২১ জুন বিশ্ব যোগা দিবস। হ্যাঁ, কথ্য ভাষায় যোগ দিবস না বলে যোগা দিবস বলাই শ্রেয়। তাহলে যোগ -এর বিপ্রতীপে বিয়োগান্তক ধারণাটাকে দূরে রাখা যায়।
তবে গত বারো মাস ধরে এই বিশ্ব যোগা দিবস উদযাপন থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি বিযুক্তই হয়েছিল। তবে এবছর দিনটি পালিত হল মহা সমারোহে। মহানগরের রোড রোডে বিশ্ব যোগা দিবস উপলক্ষে উপস্থিত রইলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রইলেন শিক্ষকের ভূমিকায়। পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে গোটা রাজ্যের সরকারি, সরকার পোষিত, রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা এমনকী অলিগলির আমজনতাও যুক্ত হয়ে পড়ল এই যোগ দিবসের উন্মাদনার সঙ্গে।
যোগা মানে সংস্কৃত উচ্চারণে ‘ইয়োগা’ শব্দটি সংস্কৃত যুজ ক্রিয়াপদ থেকে এসেছে । যার অর্থ যুক্ত করা। যোগাসনের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ হরপ্পা সভ্যতাতে পাওয়া যায় । এবং এই শব্দটির প্রাচীনতম উল্লেখ বৈদিক সাহিত্যেও ছিল। ভারতীয় সভ্যতার সংস্কৃতিতে যোগচর্চা প্রাচীনতার সাক্ষ্য বহন করে।

বেদ থেকে শুরু করে সমসাময়িক পর্যন্ত যোগের কথা বিভিন্নভাবে বলা ও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, জৈন ধর্ম সহ ভারতের ঐতিহ্যের সমস্ত ধারার জন্য অপরিহার্য। যোগাকে ভারতীয় দর্শন বা দর্শনের অন্যতম প্রাচীন শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়। যোগ দর্শনের ওপর প্রাচীনতম গ্রন্থটি হল মহর্ষি পতঞ্জলির যোগসূত্র । যা আটটি অঙ্গের রূপরেখা অষ্টাঙ্গ যোগের সামগ্রিক পদ্ধতি যার অনুশীলন মুক্তির দিকে পরিচালিত করে।
যোগ মূলত হিন্দু ধর্মের সম্পদ। শিবকে আদি যোগী বলা হয়। যোগকে প্রার্থনার মত ধর্মীয় কার্যকলাপ হিসেবেও ধরা যেতে পারে । এর আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য হল শরীরের শক্তি ব্যবস্থা এবং প্রাণকে সক্রিয় করা। যা মানুষকে পরমাত্মার সঙ্গে আত্মাকে একীভূত করার পথে সাহায্য করে। এই মৌলিক বিষয়টি খ্রিস্টধর্ম কিংবা ইসলাম ধর্মের স্বীকৃত নয় ।

পশ্চিম বিশ্ব কেবলমাত্র যোগের শারীরিক ভঙ্গিগুলোর সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু যোগ একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান। যোগের উদ্ভব হয়েছে সাংখ্য দর্শন থেকে। যা আবার হিন্দু ধর্মের মূল দর্শন সুতরাং যৌগের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের সম্পর্ককে অস্বীকার করা যায় না।
তবে যোগা যে ধর্মেরই হোক না কেন তার আসল উদ্দেশ্য শরীরকে সুগঠিত করা নিরব করা। আর শরীরমাদ্যং খলু ধর্ম সাধনম্। তাই গোটা বিশ্ব আজকে যুক্ত হয়েছে যোগার সঙ্গে।

