Pramatha Nath Bishi

সেলুলয়েডে প্রমথনাথ বিশী

জমিদারি এবং দস্যুবৃত্তি _ এই দুই জীবিকাতেই সাফল্য লাভ করেছিলেন জোড়াদিঘীর চৌধুরীরা। এই পরিবারের এক প্রাক্তন পুরুষ চলনবিলের অন্ধকারে একটি বজরায় ডাকাতি করতে গিয়ে বর্শার সুনিপুণ আঘাতে হত্যা করেছিলেন নিজের জামাইকে, মুছে দিয়েছিলেন নববিবাহিতা কন্যার সিঁথির সিঁদুর। চৌধুরী পরিবারের সেই সর্বশেষ ডাকাতি। তারপর মহাকাল নিষ্ঠুর হাতে জোড়াদিঘীর সমস্ত ঐশ্বর্য ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এখন বিশাল প্রাসাদ পড়ে থাকে আদিম যুগের অতিকায় জন্তুর কঙ্কালের মতো। আর জমিদার উদয়নারায়ণ চৌধুরী বার্ধক্যের বোঝা বহন করে ঐ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একা প্রেতাত্মার মতো ঘুরে বেড়ান। তাঁর বাস অতীতের ঐশ্বর্যমন্ডিত স্মৃতির মধ্যে। পৌত্রবধূ বনলতা আর দেওয়ান রামজয় বর্তমানকে টেনে এনে উদয়নারায়ণকে জানতে দেন না, তাঁর সযত্ন লালিত স্বপ্নের গায়ে আঘাত করেন না। তিনি ভাবেন সব গৌরব, সমারোহ, পূজা – পার্বণের যাবতীয় আড়ম্বর আগের মতোই চলছে। নষ্ট হয়নি কিছুই, ম্লান হয়নি কোন কীর্তি। গভীর মমতায় ছায়ার মতো প্রভুর সঙ্গে ফেরেন দুর্ধর্ষ লাঠিয়াল স্বরূপ সর্দার।

সে কী ভাবে? অতীতের গৌরবময় স্মৃতি না কি আরেক দুর্ধর্ষ লাঠিয়াল আলিবর্দীর কথা আর ভবিষ্যতের কথাও _ সে ভবিষ্যত মূর্তি ধারণ করছে পৌত্র দর্পনারায়ণের মধ্যে উন্নত, সবল, তেজস্বী সে মূর্তি। দর্পনারায়ণ পাশের জমিদারি রক্তদহের বিলে পাখি শিকার করতে যান আর নিজের অগোচরে হয়তো তিনি রক্তদহের পিতৃমাতৃহীনা জমিদার কন্যা ইন্দ্রাণীর হৃদয়টিকেও অধিকার করেন। উচ্ছ্বসিত উদয়নারায়ণ স্বয়ং আশীর্বাদ করে আসেন ইন্দ্রাণীকে ইতিমধ্যে স্বরূপ সর্দার পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান। মুহূর্ত বিলম্ব না করে স্বরূপের চির প্রতিদ্বন্দ্বী আলিবর্দী, দর্পনারায়ণের পাশে এসে নিঃশব্দে স্বরূপের স্থান অধিকার করেন। স্বরূপ সর্দারের অন্তিম ইচ্ছাপূরণের জন্য দর্পনারায়ণ অস্থি বিসর্জন করতে যাত্রা করেন পলাশীর গঙ্গায়। পলাশীর প্রান্তরে অন্ধকারে নাটকের নতুন দৃশ্য উন্মোচিত হয়। তেমাথার জমিদার পরন্তপ রায়ের অত্যাচারের হাত থেকে বনলতাকে উদ্ধার করেন দর্পনারায়ণ। বনলতার বাবা মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে অক্ষমতা জানান। চৌধুরীদের আবহমান কালের জেদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। দর্পনারায়ণ স্বয়ং বনলতাকে পত্নী রূপে গ্রহণ করে ফিরে আসেন। এদিকে ক্রোধে অস্থির হয়ে ওঠে ইন্দ্রাণী। অপমান – হত প্রতীক্ষা। বেদনাবিদ্ধ উদয়নারায়ণ দর্পনারায়ণের জন্য জোড়াদীঘির দেউড়ির ফটক রুদ্ধ করেছেন। বনলতাসহ দর্পনারায়ণ বজরা নিয়ে নিজের ভাগ্যের প্রতিকূল স্রোতে ভেসে চলে। এদিকে পরন্তপ রায় রক্তদহে বার্ষিক ঘোড় দৌড়ের প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেন। অদৃষ্টের আকস্মিক আশীর্বাদে ইন্দ্রাণীকেও জয় করে নেন তিনি। এবার সমস্ত অপমানের প্রতিশোধ নেবার পালা। জোড়াদিঘীর সঙ্গে রক্তদহের শত্রুতা ঘনিয়ে ওঠে। সেই তীব্র রণকোলাহলের মধ্যে পরন্তপ রায়ের ক্রুর শয়তানি কোন নির্মম লক্ষ্যে ছুটে যায়? ইন্দ্রাণীর লাঞ্ছিত করুণ হৃদয় কোন্ সান্ত্বনা খুঁজে পান? দর্পনারায়ণ, বনলতার প্রত্যাগমনে কোন স্বান্তনার সুধাপাত্র তাঁদের হাতে তুলে দেন উদয়নারায়ণ ?

jora dighir chowdhury parivar
জোড়াদীঘির চৌধুরী পরিবার ছবির বুকলেট।

ইতিহাসের সেই ঘটনাগুলির উত্তর ফুটে ওঠে বড় পর্দায়। যে ছবির গল্প দিয়ে এ লেখার শুরু, সে উপন্যাসের নাম ‘ জোড়াদীঘির চৌধুরী পরিবার।‘

jora dighir chowdhury parivar

প্রমথনাথ বিশীর কালজয়ী উপন্যাসের চিত্ররূপ দিলেন বাংলা ছবির প্রখ্যাত পরিচালক অজিত লাহিড়ী। চিত্র নাট্য লিখলেন মৃণাল সেন। বিরাট শিল্পী দলও এ ছবিকে সমৃদ্ধ করেছে। উদয় নারায়ণের চরিত্রে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রপ্রৌত্র দর্পনারায়ণের চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রী বনলতার চরিত্রে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। রক্তদহের জমিদার কন্যা ইন্দ্রাণীর ভূমিকায় মাধবী মুখোপাধ্যায়। পরন্তপ রায়ের চরিত্রে তরুণ কুমার। অন্যান্য চরিত্রগুলিতে অভিনয় করলেন বিকাশ রায়, অসিতবরণ, কমল মিত্র, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, শেখর চট্টোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রুমা গুহঠাকুরতা, দিলীপ রায়, প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, গীতালি রায়, দীপিকা দাস, প্রমুখ শিল্পী। কালীপদ সেনের সুরে এ ছবিতে গান গাইলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, আরতি মুখোপাধ্যায় ও রুমা গুহঠাকুরতা। গীতিকার প্রণব রায়।

এ ছবির দৌলতে ‘ বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনে’র (সংক্ষেপে বি. এফ. জে. এ.) ১৯৬৬ সালের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায় ১৯৬৬ সালের ৯ ডিসেম্বর এ ছবি মুক্তি পেয়েছিল দর্পণা, প্রাচী, ইন্দিরা প্রেক্ষাগৃহে।

Pramatha Nath Bishi

প্রমথনাথ বিশীর জন্ম ১৯০১ সালের ১১ জুন রাজশাহী জেলার জোয়াড়ি গ্রামে। বাবা নলিনীনাথ, মা সরোজবাসিনী। তাঁরা ছিলেন সাত ভাই, পাঁচ বোন। প্রমথনাথের ছোটবেলার অনেকটা কেটেছিল দেওঘরে। ন’ বছর বয়সে প্রমথনাথ পড়তে আসেন শান্তিনিকেতন আশ্রমে। শান্তিনিকেতন গড়ে তুলতে রবীন্দ্রনাথকে যে কী কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছিল তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী প্রমথনাথ (১৯০১ – ১৯৮৫)। ‘ রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন ‘ গ্রন্থে সে ইতিহাস সযত্নে উঠে এসেছে। ১৯১৯ সালে শান্তিনিকেতন থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলেজে পড়ার প্রশ্ন যখন উঠল তখন রবীন্দ্রনাথ নিজে উদ্যোগী হয়ে বিশ্বভারতীর পত্তন করলেন। প্রথম দুটি ছাত্রের একজন এই প্রমথনাথ। ১৯২৯ সালে সুরুচি দেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৩৬ সালে রিপন কলেজে (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) বাংলার লেকচারার হিসাবে যোগ দেন। দশ বছর অধ্যাপনার পর আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘ অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর ‘ হিসাবে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে আনন্দবাজারের চাকরি ছেড়ে দেবার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ষোলো বছর টানা সেখানে ছিলেন। শেষ কয়েকটি বছরে তিনি রবীন্দ্র অধ্যাপক পদে ছিলেন। ১৯৮৫ সালে ১০ মে প্রমথনাথ পরলোক গমন করেন। প্রচুর লেখালেখি করেছেন। ‘ রবীন্দ্র কাব্যপ্রবাহ ‘ গ্রন্থের তো কোন তুলনা নেই। রবীন্দ্র – সরণী, শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প, বঙ্কিম সরণি, পুরনো সেই দিনের কথা প্রভৃতি আলোচনা গ্রন্থগুলি সম্পর্কেও সেই একই কথা। তাঁর নাটক সমগ্রও অসাধারণ। গল্প সমগ্রও অপূর্ব। দুটি উপন্যাসের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতেই হয়। একটি ‘ কেরি সাহেবের মুন্সী ‘। অপরটি ‘ লাল কেল্লা ‘ মধ্য যুগ পেরিয়ে ঊনিশ শতকের সূচনা নতুন বঙ্গের জন্ম হওয়ার ইতিহাসটি কেরি সাহেবের মুন্সীর উপজীব্য। লালকেল্লাকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের একটি সর্বভারতীয় নাটকীয় রূপই প্রাধান্য পেয়েছে। ১৯৬০ সালে, ‘কেরি সাহেবের মুন্সী’ রবীন্দ্র পুরষ্কারে সম্মানিত হয়। পরে এটি বিশেষ ‘ আনন্দ পুরস্কার ‘ ও লাভ করে।

keri saheber munshi

প্রমথনাথ বিশীর ‘কেরি সাহেবের মুন্সী’ বড় ক্যানভাসের গল্প। এই বৃহৎ উপন্যাসের চিত্ররূপ দেওয়া একটা চ্যালেঞ্জের মতো। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন বাংলা ছবির দুর্ধর্ষ নট বিকাশ রায়। তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাসের চিত্ররূপ দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। মরুতীর্থ হিংলাজ ( অবধূত), সূর্যমুখী ( গজেন্দ্র কুমার মিত্র), অর্ধাঙ্গিনী ( পাঁচু গোপাল মুখোপাধ্যায়), কাজললতা (ডঃ নীহার রঞ্জন গুপ্ত) তাদেরই অন্যতম। ‘কেরি সাহেবের মুন্সী’র যখন নিজের চিত্রনাট্যের পরিচালনা করতে নামলেন বিকাশ রায়, প্রচুর খেটে ছিলেন। এশিয়াটিক সোসাইটির লাইব্রেরি, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং অন্যান্য কিছু কিছু প্রাইভেট লাইব্রেরি থেকে বই, ফটো, আঁকা ছবি সংগ্রহ করেন অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগের সাহেব মেমের পোশাক, তাদের চালচলন ইত্যাদি নানা রকমের জিনিস সংগ্রহ করতে হয়েছিল বিকাশ রায়কে। গোটা কুড়ি গড়গড়া ও বিশেষ রকমের নল, তালপাতার ছাতা অনেক কষ্টে বিকাশ রায় জোগাড় করেছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে এখানেও ক্রীতদাস প্রথা চালু ছিল। ক্রীতদাস পালিয়ে গিয়ে ধরা পড়লে গরুর গাড়ির উপর একটা খাঁচায় ক্রীতদাসকে আটকে চারিদিকে ঘোরানো হত। লোকে যাতে চিনে রাখে এবং পরে আবার পালালে তাকে দেখতে পেলেই মালিককে খবর দেয়। এরকম একটা খাঁচা তৈরি করে মুর্শিদাবাদ শহরের আউটডোর শুটিং – এ ব্যবহার করা হয়েছিল। ঐ অংশটুকুর চেহারা সেই সময়ের কলকাতা শহরের মতো করতে হয়েছিল। নবাববাড়ির কাছে গঙ্গার ঘাটকে কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট করা হয়েছিল। কাছাকাছি ইলেকট্রিকের পোস্টগুলি সরাবার ব্যবস্থা করেছিলেন বিকাশ রায়। ছবিটির জন্য যে মানসিকতা ও দৈহিক পরিশ্রম করতে হয়েছিল বিকাশ রায়কে, সেটাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরিষ্কার।

Pramatha Nath Bishi

এ ছবিতে বিকাশ রায় বহু শিল্পীকে নিয়েছিলেন। উইলিয়াম কেরীর চরিত্রে এ ছবিতে অভিনয় করলেন ছবি বিশ্বাস। অদ্ভুত সুন্দর মেক আপ আর দুরন্ত অভিনয় দিয়ে ছবি বিশ্বাস চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুললেন
মুন্সী রাম রাম বসুর চরিত্রে স্বয়ং বিকাশ রায়। তাঁর মেক আপ ও অভিনয় এক কথায় অনবদ্য। অন্যান্য প্রধান চরিত্রগুলিতে রূপদান করলেন পাহাড়ি সান্যাল, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, বনানী চৌধুরী, মঞ্জু দে, গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত দে, তুলসী চক্রবর্তী, কালীপদ চক্রবর্তী, শিশির বটব্যাল, সৌর শী, শীতল বন্দ্যোপাধ্যায়, মিন্টু দাসগুপ্ত প্রমুখ শিল্পী। যে মেয়েটিকে সতীদাহের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই মেয়েটির ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করলেন তন্দ্রা বর্মন। এটি শিল্পীর প্রথম ছবি, পরে তিনি অজয় করের ‘ অতল জলের আহ্বান ‘ ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে স্বনামধন্য হন। সতীদাহের দৃশ্যটি পর্দার বুকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন পরিচালক। ছবির সুরকার রবীন চট্টোপাধ্যায়, গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। নেপথ্য কণ্ঠশিল্পীরা হলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, শ্যামল মিত্র, মিন্টু দাসগুপ্ত। ১৯৬১ সালের ২৭ সে জানুয়ারি এ ছবি মুক্তি পেল রূপবাণী, অরুণা, ভারতী প্রেক্ষাগৃহে। আর্থিক সাফল্য লাভ করেছিলেন বিকাশ রায়। ছবির জন্য ‘ বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনে’র তরফ থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন মঞ্জু দে ১৯৬১ সালে। মেক আপ ম্যানের জন্য যদি পুরস্কার প্রথা তখন চালু থাকত, তবে সে বছর এই ছবির জন্য রূপসজ্জায় নৃপেন চট্টোপাধ্যায় পেতে পারতেন। সেই সময়ের মানুষদের মুখ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে মেক আপের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরতে পেরেছিলেন।

মাত্র এই দুটি ছবির চিত্ররূপ পেয়েছি আমরা প্রমথনাথ বিশীর উপন্যাস থেকে। দুটি উপন্যাসই যেমন সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে, ঠিক তেমনি দুটি ছবিই বাংলা ছবির জগৎ কে সমৃদ্ধ করেছে। ‘ লালকেল্লা ‘ নিয়ে একাধিক পরিচালক বিভিন্ন সময়ে তোড়জোড় শুরু করেছিলেন ছবি নির্মাণের ব্যাপারে, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আসলে এমন ধরনের উপন্যাসের চিত্ররূপের ব্যাপারে যে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় লাগে তা অনেক পরিচালকের আয়ত্তের বাইরে।