chronic-urinary-tract-infection-in-women

মহিলাদের ক্রনিক ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন

সারসংক্ষেপঃ

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) মহিলাদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। জীবদ্দশায় প্রায় ৫০–৬০% মহিলা অন্তত একবার UTI-তে আক্রান্ত হন এবং তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে সংক্রমণ বারবার ফিরে আসে। বছরে তিনবার বা তার বেশি অথবা ছয় মাসে দুইবার বা তার বেশি UTI হলে তাকে Recurrent UTI বলা হয়। এই রোগের প্রধান কারণ Escherichia coli ( E. Coli) হলেও অন্যান্য গ্রাম-নেগেটিভ ও গ্রাম-পজিটিভ জীবাণুও দায়ী হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস, মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনগত পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রাগত কারণসমূহ পুনঃসংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

ভূমিকাঃ

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) হলো মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, যা মূত্রনালী, মূত্রাশয়, ইউরেটার অথবা কিডনিকে আক্রান্ত করতে পারে। মহিলাদের শরীরবৃত্তীয় গঠনের কারণে পুরুষদের তুলনায় UTI-এর ঝুঁকি অনেক বেশি। নারীদের ইউরেথ্রা অপেক্ষাকৃত ছোট এবং মলদ্বারের নিকটবর্তী হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে।

পুনরাবৃত্ত বা ক্রনিক UTI শুধু রোগীর জীবনমানকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং স্বাস্থ্যসেবার উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বৃদ্ধির কারণে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রোগতত্ত্বঃ

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ১৫০ মিলিয়নেরও বেশি UTI-এর ঘটনা রিপোর্ট হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে—
*প্রথম সংক্রমণের পর ২৫–৩০% রোগীর মধ্যে পুনরায় সংক্রমণ দেখা যায়।
*মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যে Recurrent UTI-এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
*ডায়াবেটিস আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে জটিল UTI-এর ঝুঁকি সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশি।

রোগের কারণঃ

প্রধান জীবাণুসমূহ

গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া
১.Escherichia coli (70–90%)
২.Klebsiella pneumoniae
৩.Proteus mirabilis
৪.Enterobacter spp.
৫.Pseudomonas aeruginosa

গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া
১.Staphylococcus saprophyticus
২.Enterococcus faecalis

ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহঃ

প্রজননকালীন মহিলাদের ক্ষেত্রেঃ

১.ঘন ঘন যৌন সম্পর্ক
২.নতুন যৌন সঙ্গী
৩.স্পার্মিসাইড ব্যবহার
৪.অপর্যাপ্ত জলপান
৫.প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস।

মেনোপজ-পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রেঃ

১.ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি
২.যোনিপথের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টির পরিবর্তন
৩.পেলভিক প্রোল্যাপ্স
৪.মূত্রাশয়ে অবশিষ্ট প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি।

অন্যান্যঃ

১.ডায়াবেটিস
২.কিডনির পাথর
৩.দীর্ঘমেয়াদি ক্যাথেটার
৪.ইমিউনো-কম্প্রোমাইজড অবস্থা।

Pathophysiology

বেশিরভাগ UTI Ascending Infection-এর মাধ্যমে ঘটে। অন্ত্রের জীবাণু প্রথমে পেরিনিয়াল অঞ্চলকে উপনিবেশিত করে এবং পরে ইউরেথ্রা দিয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে।
কিছু জীবাণু মূত্রাশয়ের অভ্যন্তরে বায়োফিল্ম তৈরি করে, যা অ্যান্টিবায়োটিক ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। ফলে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বারবার ফিরে আসে।
গবেষণায় দেখা গেছে, E. coli মূত্রাশয়ের কোষের ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং পরবর্তীতে পুনরায় সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

ক্লিনিক্যাল উপসর্গঃ

Lower UTI (Cystitis)

১.Dysuria (প্রস্রাবে জ্বালা)
২.Frequency (বারবার প্রস্রাব)
৩.Urgency(প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা)
৪.Suprapubic pain (তলপেটে ব্যথা)
৫.Hematuria (প্রস্রাবে রক্ত)

Upper UTI (Pyelonephritis)

১.জ্বর
২.কাঁপুনি
৩.কোমর ব্যথা
৪.বমি বমি ভাব
৫.দুর্বলতা

রোগ নির্ণয়ঃ (Diagnosis)

Laboratory Investigations-

১.Urine Routine Examination (Pyuria Leukocyte esterase positivity Nitrite positivity)

২.Urine Culture and Sensitivity
এই টেস্ট UTI এর নির্ধারণের Gold Standard টেস্ট।

Blood Investigations-

১.Complete Blood Count
২.Blood glucose
৩.Serum creatinine

Imaging-

Ultrasonography (KUB)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে USG ডায়োগনসিসের জন্য প্রয়োজনঃ
১.Recurrent UTI
২.Renal stone
৩.Structural abnormality of Urinary Tract.

CT স্ক্যান:

জটিল সংক্রমণ বা কিডনি অ্যাবসেস সন্দেহে CT স্ক্যানের দরকার হয়।

চিকিৎসাঃ (Management)

অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা-

কালচার রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সিলেকশন করা হয়।

সাধারণত ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকঃ

১.Nitrofurantoin
২.Fosfomycin
৩.TMP-SMX
৪.Amoxicillin-Clavulanate
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

Prophylactic Therapy অর্থাৎ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাঃ

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধিঃ
১ প্রস্রাবের পর সবসময় front to back পরিষ্কার করা
২.প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস পরা
৩.ভেজা বা টাইট কাপড় এড়ানো

পুনঃপুনঃ সংক্রমণের ক্ষেত্রে—
১.Low-dose nightly antibiotic
২.Post-coital antibiotic prophylaxis
৩.মেনোপজ-পরবর্তী চিকিৎসা

Vaginal Estrogen Therapy-
ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি পূরণ করে স্বাভাবিক যোনি পরিবেশ পুনঃস্থাপন করে এবং পুনঃসংক্রমণ কমায়।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সঃ

বর্তমানে UTI চিকিৎসার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বহুঔষধ-প্রতিরোধী (MDR) জীবাণু।
কারণসমূহ
১.স্বেচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
২.অসম্পূর্ণ কোর্স
৩.অপ্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন

জটিলতাঃ(Complications)
চিকিৎসাহীন বা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ফলে—
১.Chronic pyelonephritis
২.Renal scarring
৩.Chronic kidney disease
৪.Urosepsis
৫.Pregnancy complications ঘটতে পারে।

প্রতিরোধঃ (Prevention)

নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পুনঃসংক্রমণ কমানো সম্ভব—

১.পর্যাপ্ত জলপান।
২.প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ আটকে না রাখা
৩.যৌন মিলনের পরে প্রস্রাব করা
৪.সঠিক ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা
৫.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
৬.অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার পরিহার
৭.নিয়মিত চিকিৎসক পরামর্শ গ্রহণ

ক্রনিক ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন মহিলাদের মধ্যে একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। সঠিক রোগ নির্ণয়, কালচার-ভিত্তিক চিকিৎসা, ঝুঁকিপূর্ণ কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগের পুনরাবৃত্তি ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বর্তমান প্রেক্ষাপটে Rational Antibiotic Use অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাবলিক টয়লেট কি UTI-এর সরাসরি কারণ?

সাধারণত না, Direct cause নয়। কারণ:
১.UTI প্রধানত হয় নিজের শরীরের ব্যাকটেরিয়া (বিশেষ করে E. coli) থেকে
২.টয়লেট সিট থেকে সরাসরি ব্যাকটেরিয়া ইউরেথ্রায় ঢোকার সম্ভাবনা খুব কম
৩.ত্বক একটি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে
অর্থাৎ, টয়লেট সিটে বসা মানেই UTI হবে—এটা ভুল ধারণা।

পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের সময় কী করবেনঃ

সিট ব্যবহারে সতর্কতা-
১.সিটে সরাসরি না বসে tissue ব্যবহার
২.খুব নোংরা হলে hovering (পুরো না বসে, একটু উপরে উঠে) ব্যবহার।

হাত পরিষ্কার রাখা-
১.সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া
২.না থাকলে sanitizer ব্যবহার
৩.নিজের hygiene maintain-
নিজস্ব টিস্যু/ওয়েট ওয়াইপ বহন করা