‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার পৃথিবীতে আসবেন না’ – বলেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা ‘ফুল বৌ ‘ – এর মতো অসাধারণ উপন্যাসের রচয়িতা আবুল বাশার।
কিছুদিন আগে ধর্মতলায় এসআই আর বিরোধী ধর্না মঞ্চে আরও কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে সামিল হয়েছিলেন বাশারও ।
সোমবার রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের পর তিনি কী ভাবছেন? এদিন বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্যে টানা ১৫ বছর ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল টিএমসি’কে নিদারুণভাবে ধরাশায়ী করেছে গৈরিক শিবির। এক কথায় বাঙলার মসনদে আসীন হচ্ছে বিজেপি। এ যাবৎ কিন্তু রাজ্যে রাজনীতির মতাদর্শের সঙ্গে এক সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলতেন আবুল বাশার, জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার বা শ্রীজাতের মতো কবি সাহিত্যিকরা।
তা এই মুহুর্তে তাঁরা কী ভাবছেন?
বাশার অবশ্য অস্বীকার করেছেন যে, কোনওভাবে তিনি মমতা বা তার দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ” আমি কোনওদিন মমতার কোনও রাজনৈতিক প্রোগ্রামে যুক্ত হতাম না। হ্যাঁ, একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে থাকতাম। আর সাহিত্য সংস্কৃতি সংক্রান্ত কোনও কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতাম। ”
তবে এটাও তিনি মনে করেন বিজেপি -এর এই ‘জয়’ কিন্তু বাংলা ও বাঙালির মনন এবং সংস্কৃতিতে এক বড় পরিবর্তনের সূচক হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘তা বাঙালির পক্ষে ভালো হবে, না, মন্দ হবে, তা একমাত্র সময়ই বলতে পারে। এক অর্থে, এটা বাঙালির যে চিরাচরিত অভিব্যক্তি বা এক্সপ্রেশন– তাতে একটা পরিবর্তন ঘটাতেই পারে”। এর ব্যাখ্যায় আবুল বাশারের সংযোজন, ‘রেনেসাঁ তো বাঙালির হাত ধরেই এসেছিল। তা তো ভারতের অন্য কোনও জাতি বা প্রজাতির মানুষ করেননি। অন্যদের মধ্যে কি বিদ্যাসাগর, রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ বা লালন ফকিরের মতো মানুষ এসেছিলেন। গুজরাতিদের মধ্যে ব্যবসায়ে উৎকর্ষতা আছে। মৈথিলিদের মধ্যে শিল্প কর্মের উৎকর্ষতা রয়েছে। আর বাঙালি রবীন্দ্রনাথের কথায় সাহিত্যিক জাতি।”
এই প্রসঙ্গে ‘ফুল বৌ’-এর লেখক বলেন, ” একটা বিষয়ে সংশয় থাকছেই। আজ যে পরিবর্তন বাঙালির সমাজ ও জনজীবনে এল, তা কি বাঙালি আত্তীকরণ করতে পারবে? করতে পারলে এক রকম বিষয় হবে, না করতে পারলে কী হয় দেখার!”
উল্লেখ্য, এই মুহুর্তে মমতার রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র ছিল না, এই কথা বলছেন বাশার। তবে এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোকে বেজায় সাধুবাদও দিয়েছিলেন। তাঁর মুখে এমন কথাও শোনা গিয়েছিল, ‘বুদ্ধিজ বাংলা যে কবিকে বরণ করে নিয়েছে, প্রায় রবীন্দ্রনাথ (ঠাকুরের) মতোই সম্মান দিয়েছে। তাঁর একটা লাইন আমার মাথার মধ্যে এল। খুব আবেগের সঙ্গে সেটা কবি লিখেছেন বলে আমার ধারণা। সেই লাইনটা হল, জীবনানন্দের শঙ্খমালা কবিতার পংক্তি। …এ পৃথিবী একবার পায় তারে , পায় নাকো আর…। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার পৃথিবীতে আসবেন না।’
বাশার এও বলেছিলেন, ‘দিদির কবিতা শুনতে-শুনতে এই একটা শুধু লাইন (মনে) এল। ’
সেই রেশ ধরে মুখ্যমন্ত্রীর গানেরও প্রশংসা করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। তিনি বলেন, ‘মমতার কারণে বাঙালি, ভারতবাসী এবং এই বিশ্ব চরাচর ধন্য হয়েছে। তাঁকে তাঁর কাজ করতে দিন। আমি বলব, কবি হিসেবেও উনি বড় মাপের কবি। গানের তো তুলনাই নেই। যখন উনি থাকবেন না, তখন তাঁর গান বাজবে বাঙালির ঘরে-ঘরে। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর আমি সাধারণত ভুল করি না। যেমন-যেমন চিনি, বুঝি, ভুল হয় না আমার।’
এখন প্রশ্ন, সেদিনের সেই ভুলের ভ্রম সংশোধন কি আগামীতে সম্ভব হবে!

