পুলিশ সুপার মেজর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন মিস্টার বি. কে. সান্যাল৷ তিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট সেশন জজ৷ সান্যাল এসেছেন আসামি শশাঙ্ক মণ্ডলের খোঁজে৷ তৎকালীন বিচারক এই সান্যালের হুকুমেই ডাকাতি মামলার আসামি শশাঙ্কর জেল হয়েছিল পাঁচ বৎসর৷ সান্যালের হিসেবমতো আজ শশাঙ্কের ছাড়া পাওয়ার দিন৷ কিন্তু সান্যাল হতাশ হলেন৷ জেলের আইন মতো মেয়াদের রেমিশন পেয়ে শশাঙ্ক বছরখানেক আগে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে৷ বসন্ত সান্যালের মনে পড়ে যাচ্ছে একটি দিনের কথা৷
একদিন রাতে ছোটো বাচ্চা মেয়েকে কোলে নিয়ে এক রমণী এসেছিলেন বসন্ত সান্যালের কাছে৷ তাঁর একান্ত মিনতি ছিল তাঁর স্বামী শশাঙ্ককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য৷ রমণীর বিশ্বাস তাঁর স্বামী এ কাজের সঙ্গে কখনও যুক্ত নয়৷ রমণী রাধার অনুরোধ সাান্যাল রাখতে পারেননি৷ শশাঙ্কর জেল হয়৷ রাধা বিষ খেয়ে মরে৷ ওদের সন্তান রানীকে সনাতন এসে তুলে দেয় বসন্ত সান্যালের হাতে৷ মা মরা শিশুটিকে দেখে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয় সান্যাল পরিবারের, শুধু একজন ছাড়া৷ বড় ছেলের বউ জয়ন্তী৷ তিনি তুলে নিলেন শিশুটিকে৷ রানীর নতুন নাম হল মায়া৷ সান্যাল নিশ্চিত হলেন৷ কিন্তু শশাঙ্ককে না পেয়ে সান্যাল অগত্যা মায়াকে নিজের কাছে রাখলেন৷ বড়ো করে তুললেন৷ উপযুক্ত শিক্ষা দিলেন৷ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো একদিন এই সান্যাল পরিবারে হাজির হল শশাঙ্ক মণ্ডল৷ জজ সাহেব খবর পেয়ে পাষাণ মূর্তির মতো পুরো নির্বিকার রইলেন৷ জয়ন্তী শোকোচ্ছ্বাস সংবরণ করলেন৷ সত্যি তো মায়াকে তাঁরা বড়ো করে তুলেছেন ঠিকই, কিন্তু মায়ার প্রকৃত অভিভাবক যে শশাঙ্ক৷ মায়া দিশাহারা৷ যুবতী মায়ার মুখে এমন অসহায়তার ভাব ফুটে উঠেছে; স্নেহশীল পিতা শশাঙ্কর তা দৃষ্টি এড়ায়নি৷ শশাঙ্ক মায়াকে এক চিঠি লিখে জানায় যে মেয়ের ভবিষ্যৎ সুখের জীবন নষ্ট করার কোনও অধিকার পিতা হয়ে তার নেই৷ তাই সে চলে যাচ্ছে নিরুদ্দেশের পথে৷ জজসাহেব আর জয়ন্তী যে উদার মনের পরিচয় দিয়েছেন মায়াকে মানুষ করার জন্যে, সেই কারণে নিজের কৃতজ্ঞতার কথাও চিঠিতে জানিয়ে গিয়েছে শশাঙ্ক৷

এই হল ‘ন্যায়দণ্ড’৷ এক অসামান্য চলচ্চিত্র৷ কাহিনিকার জরাসন্ধ৷ এমন টান টান গল্পে চিত্ররূপ দিয়েছিলেন পরিচালক মঙ্গল চক্রবর্তী৷ জজসাহেবের চরিত্রে রাধামোহন ভট্টাচার্য এবং জয়ন্তীর চরিত্রে অরুন্ধতী দেবী অসাধারণ অভিনয় করেছেন৷ এ ছবির অন্য শিল্পীরা হলেন অসিতবরণ, সবিতা বসু, রবি ঘোষ, তরুণকুমার, তন্দ্রা বর্মণ, আশিসকুমার, ছায়া দেবী, জহর গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ৷ ‘ন্যায়দণ্ড’ মুক্তি পায় ১৯৬৩ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর, মিনার, বিজলী, ছবিঘরে৷
জরাসন্ধ অবশ্যই লেখকের ছদ্মনাম৷ প্রকৃত নাম চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯১০-১৯৮১)৷ পেশায় চিলেন কারারক্ষক৷ ‘জেলখানার লোক’ বলেই নিজের পরিচয় দিতেন৷ একদিন দু-দিনের কথা নয়৷ দীর্ঘ পঁচিশ বছর এই চাকরিতে যুক্ত ছিলেন৷ কোনও কিছুই নজর এড়াত না৷ প্রতিটি কেস মন দিয়ে স্টাডি করতেন৷
রোমাঞ্চকর নানা কাহিনি নিয়ে ‘দেশ’ পত্রিকার জন্য ধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরু করলেন ‘লৌহকপাট’৷ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠক চিত্তে আলোড়ন তুললেন৷
‘লৌহকপাট’ মোট তিনটি পর্ব প্রকাশিত হয়েছিল৷ প্রথম দুটি পর্ব প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জরাসন্ধের কাছে হাজির হন বিখ্যাত পরিচালক তপন সিংহ৷ ছবি করতে চান ‘লৌহকপাট’ নিয়ে৷ সম্মতি দিলেন জরাসন্ধ৷ তপন সিংহের পরিচালনায় নির্মিত হল ‘লৌহকপাট’ ছবি৷ পরিচালক স্বয়ং চিত্রনাট্য রচনা করলেন৷ নায়কের ভূমিকায় নির্বাচিত হলেন নির্মলকুমার৷ বিপরীতে মালা সিন্হা৷ দর্শকের নজর কাড়লেন কমল মিত্র৷ চরিত্রটি বদরুদ্দিন মুনসির৷ কুখ্যাত ডাকাত৷ সর্দার বদরুদ্দিনের অনুচরেরা ডাকাতি করতে গিয়ে এক নববধূকে ধর্ষণ করে৷ অনুতাপে অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে বদরুদ্দিন৷ তবু পুলিশের কাছে অনুচরদের নাম প্রকাশ করেনি৷ ফাঁসির হুকুম হয় তার৷ আত্মহত্যা করে ফাঁসির কাঠকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় বদরুদ্দিন৷ এমন চরিত্রে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলেন কমল মিত্র৷ পাশাপাশি চমকে দেন কালী বন্দ্যোপাধ্যায় ও মঞ্জু দে৷ বৃদ্ধ কাশিম ফকির ও তার যুবতী স্ত্রী কুট্টিন বিবির চরিত্রে এঁরা অভিনয় করেন৷ নিখুঁত মাপের অভিনয়৷ এই দম্পতি বহু ভক্তের ধর্মান্ধতার সুযোগ নিয়ে সেই সব মানুষের মৃত্যুর কী ব্যবস্থা করে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো দর্শকেরা তা দেখেন৷ এ ছবির অন্য শিল্পীরা হলেন ছবি বিশ্বাস, অনিল চট্টোপাধ্যায়, জহর রায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, অমর মল্লিক, নৃপতি চট্টোপাধ্যায়৷ ‘লৌহকপাট’ উপন্যাস হিট, ছবিও হিট৷ ‘লৌহকপাট’ মুক্তি পায় ১৯৫৮ সালের ৩রা জানুয়ারি রূপবাণী, অরণা, ভারতীতে৷

বন্ধু সজনীকান্ত দাসের অনুরোধে জরাসন্ধ লিখেছিলেন, ‘লৌহকপাট’-এর তৃতীয় পর্ব৷ এর অন্তর্গত একটি কাহিনি অপর্ণা নামের একটি মেয়ের৷ ভদ্র, সংস্কৃতিবান পরিবারের মেয়ে অপর্ণা৷ বাবার দ্বিতীয় বিবাহ অপর্ণার জীবনে নিয়ে এল অন্ধকার৷ অবস্থা এমন এক জায়গায় গিয়ে ঠেকল যে অপর্ণা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়৷ কলকাতায় সে আশ্রয় পায় বাল্যবন্ধু বারীনের বাড়িতে৷ নিজের অজান্তে অপর্ণা জড়িয়ে যায় বারীনের সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে৷ এমন কাহিনির চিত্ররূপ দিলেন সলিল সেন৷ ছবির নাম ‘অপর্ণা’৷ নামভূমিকায় তনুজা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করলেন৷ বারীনের ভূমিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কেও সেই একই কথা৷ অন্যান্য শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, অরুণ মুখোপাধ্যায়, গঙ্গাপদ বসু, গীতা দে, বঙ্কিম ঘোষ, তরুণকুমার৷ ‘অপর্ণা’ মুক্তি পায় ১৯৭২ সালের ১৪ই এপ্রিল শ্রী, প্রাচী, ইন্দিরায়৷
শ্রীঘরে বাস করেও যে মেয়েরা ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে তাদের নিয়ে ‘মাসিক বসুমতীতে’ জরাসন্ধ লিকলেন গল্প৷ নাম দিলেন ‘তামসী’৷ হিন্দি ছবির স্বনামধন্য পরিচালক বিমল রায় সর্বদাই বাংলা গল্প থেকে হিন্দিতে ছবি করতেন। তামসী হিন্দিতে নাম দিলেন ‘বন্দিনী’৷ বিমল রায় যেমন রুচিসম্পন্ন হিন্দি ছবি করতে অভ্যস্ত, ‘বন্দিনী’ সেই ধারারই ছবি৷ ‘বন্দিনী’র নায়িকার চরিত্রে অভিনেত্রী নতুন দর্শকদের মন কেড়ে নিলেন৷ একই কথা অশোককুমার সম্পর্কেও৷ ধর্মেন্দ্রকে ভালো ব্রেক দিলেন এ ছবিতে বিমল রায়৷

ধর্মেন্দ্র জরাসন্ধর আর একটি কাহিনিতে অভিনয় করতে মুম্বই থেকে কলকাতায় এলেন ১৯৬৬ সালে৷ ছবির নাম ‘পাড়ি’৷ ধর্মেন্দ্রর চরিত্রের নাম ঘনশ্যাম ঢালি৷ উত্তরবঙ্গের এক বর্ধিষ্ণু গ্রামের জমিদারের নায়েব অনন্ত সেনের মেয়ে তারা, আর ঘনশ্যাম সমবয়সী৷ তারার দাদার বন্ধুর জন্য তারাকে কলঙ্কের ভাগী হতে হয়৷ দুর্গাপুজোয় মানত করা বলি আটকে যায়৷ জনৈক মাতব্বর জগদীশ রায় তারার চরিত্রের দিকে আঙুল তোলেন৷ ঘনশ্যামের অতর্কিত লাঠির ঘায়ে জগদীশের মৃত্যু হয়৷ ঘনশ্যাম ধরা পড়ে৷ আন্দামানে চালান দেওয়া হয় ঘনশ্যামকে৷ বাধ্য হয়ে তারা বিয়ে করে চরিত্রহীন লম্পট বাদল দারোগাকে৷ এক কুমারীর সর্বনাশ করার জন্য নিজের স্বামীকে হত্যা করে তারা৷ বন্দি হয়৷ পুলিশ সুপারের কাছে সব ঘটনা জানিয়ে তারা আবেদন করে তাকে যেন আন্দামানেই চালান করে দেওয়া হয়৷ সেখানে যে ঘনশ্যাম আছে৷ তারা ও ঘনশ্যাম দু’জনেই খুনের আসামি৷ মানুষের সমাজে তাদের ঠাঁই নেই৷ পুলিশ সুপার সম্মতি দেন৷ এমন টান টান গল্পের চিত্ররূপ দিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়৷ অভিনেত্রী প্রণতি ভট্টাচার্য এ ছবির প্রযোজিকা ও তারা চরিত্রের শিল্পী৷ প্রণতির স্বামী অভি ভট্টাচার্য বাদল দারোগার চরিত্রে অভিনয় করলেন৷ শুধু ধর্মেন্দ্রকেই নয়, মুম্বই থেকে কলকাতার নিউ থিয়েটার্স ১ নং স্টুডিওতে শুটিং করানোর জন্য প্রণতি নিয়ে এলেন দিলীপকুমারকে৷ পুলিশ সুপারের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করলেন দিলীপকুমার৷ একই ছবিতে ধর্মেন্দ্র ও দিলীপকুমার, তাও আঞ্চলিক ভাষার ছবিতে, ফলে দর্শকের কাছে তা জোড়া উপহার বটে৷ ‘পাড়ি’ মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালের ৫ই আগস্ট মিনার, বিজলী, ছবিঘরে৷

জরাসন্ধের ‘তামসী’ গল্পের বাংলাতেও চিত্ররূপ পাওয়া গেল৷ ছবির নাম ‘বিষকন্যা’৷ পরিচালক জয়দ্রথ৷ বিরাট শিল্পী তালিকা৷ সুপ্রিয়া দেবী, নির্মলকুমার, বিকাশ রায়, ছবি বিশ্বাস, নীতিশ মুখোপাধ্যায়, তুলসী চক্রবর্তী, পদ্মা দেবী, রাজলক্ষ্মী দেবী, মিতা চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করলেন৷ জেলের নির্মম যন্ত্রণাময় জীবনযাত্রা হঠাৎ প্রণয়-রোমাঞ্চের স্পর্শে কীভাবে আবেশময় হয়ে উঠেছে, মূল কাহিনিকে অনুসরণ করে পরিচালক সেই কথাই তুলে ধরেছেন ছবিতে৷ ‘বিষকন্যা’ মুক্তি পায় ১৯৬১ সালের ৩১শে মার্চ বসুশ্রী, বীণা, প্রাচীতে৷

উত্তমকুমারকে একবারের জন্য পাওয়া গিয়েছে জরাসন্ধের কাহিনিতে৷ ছবির নাম ‘ধনরাজ তামাং’৷ নাম ভূমিকায় শিল্পী উত্তমকুমার৷ পরিচালক উত্তমের স্নেহধন্য পীযূষ বসু৷ চা-বাগানের সাহেব ও শ্বেতাঙ্গ রাজশক্তির অশুভ ষড়যন্ত্রে নিরীহ ভালো মানুষ ধনরাজের জীবনকে কীভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল, সেই মর্মস্পর্শী গল্পের চিত্ররূপ ‘ধানরাজ তামাং’৷ উত্তমের মেকআপ লক্ষ করার মতন, অভিনয় তো বটেই৷ উত্তমের বিপরীতে সন্ধ্যা রায়ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ অন্যান্য চরিত্রের শিল্পীরা হলেন উৎপল দত্ত, ছায়া দেবী, অনিল চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ রায়৷ শ্যামল মিত্রের সুরে কয়েকটি আকর্ষণীয় গান রয়েছে এ ছবিতে৷ ‘ধানরাজ তামাং’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর রূপবাণী, অরুণা, ভারতীতে৷
জরাসন্ধের কাহিনি নিয়ে একেবারে চলেনি যে ছবি, তার নাম ‘ছায়াতীর’৷ ‘ছায়াতীর’ মুক্তি পায় ১৯৭২ সালের ১৪ই জুলাই শ্রী, প্রাচী, ইন্দিরায়৷ সুনীল বিশ্বাস ছবিটির পরিচালক৷ দুর্বল চিত্রনাট্যর জন্য মাধবী মুখোপাধ্যায়, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ রায়, রবি ঘোষের মতো শিল্পীরা থাকা সত্ত্বেও ছবিটি দাঁড়ায়নি৷

জরাসন্ধের কাহিনি মহাশ্বেতা । পরিচালক পিনাকী মুখোপাধ্যায়৷ মহাশ্বেতার জীবন দুর্ঘটনায় কণ্টকিত৷ মহাশ্বেতা লগ্নভ্রষ্টা৷ মেয়ের এমন দশায় তাঁর বাবা আত্মঘাতী হন৷ পরে মহাশ্বেতা সুখের মুখ দেখতে পান সতীনাথের সঙ্গে বিয়ের পর৷ বিপত্নীক সতীনাথের দ্বিতীয় পক্ষ মহাশ্বেতা৷ সতীনের ছেলেকে নিজের কোলে টেনে নিতে দ্বিধা করেন না৷ সতীনাথের বৈমাত্রেয় ভাই রতিনাথের ব্যবহারে অপমানিত সতীনাথের হৃরোগে মৃত্যুর পর মহাশ্বেতার জীবনে আবার দুর্যোগ নামে৷ তবে নাবালক সুধীনের গুলিতে মারা যান রতিনাথ৷ মহাশ্বেতার আপ্রাণ চেষ্টার ফলে নাবালক পুত্রের সাজা মুকুব হয়৷ এ গল্প জেল-সীমার বাইরে৷ তবু কী কী কারণে মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে তার উপর আলোকপাত করা হয়েছে গল্পে৷ নাম ভূমিকায় অঞ্জনা ভৌমিকের অভিনয় বিস্মৃত হওয়ার নয়৷ সৌমিত্র, অনিল, মলিনা দেবী, ছায়া দেবী, কানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রেণুকা রায়, জহর গঙ্গোপাধ্যায় ও জহর রায়ের অভিনয়ও চরিত্রানুযায়ী৷ বেশ কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহার এ ছবিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে৷ ‘মহাশ্বেতা’ মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর উত্তরা, পূরবী, উজ্জ্বলায়৷
মোট কথা জরাসন্ধ ওরফে চারুচন্দ্র চক্রবর্তী সৃষ্ট উপন্যাস ছবিতে ব্যবহার করলে তা যে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়, তা ওপরের ছবিগুলির ব্যবসায়িক সাফল্য দেখলেই প্রমাণিত হয়৷ এত বছর পরেও জরাসন্ধের কাহিনিগুলি যে গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি, এটাই যা আশার কথা।

