেক্টে শিক্ষক অপ্রতুল। ফলে পঠন পাঠন বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত আই এ এস অফিসার ও আই আই টি-এর প্রাক্তনী দেবাশিসবাবু স্কুল জীবনে বাংলা মাধ্যম স্কুলেই পড়েছেন। তাঁর বাবা ছিলেন রাজ্যের সেচ দপ্তরের পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার। সেই বদলির চাকরিতে সপরিবারে ডেরাডাণ্ডা পাততে হত নানা জায়গায়। তাই শৈশবে দেবাশিসবাবুর শিক্ষা জীবন শুরু হরিণঘাটার ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে। তাঁর কথায়, ” মা একদিন বললেন বাড়িতে বসে বসে খুব দুষ্টুমি করছিস। চল তোকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিই। তা মায়ের হাত ধরে ওই প্রাইমারি স্কুলেই গেলাম। স্কুলের বড় দিদি আমার সঙ্গে একটু কথা বললেন। আসলে ওটাই ছিল “এডমিশন টেস্ট” ! এরপর তিনি আমার মা – কে বললেন, ” আপনার ছেলেকে আর ক্লাস ওয়ানে নয়, সরাসরি ক্লাস টু – তেই ভর্তি করে নিচ্ছি। ও পারবে ” দেবাশিসবাবুর সংযোজন, ” কবেকার কথা। মফস্বলের প্রাইমারি স্কুল। কিন্তু সেখানে বড় দিদি ছাড়াও আরও চার জন টিচার ছিলেন। আর এখন তো শুনি অনেক জায়গায় এই ধরনের স্কুলে সাকুল্যে এক জন টিচারই সব কটা ক্লাসের দায়িত্ব সামলান। ”

এরপর কলকাতায় এসে প্রথমে হেয়ার ও পরে হিন্দু স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিক সাউথ পয়েন্ট থেকে। আর স্কুল জীবনের স্মৃতিচারনায় তাঁর কথায় বার বার আসে তৎকালে হিন্দু স্কুলের অংকের তিন প্রবাদপ্রতীম শিক্ষক মৃণালবাবু, বরেন বাবু আর অজিতকুমার ঘটকের প্রসঙ্গ। আরও বলেন ফিজিক্স এর শিক্ষক দুলালবাবুর কথা। সে আমলে কলকাতার প্রথম সারির স্কুলগুলির মধ্যে হিন্দু স্কুল ছিল অন্যতম। ওই প্রতিষ্ঠানে তখন শিক্ষা দানের উৎকর্ষতার নিরিখে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। সেই প্রেক্ষিতেই অঙ্ক ও বিজ্ঞানের ওই শিক্ষকরা ছিলেন আইকন স্বরূপ। দেবাশিসবাবু মনে করেন এই মাস্টারমশাইরাই তাঁর অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহের উন্মেষে “আদি গুরু”।

তিনি বলেন, ” এদের মধ্যে বিশেষ ভাবে বলব মৃণালবাবুর কথা। উনি ক্লাস সেভেন থেকে আমার গৃহ শিক্ষক ছিলেন। ভীষণ ভয়ও পেতাম আবার শ্রদ্ধাও করতাম। আমি অঙ্ক যা শিখেছি, তা ওঁদেরই অবদান। ” তাঁর স্কুল জীবনের এই স্মৃতি শুধু তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হিন্দু স্কুলের হারিয়ে যাওয়া সোনালি দিনগুলির নস্টালজিয়াও। আই এ এস অফিসারের কথায়, ” মৃণালবাবু আমার বাবাকে বলতেন আপনার ছেলে অঙ্কে একশোয় একশ পেতে পারে, আবার সাকুল্যে ৫০- ও পেতে পারে। আসলে আমি তখন খুব ‘সিলি ‘ মিসটেক করতাম! ”

ভালো ছাত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে ভালো মাস্টার মশাইয়ের ভূমিকাও যে পরিপূরক, সেই ট্র্যাডিশনের উপর জোর দিয়েছেন দেবাশিসবাবু। তাঁর প্রশ্ন, ” ছাত্র- শিক্ষকের এই চিরন্তন সমীকরণটা হারিয়ে যাওয়াটাই কি আমাদের শিক্ষার জগতে সংকটের কারণ? ”

এই প্রসঙ্গে তাঁর ছাত্র জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে, স্কুল জীবন থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা, বিভিন্ন স্তরে ভালো শিক্ষকরা কীভাবে তাকে দিশা দিয়েছেন, সেই উদাহরণ পেশ করেন তিনি। যেমন, দশম – একাদশ শ্রেণিতে সাউথ পয়েন্টে পড়ার সময় ফিজিক্স এর শিক্ষক হিসাবে তিনি পেয়েছিলেন অঞ্জনবরণ দাশগুপ্তকে।

দেবাসিসবাবুর মতে, ” ফিজিক্স -ই এরকম শিক্ষক আমি কখনো পাইনি। অঞ্জনবাবুর পড়ানোর মধ্য দিয়েই আমি সাবজেক্টটাকে ভালোবাসতে শিখেছিলাম। মানুষটা ছিলেন অসম্ভব ছাত্র বৎসল। এর পরের পর্যায়ে যখন আই আই টি – তে পড়তে গেলাম, তখন ওখানে পেলাম প্রফেসার জে দাশকে। ওনার কাছে পড়েছিলাম কমিউনিকেশন। সব অর্থেই উনি ছিলেন আমার মেন্টর – ফিলোসফার – গাইড। কী আর বলি, প্রফেসার দাশের ক্লাসে হাতে লিখে যে নোট নিতাম, সেই খাতাগুলো এত বছর পরেও আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আমি আজ যা হয়েছি, যে জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি, তার মূলে রয়েছেন হিন্দু স্কুল, সাউথ পয়েন্ট বা আই আই টি”র যে শিক্ষক, অধ্যাপকদের কথা আমি বললাম, তাঁরাই। এরাই আমায় পথ দেখিয়েছিলেন। ”

পুরনো হিন্দু স্কুল নিয়ে আলোচনার সময় অবশ্য বেশ কিছুটা খেদও প্রকাশ করেছেন এই প্রাক্তন দুঁদে আমলা। যেভাবে বাম জামানায় আশির দশকের শেষাশেষি বা নব্বইয়ের গোড়ায় মধ্য মেধার জয়ধ্বনি তুলে তৎকালীন হিন্দু স্কুলের নামী শিক্ষকদের অনামী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি করার যে এক ” নোংরা ” খেলায় মত্ত হয়েছিল, তা এখনো ব্যথিত করে হিন্দু স্কুলের প্রাক্তন দেবাশিসবাবুকে।

তাঁর সাফ কথা, ” ভালো স্কুলের ভালো ছাত্রদের জন্য তো ভালো মানের শিক্ষক দরকার। সেটাই স্বাভাবিক। ‘এলিতিসম ‘-এর হাস্যকর দোহাই দিয়ে হিন্দু স্কুল থেকে ভালো শিক্ষকদের বদলি করাটা বাম সরকারের চরম অন্যায় হয়েছিল। এর জেরে হিন্দু স্কুল রাজ্যে মেধা চর্চার বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হিসাবে তার গরিমা হারাল। ”

বাবা মায়ের কথাও নত মস্তকে, সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, ” বাবা ছিলেন সাইলেন্ট সাপোর্টার, কোনোও বইয়ের দরকার, বলতে না বলতেই তা পৌছে গেল পড়ার টেবিলে। মা কিন্তু ছিলেন পড়াশোনার ব্যাপারে ভীষণ কড়া। আমি জীবনে একজন মানুষকেই ভয় করতাম। তিনি আমার মা। খুব নজর রাখতেন। আই এ এসের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দিন রাত এক করে পড়ছি। রাত তিনটে বাজে, তখনও পড়া ছেড়ে উঠি নি। মা ঠায় জেগে বসে আছেন। চা চাইছি। চা বানিয়ে আনছেন। ”

debashis-som

দেবাশিসবাবু কিন্ত তাঁর বাড়িতে চেষ্টা করেছেন গুরুকূলের ঐতিহ্য ধরে রাখার। অংক বা পদার্থ বিদ্যায় যাঁরা গবেষণা কাজ করছেন, তাদের জন্য প্রাক্তন আই এ এসের বাড়ির দরজা খোলা।

যেমন, মিতা বিশ্বাস। তিনি তাঁর গবেষনার চলতি পর্যায়ে গ্রন্থাগারটি ব্যবহার করছেন। তিনি এম এস সি করেছেন ফিজিক্স এ, ইলেকট্রনিকসে এম ই ও মেটিরিয়াল সায়েন্সে পি এইচ ডি। বিশ্বের তিন তিনটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়ানোর ডাক পেয়েছেন। কিন্তু কলকাতাতে থেকে তিনি তাঁর গবেষণার পরবর্তী ধাপটি সম্পন্ন করতে চান। এই ব্যাপারে দেবাশিসবাবুর গ্রন্থাগারটি তাঁকে পাথেয় জুগিয়েছে। মিতাদেবী বলেন, ” শুধু একই ছাদের তলায় এতো বই, এটাও শেষ কথা নয়। আমার রিসার্চের খুঁটিনাটি কাজে স্যারের ব্যুৎপত্তি ও জ্ঞান রীতিমত অনুঘটকের কাজ করছে। ”

এক কথায়, বইয়ের সংগ্রাহক হিসাবে দেবাশিসবাবুকে রীতিমত মায়েস্ট্রো বলা চলে। এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর সংগ্রহ থেকে এমন একাধিক বইয়ের নাম করলেন, যা বাঙলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে গণিতের চর্চার এক প্রাণবন্ত ধারাকে সামনে আনে। এমনকি এর মধ্যে অন্তত দুটি বই বহু দশক ধরেই বাংলার পড়ুয়াদের কাছে সমাদৃত। এক ডাকেই শিক্ষিত বাঙালি মাত্রই চিনবে সেই বই। সেগুলি হল কেশব নাগ ও যাদব চক্রবর্তীর বই। তাঁর দাবি, “কেশব নাগ ও যাদব চক্রবর্তীর বইয়ের সব প্রবলেম ভালো করে কষে গেলে ক্যাট পরীক্ষায় অংকের পেপার হেসে খেলে সলভ করা যাবে। ”

শেলফ থেকে নামালেন আরোও একটি বই: ষাটের দশকে এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটির অংকের হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট অধ্যাপক আর এস মিশ্রের লেখা ” অ্যা কোর্স ইন টেনসর্স উইথ অ্যাপ্লিকেশন টু রিমেনিয়ান জিওমেট্রি” । জানালেন, বইটির প্রকাশ কাল ১৯৬৫। প্রকাশক এলাহাবাদের লাজপত রোডের “পথিশালা প্রাইভেট লিমিটেড।” দেবাশিসবাবু বললেন তাঁর এই বই খোঁজার চমৎকার বৃত্তান্ত। তা হল, ” বইটা খুঁজে খুঁজে হন্যে হয়ে যাচ্ছি। অথচ মন উসখুস করছে বইটা হাতে পাওয়ার জন্য। এলাহাবাদেও খোজ নিলাম। পথিশালা প্রাইভেট লিমিটেড তো কবেই উঠে গেছে। শেষ পর্যন্ত ভরসা সেই পুরোনো বইয়ের দোকান। বইটা হাতে পেয়ে মনটা অনাবিল আনন্দে ভরে গেল। ”

debashis-som

সব মিলিয়ে, হালে মেধা চর্চার আঙিনায় দুটি বিষয় ব্যথিত করে সদাহাস্যময় মানুষটিকে। প্রথমত , নোট পড়ে পরীক্ষায় পাস করা বনাম জানার জন্য পড়া, এই দুয়ের ভারসাম্যের সমীকরণে প্রথমটির দিকেই পাল্লা ক্রমেই ভারি হচ্ছে। যে প্রবণতা, দীর্ঘ দৌড়ে, সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষাঙ্গনে মুক্ত চিন্তার সুপবনের প্রবাহ ব্যাহত হলেই বিপদ। এই প্রসঙ্গে দেবাশিসবাবু জার্মানিতে নাৎসি জামানার একটি ঘটনা বলেন।

তা হল, ১৯৩৪ সালের একটি ভোজসভায় গণিতজ্ঞ ডেভিড হিলবার্ট নবনিযুক্ত নাৎসি শিক্ষামন্ত্রী বার্নহার্ড রাস্টের পাশে বসেছিলেন।রাস্ট হিলবার্টকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ইহুদি প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ায় জার্মানির বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় গ্যোটিঙেনের গণিতচর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। আসলে সে সময় নাৎসিদের অত্যাচারে জার্মানির নামী ইহুদি বিজ্ঞানীরা অনেকেই প্রাণভয়ে দেশ ছাড়িতে বাধ্য হয়েছিলেন। হিলবার্ট সাহেবের বিখ্যাত উত্তর- “গ্যোটিঙেনে গণিত? এখন তো তার অস্তিত্বই বিলুপ্ত হয়ে গেছে”।

ফলে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার পক্ষপাতী গণিতের জাদুতে মেতে থাকা আই এ এস দেবাশিস সোম। গণিতের ছন্দেই যে তাঁর তৃপ্তি, তাঁর প্রাণের আনন্দ। জ্ঞানের চর্চার সোপান বেয়ে অজ্ঞানের বিরুদ্ধে একক লড়াইতে তিনি অক্লান্ত। তাঁর পুঁথি পাড়ার অভিধানে সমঝোতার ঠাঁই নেই।

শিক্ষক দিবসকে স্মরণ করে ‘শনিবারের চিঠি’র শ্রদ্ধার্ঘ্য