football world cup

এবারের বিশ্বকাপে সব ম্যাচে টানটান লড়াই

সামনে আর কয়েকটা দিন। তারপরেই শুরু হয়ে যাবে ফুটবল যুদ্ধের বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ফুটবল বলতেই সারা বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা। সবার চোখ থাকবে বিশ্ব ফুটবলের মাঠে। কোন দেশ কাকে হারিয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল। আর এবারে ৪৮টি দেশ সম্মুখ সমরে লড়াই করবে। এই প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে এতো বেশি সংখ্যক দেশ একে অপরের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এই প্রথম তিনটি দেশ একত্রিত ভাবে এবারের ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনে দায়িত্ব তুলে নিয়েছে। আয়োজক দেশগুলো হল আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা। খেলা শুরু হয়ে যাবে চলতি বছরের ১১ জুন থেকে। ফাইনাল খেলা ১৯ জুলাই। একমাসের বেশি এই ফুটবল যুদ্ধকে ঘিরে সবার উৎসাহ চরম জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবে।

১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ ফুটবল সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাই কত তারকা ফুটবলারকে শিরোনামে নিয়ে আসে বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশেষ করে কয়েকটা দেশকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীরা স্বপ্ন দেখেন। কে হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন— তা নিয়ে গবেষণা চলতে থাকে শেষ দিন পর্যন্ত। তারপরে কোন দেশ জায়গা করে নিল, আবার কোন দেশ ছিটকে গেল, তা নিয়ে আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে আড্ডার টেবিলে। খেলার ছাড়পত্র ভারত না পেলেও, এবারের বিশ্বকাপে চারটি নতুন দেশ জর্ডন, কুরাসাও, কেপভার্দে ও উজবেকিস্তান। এইরকম ছোট ছোট দেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে, সেখানে ভারত ভো-কাট্টা। ভারত কবে বিশ্বকাপ খেলবে, তা নিয়ে আলোচনা করাটা বৃথা।

worldcup football

এবারেও বিশ্বকাপে দেখতে পাওয়া যাবে না ইতালির মতো স্বপ্নের দেশকে। টানা তিনবার ইতালি ছিটকে গেল। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় ইতালির ফুটবলপ্রেমীরা কান্নায় মাঠকে ভিজিয়ে দিয়েছেন। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালির এই ব্যর্থতা কেউই মেনে নিতে পারেননি। ইতালিকে দেখতে পাওয়া যাবে না বলে বিশ্বকাপের জৌলুস অনেকটা ফিকে হয়ে যাবে। ২০১৪ সালে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলেছিল ইতালি। তাও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। তারপরে আর তো দেখা নেই ইতালির বিশ্বকাপ ফুটবলে। ইতালিকে নিয়ে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলে। বিশ্ব দেখেছে ইতালি দলে দিনো জফ, পাওলো রোসি, রবার্তো বাজ্জিও, গিয়ান লুইগি বুফন, আলেসান্দ্রো নেস্টা, ফাবিও কানাভাসো ও পাওলো মালদিনির মতো তারকা ফুটবলারদের ক্রীড়াশৈলী। আর এবারের বিশ্বকাপে দেখতে পাওয়া যাবে না ইতালির জান লুইজি দোনারুমার পাশে পোল্যান্ডের রবার্ট লেয়নভস্কি, গিনির সেরেহোউ গুইরাস, নাইজিরিয়ার ভিক্টর ওসিমহেন, জর্জিয়ার কিভিচা কাভারাস্কোলিয়া ও হাঙ্গেরির ডমিনিক সোবোজলাইকে। সারা দুনিয়ার ফুটবল প্রেমীরা এঁদের খেলা দেখার আশায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন, সেই স্বপ্ন হারিয়ে গেল। তবে এবারে বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন চারটি দেশ অংশ নিয়ে তাদের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেবে বলে মনে করা যেতেই পারে।

বিশ্বকাপ ফুটবল বলতেই যেন রূপকথার কাহিনি। তেমনই অঘটনের কত নাটক লেখা হয়ে যায় ফুটবল মাঠে। মূলপর্বে খেলার জন্য এমনই চমক দেখতে পাওয়া গেল। ৪০ বছর বাদে আবার ইরাক বিশ্বকাপ খেলতে নামবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে পশ্চিম এশিয়ায় ইরাক ১৯৮৬ সালে শেষবার বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে নেমেছিল্য ৫২ বছর আগে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছিল কঙ্গো। তারপরে ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার সুযোগ পেল। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে তুরস্ককে দেখতে পাওয়া গেলেও, ২৪ বছরে তাদের দেখা মেলেনি। আর এবারে সেই স্বপ্নপূরণ হল। ২০ বছর বাদে বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার ছাড়পত্র পেল চেক প্রজাতন্ত্র। স্বাভাবিকভাবে বাছাই পর্বের খেলায় নানা অঘটনের ছবি দেখতে পাওয়া গেছে। গ্রুপ বিন্যাসে ব্রাজিলের সঙ্গে রয়েছে মরোক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গ্রুপে রয়েছে আলজিরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডন। পর্তুগাল গ্রুপে খেলবে কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। ইংল্যান্ডকে তাদের গ্রুপে খেলতে হবে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা। ফ্রান্সের গ্রুপে থাকছে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে। ইরানের গ্রুপে থাকছে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। জার্মানিকে গ্রুপের ম্যাচে খেলতে হবে কুরাসাও, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের সঙ্গে। আমেরিকার গ্রুপে রয়েছে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে। কানাডাকে লড়াই করতে বসনিয়া ও হারজোগোভিনা, কাতার ও সুইৎজারল্যান্ডের সঙ্গে।য মেক্সিকো গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাই বলতে দ্বিধা নেই গ্রুপের প্রত্যেকটি ম্যাচে টানটান লড়াই দেখতে পাওয়া যাবে।