সাংবাদিক নজরুল — কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতা জীবন ও নবযুগ, ধূমকেতু ও লাঙল পত্রিকার স্মরণ অনুষ্ঠান

‘সাংবাদিক নজরুল ‘ আয়োজনে ছায়ানট (কলকাতা) ও কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র।

২৯ আগস্ট কলকাতা প্রেস ক্লাব -এ চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে ছায়ানট (কলকাতা) এবং কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র – র যৌথ নিবেদন ‘সাংবাদিক নজরুল’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৪টে। দুঘন্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট কবি সৈয়দ হাসমত জালাল, হিঙ্গলগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও নজরুল গবেষক ড. শেখ কামাল উদ্দীন এবং ছায়ানট (কলকাতা) -র সভাপতি ও নজরুল গবেষক সোমঋতা মল্লিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন পীতম ভট্টাচার্য।

কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতা ও ধূমকেতু পত্রিকার ঐতিহাসিক ভূমিকা

১৯২০ সালের জুলাই মাসে কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ – র যুগ্ম সম্পাদনায় সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রথম প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার মাধ্যমেই ২১ বছর বয়সে নজরুলের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। কাজী নজরুল ইসলামের একক সম্পাদনায় ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট অর্ধ-সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ হয়। দেশবাসীকে স্বাধীনতা ও বিপ্লবী মন্ত্রে উজ্জীবিত করাই ছিল পত্রিকাটির লক্ষ্য। ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যা থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাণী নিয়মিত ছাপা হয়। ১৩ অক্টোবর, ১৯২২ সালে ধূমকেতু পত্রিকায় ‘ধূমকেতুর পথ’ — এ কাজী নজরুল ইসলাম লেখেন: “সর্বপ্রথম, ধূমকেতু ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়। স্বরাজ-টরাজ বুঝি না, কেননা ও কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা-রক্ষা, শাসন-ভার, সমস্ত থাকবে ভারতীয়ের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না।”

নজরুলের সাংবাদিক জীবন, নবযুগ ও লাঙল পত্রিকার স্মরণীয় অধ্যায়

শতবর্ষ আগে মানবতার জয়গান গেয়েই ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘লাঙল’ পত্রিকার পথ চলা শুরু হয়। শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ সম্প্রদায়ের সাপ্তাহিক মুখপত্র রূপে এই পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন মানবতাবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এই পত্রিকার অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুলের কবিতা। সেসব কবিতায় নজরুলের কবি মানসের আশ্চর্য উত্তরণ ঘটেছিল। প্রথম সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছিল — “এই সংখ্যায় লাঙলের সর্ব্ব প্রধান সম্পদ কবি নজরুল ইসলামের কবিতা সাম্যবাদী।”

১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর রাজনীতিবিদ এ. কে. ফজলুল হক নবপর্যায়ে দৈনিক নবযুগ পত্রিকা প্রকাশ করেন, নজরুল প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এভাবেই নজরুল তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেতভাবে ২টি নজরুল-সঙ্গীত পরিবেশন করেন ছায়ানট (কলকাতা)-র শিল্পীবৃন্দ। নজরুল যে সমস্ত পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেই পত্রিকাগুলিতে প্রকাশিত সম্পাদকীয়, কবিতা সহ কবির লেখার বেশ কিছু নির্বাচিত অংশ পাঠ করেন ছায়ানট (কলকাতা) – এর পক্ষ থেকে বাচিকশিল্পীরা। অংশগ্রহণে — দেবযানী বিশ্বাস, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, স্বাতী ভট্টাচার্য, তিস্তা দে, ইন্দ্রাণী চৌধুরী, সোমা রায়, পারমিতা চৌধুরী, অনিন্দিতা ঘোষ, ড. বৈশাখী দাস, অর্পিতা জানা সাহু, নবনীপা রায়, সোহালিয়া সিং, সুমেকা চ্যাটার্জী, ববিতা গাঙ্গুলী।

‘সাংবাদিক নজরুল’ অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার আলোচনা

কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র-র পক্ষ থেকে ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমবেতভাবে উচ্চারিত হয়। অংশগ্রহণে: আগমনী কুন্ডু, মুনমুন সান্যাল মুখার্জী, ঋতুপর্না সরকার, সোনালী পাল, রূপা দে, তানভী বিশ্বাস, অম্বিকা বিশ্বাস, সৌম্যজিৎ গুহ। কবির ৫০তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে এই সমস্ত তথ্য নজরুলপ্রেমীদের সামনে তুলে ধরার জন্যই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।