কিছুতেই না মনে হয়, এ প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটা অক্ষরও বেশি বলেছে। এই হলো আর্টিস্টিক ফর্ম-এর ভিতরের রহস্য। না বোঝে বরঞ্চ সেও ভালো, কিন্তু বেশি বোঝাবার গরজ না লেখকের প্রকাশ পায়। বলছেন তিনি। সার্ধশতবর্ষে তরুণ লেখকদের সম্পর্কে কখনও বিরক্ত, কখনও উচ্ছ্বসিত সেই সম্পাদক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে খুঁজলেন আশিস পাঠক
অন্যের লেখা সম্পর্কে কেবল ভালমন্দ বলতেন না শরৎচন্দ্র, রীতিমতো শেখানোর চেষ্টা করতেন কীভাবে লেখাকে ভাল করা যায়। আর সেই লেখার ইশকুলটা শুরু করেছিলেন আঠেরো পেরোবার আগেই।
ভাগলপুরের আদমপুর ক্লাবের তখন তিনি খুব সক্রিয় সভ্য। অভিনয়, লেখালেখি আর খেলা নিয়ে মেতে আছেন। সেখানেই আলাপ বিভূতিভূষণ ভট্টর সঙ্গে। তার পরে শরৎচন্দ্রেরই আগ্রহে জমে উঠল সাহিত্যচর্চার আসর। তিনি ছাড়া সদস্য তাঁর তিন মামা সুরেন্দ্রনাথ, উপেন্দ্রনাথ, গিরীন্দ্রনাথ এবং বিভূতিভূষণ ও তাঁর বিধবা বোন নিরুপমা দেবী। হাতে-লেখা পত্রিকাও ছিল এঁদের, ‘ছায়া’।

নিরুপমা তখন কবিতা লিখতেন। পরে স্মৃতিচারণ করেছেন, ‘আমি সে সময়ে অজস্র কবিতা লিখিতাম। ছোটদা [বিভূতিভূষণ ভট্ট] তাঁহার নিজের কবিতার সঙ্গে আমার লেখাও তাঁহার সম্মানিত বন্ধুকে [শরৎচন্দ্র] দেখিতে দিতেন এবং আমাদের খাতায় তাঁহার হস্তাক্ষরে ঐসব কবিতা সম্বন্ধে মতামত আসিয়া আমাদের উৎফুল্ল করিয়া তুলিত। …তিনি নাকি ছোটদাকে বলিয়াছিলেন যে ‘বুড়ি যদি চেষ্টা করে তো গদ্যও লিখিতে পারিবে’।’
এই নিরুপমার সঙ্গে শরৎচন্দ্রের সম্পর্কের গল্প অথবা গল্প হলেও সত্যি সেকালে বেশ প্রচলিত ছিল। নিরুপমার মৃত্যুর পরে সে-সব লিখেছিল একটি পত্রিকা। সে লেখা পড়ে নিরুপমার বাল্যসখী অনুরূপা দেবী গেলেন ভয়ানক রেগে। তিনিও তখন বেশ নামকরা ঔপন্যাসিক। লিখলেন, ‘…প্রচারকর্তারা নির্বাধে ও উৎসাহ সহকারে রটনা ক’রে বলেছেন এই যে—নিরুপমা দেবীর মন্ত্রগুরু সত্যদ্রষ্টা ঋষি শরৎচন্দ্র। এই অত্যাশ্চর্য আবিষ্কারে যথেষ্ট মৌলিকতা আছে নিঃসন্দেহ। তবে এর ভিতরে ‘সত্যদ্রষ্টার’ নিজেরও বেশ একটা পরিকল্পনা যে ছিল, সেকথা আমি তো জানিই, অনেকেরই জানা আছে। তিনি [শরৎচন্দ্র] সুবিধামতো অনেকের কাছে নিজের মর্যাদা বাড়াবার জন্যই হোক, কিম্বা শুধু কল্পনাবিলাসের আকাশকুসুম চয়নের জন্যই হোক, বা আনন্দলাভের জন্যই হোক, অনেকরকম অবান্তর ও অনধিকার রটনা ক’রে বেড়িয়েছেন, যা নিয়ে অন্য কোনো সমাজ হ’লে ডিফারমেসন চার্জ নিয়ে মামলা আনাও চলতে পারত।… ভদ্রসমাজের নামজাদা ঘরের সম্মানিতা মহিলাদের সম্বন্ধে কতখানি সংযতভাবে কথা বলা উচিত, আজকের দিনের বহু সম্মানিত, সেদিনকার ছন্নছাড়া, ভবঘুরে লোকটির সে শিক্ষা ছিল না, সে [ সম্বন্ধে] আমি, আমার স্বামী এবং এখনো বর্তমান দু’ একজন নরনারী প্রমাণ দিতে প্রস্তুত আছি। তিনি তাঁর বন্ধুর ছোট বোনকে বুড়ি বলে উল্লেখ করতে পারেন, কিন্তু তাই থেকে এ প্রমাণ হয় না যে, অর্ধশতাব্দী পূর্বে নিতান্ত নিয়মতান্ত্রিক ঘরের বালবিধবার শরৎচন্দ্রের মতো চরিত্রের একজন অনাত্মীয় তরুণের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে মেলামেশা চলত।…শুধু এইটুকু আজ বলতে চাই, সেই তপস্বিনী যশস্বিনী ও মনস্বিনী [নিরুপমা] তার নিজের শক্তিতেই যথেষ্ট শক্তিমত্তা দেখিয়ে গেছে, তার জন্য কারু দাগা বুলাবার প্রয়োজন হয়নি, হাতে খড়ি দেবার দরকারও কিছুমাত্র ছিল না, যিনি এসব বাজে কথা রটনা করবার হীন কল্পনাবিলাস ক’রে গেছেন, তিনি যে কত অসত্যদ্রষ্টা তার প্রমাণ এইখানেই!’

মৃত্যুর প্রায় এক যুগ পরে এই যে কড়া কড়া কথাগুলো শুনতে হল শরৎচন্দ্রকে তার একটা কারণ, অনেকের অনুমান, অনুরূপা দেবীর একটি উপন্যাসের ঝাঁঝালো সমালোচনা করা। সেই কবে ১৯১৩ সালে শরৎচন্দ্র সে-লেখা লিখেছিলেন। প্রকাশিত হয়েছিল ‘যমুনা’ পত্রিকার ফাল্গুন ১৩১৯ সংখ্যায় অনিলা দেবী ছদ্মনামে। প্রবন্ধের নামটা আজকের সময় হলে বেশ গালমন্দ খেত, ‘নারীর লেখা’। সে প্রবন্ধে অনুরূপা দেবীর ‘পোষ্যপুত্র’ উপন্যাস সম্পর্কে শরৎচন্দ্র লিখছেন, ‘শ্রীমতী অনুরূপার ‘পোষ্যপুত্রে’র গোড়াও পড়ি নাই, শেষও পড়ি নাই, শুধু মধ্যের গুটিকয়েক অধ্যায়মাত্র পড়িবার সুযোগ পাইয়াছি,… ইঁহার… ভাষা যে অতি মধুর তাহাতে সন্দেহ নাই।…এত মধুর যে মুখ মারিয়া দেয় যে, আর গিলিতে পারা যায়না।…আর একটা জিনিস তার চেয়েও বেশি ঠেকে—সেটা অসহ্য জ্যাঠামো। … দৃষ্টান্তের মতো দুই-একটা উল্লেখ করিব মাত্র। একস্থানে বলিতেছেন, ‘বিজনপথে চলিতে চলিতে অকস্মাৎ পায়ের নীচে দংশনোদ্যত সর্প দেখিলে পথিক যেমন আড়ষ্ট কাঠ হইয়া দাঁড়ায়, ইত্যাদি।’ তাই বটে। একটা ন্যাকড়া কিংবা দড়ির টুকরা দেখিলে লাফাইয়া কে কার ঘাড়ে পড়িবে ঠিক থাকে না, আড়ষ্ট হইয়াই দাঁড়ায়। তাও আবার যে-সে সর্প নয়—একেবারে দংশনোদ্যত সর্প! ইনি যে লেখেন নাই, রান্নাঘরে হঠাৎ জ্বলন্ত আগুনের টুকরা পায়ের নীচে মাড়াইয়া ধরিয়া রাঁধুনী যেমন অবাক হইয়া হাঁ হইয়া দাঁড়ায়—ইহাই পরম ভাগ্য।’
সোজা কথা এমন সোজা করেই বলতে পারতেন শরৎচন্দ্র। বাংলা সাহিত্যে তাঁর মাপের ঔপন্যাসিকদের অনেকেই অন্যের লেখার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু কথাসাহিত্যের সম্পাদক হিসেবেও যে তিনি কতটা ক্ষমতা ধরতেন সেটা বোঝা যায় ওপরের অংশটা পড়লে। ফিকশন এডিটর ব্যাপারটা প্রায় কোনও কালেই বাংলা সাহিত্যে ছিল না, এখনও নেই। শরৎচন্দ্র এখানে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম, আজকের সম্পাদকেরাও শিখতে পারেন তাঁর কাছ থেকে।
তাঁর সমালোচনার তীব্রতা কিন্তু নতুন লেখকদের দমিয়ে দেবার জন্য নয়, ঝাঁকুনি দিয়ে জাগানোর জন্য।
নিরুপমাই লিখেছেন: ‘শরৎচন্দ্র যে আমাদের প্রথম জীবনের সাহিত্য সাধনার উৎসাহদাতা গুরু তাহাতে তো সন্দেহই নাই। …একটা কথা আমি স্বীকার করিতে বাধ্য যে, গল্পটি [‘অন্নপূর্ণার মন্দির’] লিখিতে গিয়া অলক্ষ্যে শরৎদাদার আভাসও যে গল্পের মধ্যে আসিয়া গিয়াছে ইহা খুবই সত্য। যেমন কবিতা লিখিতে গেলেই অসাধারণ প্রতিভাশালী ভিন্ন সাধারণ লেখক শ্রীরবীন্দ্রনাথের প্রভাব অতিক্রম করিতে পারে না, তেমনি এই গল্পটিতে শরৎদাদার লেখার প্রভাবও হয়তো আমার মধ্যে ফুটিয়া কার্য করাইয়াছিল।’ আবার নিরুপমা বেশি লিখছেন না বলে অনুযোগ করছেন শরৎচন্দ্র, চিঠিতে তাঁকে লিখছেন, ‘সব লেখাই কোনো লোকের সমান ভালো হয়না।… ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে যে খাতিরটুকু বজায় থাকে, তাকে সম্ভ্রম বলে না, দম্ভ বলে।’ তার পরে আগ্রহী সম্পাদকের মতো উৎসাহ দিচ্ছেন: ‘আমি মনে করচি এখন থেকে তোমাকে এমনি ক’রে বাধ্য ক’রে প্রতিমাসেই কিছু না কিছু লিখিয়ে নেব।’ না হলে কী হবে? শরৎচন্দ্রের আশঙ্কা, ‘ধম্মকম্মর চাপে সাহিত্যচর্চার টিকিটুকুও তোমাতে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ পরে সেটাই সত্যি হল। শরৎচন্দ্র লিখছেন: ‘বার ব্রত জপ তপ ইত্যাদি জ্যাঠামির আগুনে ভিতরে তার যা কিছু মধু ছিল, সব বয়সের সঙ্গে শুকিয়ে গেল… আতিশয্যের জন্যই।’
সাহিত্যেও পুঁথি-পড়া জ্যাঠামি সহ্য করতে পারতেন না শরৎচন্দ্র। অনুরূপা দেবীর উপন্যাসের যে-সমালোচনার কথা আগে বলেছি তারই পরের অংশে সেই জ্ঞান দেওয়ার স্বভাবকে ব্যঙ্গ করছেন, ‘…বইখানি শুনিয়াছি ৫/৬শ পাতার; আমি মাত্র ২৫/৩০ খানি পাতা পড়িয়াছি; …বইখানি জ্ঞানগর্ভ। বেদ, কোরান, বাইবেল, রামায়ণ, মহাভারত, এথিক্স, মেটাফিজিক্স, রামপ্রসাদী, তন্ত্র, মন্ত্র, মারণ, উচাটন, বশীকরণ—সমস্তই আছে। এছাড়া সংস্কৃত, হিন্দি, ইংরেজি-কালিদাস, শেকস্পীয়র, টেনিসন—যাহা কিছু শিক্ষা করা প্রয়োজন একাধারে সমস্তই। …আমার ছোট নাতিটিকে একখানি কিনিয়া দিব মনে করিতেছি।’
একই কথা লিখেছিলেন আশালতা সিংহের লেখা সম্পর্কেও। ভাগলপুরে জন্ম আশালতার। পিতামহ চন্দ্রশেখর সরকার, বিখ্যাত আইনজীবী, ভাগলপুরের খঞ্জরপুর অঞ্চলে গঙ্গার কাছে একটি বিশাল বাড়ি তৈরি করেন, ‘বড়োবাড়ি’ নামে যেটি পরিচিত ছিল ওই অঞ্চলে। এই বড়োবাড়িতেই আশালতার জন্ম। কম বয়সেই আশালতার লেখায় সম্ভাবনা দেখেছিলেন শরৎচন্দ্র। দেখাটাই স্বাভাবিক। কারণ আশালতার ষোলো বছর বয়সে লেখা ‘অমিতার প্রেম’ সাড়া জাগিয়েছিল সে কালে। তাঁর লেখাতেও বিদ্যে জাহিরের প্রবণতা দেখেছিলেন শরৎচন্দ্র। দিলীপকুমার রায়কে ১৯২৮-এ লিখছেন: ‘আশালতার প্রবন্ধগুলো পড়লাম। ছেলেমানুষের লেখা, এর ভাল মন্দ এখনো বিচার করবার সময় আসেনি। বয়সের সঙ্গে আড়ম্বরের আতিশয্যগুলো কেটে গেলে লেখা হয়ত এর ভালোই হবে। ছেলে বয়সের একটা মস্ত দোষ এই যে অনেক বই পড়ার অভিমানটা এদের পেয়ে বসে। তাই নিজের লেখার মধ্যে নিজের কিছুই থাকে না, থাকে শুধু মুখস্থ-করা পরের কথা। থাকে কারণে-অকারণে যেখানে-সেখানে গুঁজে দেওয়া বিদ্যের বাচালতা। মেয়েটিকে তুমি অতো দ্রুতবেগে লিখতে বারণ কোরো। লেখার দ্রুতগতি কেরাণীর কোয়ালিফিকেশান—লেখকের নয়। এ কথা ভোলা উচিত নয়। অল্প বয়সে গল্প লেখা ভালো, কবিতা লেখা আরো ভালো, কিন্তু সমালোচনা লিখতে যাওয়া অন্যায়। তা উপন্যাসের ওপরেই হোক্, বা নারীর ওপরেই হোক্।’

আশালতা সিংহের সঙ্গে শরৎচন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন দিলীপকুমার রায়। দিলীপকুমার নিজের লেখা সম্পর্কে শরৎচন্দ্রের মতামতকে খুব সম্মান করতেন। তাঁর ‘দুধারা’ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছিল শরৎচন্দ্রের। ‘বাস্তবিকই বইখানি ভালো’ তো বলেইছেন. তার উপর বলেছেন এমন উত্তম বস্তুকে ইদানীং সমালোচকরা অবহেলা করে। কিন্তু দিলীপকুমারের প্রহসন ‘জলাতঙ্কে প্রেমবীজ’ সম্পর্কে শরৎচন্দ্র অসংযমের অভিযোগ করেছেন। ‘দোলা’ উপন্যাসটি বড় বেশি ছড়িয়ে গিয়েছিল বলে তাঁর মনে হয়েছে। তাই সংশোধন করেছেন। সেই সঙ্গে এ কথাও লিখেছেন চিঠিতে: “তুমি নিজে যদি এত বাদ দেওয়া পছন্দ না করতে পারো, তোমার ওখানেই কোনো সাহিত্যিক বন্ধুকে দেখিয়ে মত নিয়ো। অবশ্য এমনও হতে পারে যে, যেসব লেখা এখন কেটে দিয়েছি, তার কিছু কিছু হয়তো আমিই আবার জুড়ে দেব যখন বইয়ের শেষে পৌঁছব।”
আসলে কোথায় থামতে হয় সেটা শরৎচন্দ্র খুব ভাল করেই জানতেন। সে শিক্ষা কোনও লেখার ইশকুলে পাননি, পেয়েছিলেন জীবনের পথে পথে। তাঁর অভিজ্ঞতার সঞ্চয়ের বিপুলতার তুলনায় যা লিখেছেন তা নিতান্তই কম বলে সহজ কথা এমন গভীর করে বলতে পেরেছেন।দিলীপকুমারকে সেই সংযমের কথাটাই বলছেন ১৯৩১-এর এক চিঠিতে: ‘তুমি লিখেছিলে যে শ্রীঅরবিন্দ বলেন, আমরা ইন্টেলেকচুয়াল যুগের সন্তান। এ খুবই সত্যি। তোমার লেখার মধ্যে এই সত্যের অনেকখানি প্রকাশ ক্রমশঃ উজ্জ্বলতর হয়ে উঠচে, কিন্তু এখনই এলো তোমার সাবধান হবার সময়। ডায়ালগ ছোট হওয়া চাই, মিষ্টি হওয়া চাই, — কিছুতেই না মনে হয়, এ প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটা অক্ষরও বেশি বলেছে। এই হলো আর্টিস্টিক ফর্ম-এর ভিতরের রহস্য। প্রথমে হয়ত মনে হবে আমার সব কথা বলা হোলো না, পাঠকেরা বোধ হয় ঠিক বক্তব্যটি ধরতে পারবে না, কিন্তু এখানেই হয় লেখকের মস্ত ভুল। না বোঝে বরঞ্চ সেও ভালো, কিন্তু বেশি বোঝাবার গরজ না লেখকের প্রকাশ পায়। বুঝলে তো? … আমি কুঁড়ে মানুষ, চিঠি লিখতে ভয় পাই, কিন্তু তুমি যদি কাছাকাছি থাকতে তো তোমার লেখার এই জায়গাগুলো দেখিয়ে দিতে পারতুম। কতবার না তোমার লেখা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, মন্টু এইখানটায় এমনি করে যদি শেষ করতো।’
বই শরৎচন্দ্র অনেক পড়েছেন। কিন্তু সেই পড়াটা তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে তাঁর লেখালেখির মাটি। সে মাটিতে যে ফুল তিনি ফুটিয়েছেন তা তাঁর একান্ত নিজেরই। তার শরীরে কোনও রেফারেন্স উঁচিয়ে থাকে না আর। ফুলের মতো সেই সহজ সুরটাই বোধ হয় তাঁর রচনাবলির এবং তাঁর সাহিত্য- সমালোচনারও ধ্রুবপদ।
তাঁর পাঠকের বিশ্বতানে তাই কি তা এমন করে মিলতে পেরেছিল!
তথ্যসূত্র
১. ‘আমাদের শরৎদাদা’, নিরুপমা দেবী, ‘ভারতবর্ষ’, চৈত্র ১৩৪৪
২. ‘পুরাতন কথার আলোচনা’, নিরুপমা দেবী, ‘জয়শ্রী’, জ্যৈষ্ঠ ১৩৪০
৩. ‘নিরুপমা দেবী’, অনুরূপা দেবী, ‘কথাসাহিত্য’ পত্রিকা, পৌষ ১৩৫৭
৪. শরৎ-পত্রাবলি, গোপালচন্দ্র রায় সম্পাদিত, পারুল ২০০০
৫. উদ্ভাসিত শরৎচন্দ্র: পত্রে ও সাময়িক পত্রে, সুদীপ বসু, দে’জ, ২০০০

