টোমাস ট্রান্সট্রোমারের ‘বালাকিরেভ’ কবিতার ভাবনায় গ্র্যান্ড পিয়ানো, স্বপ্ন ও ১৯০৫-এর রুশ বিপ্লবের আবহ

বালাকিরেভের স্বপ্ন

টোমাস ট্রান্সট্রোমার
সুইডিশ থেকে ইংরেজি: ড্যানিয়েল কার্ডেন নেমো
১৯০৫

কবিতা (অনুবাদ): গৌতম চক্রবর্তী

কালো গ্র্যান্ড পিয়ানো—এক চকচকে মাকড়সা,
তার সুরজালের মাঝে দাঁড়িয়ে কাঁপছে।

কনসার্ট হলের ভেতরে এক ভূখণ্ডের জন্ম হলো,
সেখানে সব পাথর শিশিরের চেয়ে হালকা।

কিন্তু গানের মাঝে বালাকিরেভ ঘুমিয়ে পড়লেন
স্বপ্ন দেখলেন জারের ঘোড়ার গাড়ি ছুটছে।

গড়িয়ে চলেছে পাথর বিছানো রাস্তায় আর
সোজা ঢুকে গেছে কাক-ডাকা অন্ধকারে।

গাড়ির ভেতর তিনি একা আর দৃষ্টি বাইরে,
আর একসাথে গাড়ির গা ঘেঁষে দে দৌড়।

যেন জানাই যে যাত্রা অনেক দীর্ঘ,
ঘড়ি ঘণ্টা নয়, দেখাচ্ছে শুধু বছর।

একটি মাঠ আর সেখানে পড়ে আছে লাঙল—
না, না লাঙল নয় আকাশচ্যুত পাখি।

একটি উপসাগরে বরফবন্দি জাহাজ—
আলো নিভিয়ে যাত্রীরা ডেকে

গাড়িটি বরফের ওপর দিয়ে নির্বেগ ভেসে চলেছে,
আর চাকা ঘুরছে তো ঘুরছেই রেশমের মত শব্দে।

একটি ছোট যুদ্ধজাহাজ: নাম সেভাস্তোপোল।
জাহাজের ওপর নাবিকরা তাঁকে ঘিরে।

“বেঁচে যাবে, যদি বাজাতে পারো,
বাজাও দেখি এই অদ্ভুত বাজনা।”

সেটি দেখতে তুবা কিংবা গ্রামোফোনের মত,
অথবা কোনো অজানা যন্ত্রের অংশ যেন।

ভয়ে অবশ, অসহায়, তবু বুঝে নিলেন:
এই যন্ত্রটিই যুদ্ধ জাহাজের চালিকাশক্তি।

তিনি তাঁর নিকটতম নাবিকের দিকে ফিরে,
আকুল ভঙ্গিতে ইশারা করে মিনতি করলেন:

“আমার মতো ক্রুশচিহ্ন আঁকো, ক্রুশচিহ্ন!”
নাবিকটি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল, যেন অন্ধ

আর দুই হাত ছড়িয়ে, মাথা নত করে দাঁড়ালো—
যেন কেউ তাঁকে আকাশে পেরেক দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে।

ঢাক বাজলো। বাজলো ঢাক। পড়লো হাততালি !
বালাকিরেভ স্বপ্ন থেকে জেগে উঠলেন।

হাততালি সব ডানা মেলে হলঘরে ঝাপটাতে লাগলো।
তিনি দেখলেন, গ্র্যান্ড পিয়ানোর সামনে বসা মানুষটি উঠে দাঁড়ালো।

বাইরে রাস্তা জুড়ে ধর্মঘটের অন্ধকার।
ঘোড়ার গাড়ি সব দ্রুত অন্ধকারমুখী।

কবিতা প্রসঙ্গে:
রুশ সুরকার মিলি বালাকিরেভ, জীবনকাল ১৮৩৭–১৯১০। সুরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে এই শিরোনামটি রাখা হয়েছে। ১৯০৫ সাল এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেই বছরেই প্রথম রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।