রবীন্দ্রনাথের প্রথম বই কবি-কাহিনী ছাপা হয়েছিল পাঁচশো কপি। ১৮৭৮-এ। ১৮৮০-তে দ্বিতীয় বই বন-ফুল ছাপা হল এক হাজার কপি।
সংখ্যাটা বলবে, রবীন্দ্রনাথ নিশ্চয় প্রথম বইয়েই বিপুল জনপ্রিয় হয়েছিলেন, নইলে কি আর পরের বই দ্বিগুণ ছাপা হত!
ঘটনা কিন্তু মোটেই তা নয়। আগের লেখায় বলেছি, কবি-কাহিনী যে একেবারেই বিক্রি হয়নি সে-কথা বলছেন রবীন্দ্রনাথই, জীবনস্মৃতিতে, ‘…শুনা যায়, সেই বইয়ের বোঝা সুদীর্ঘকাল দোকানের শেল্ফ এবং তাঁহার চিত্তকে ভারাতুর করিয়া অক্ষয় হইয়া বিরাজ করিতেছিল…।’
তাঁহার মানে, প্রকাশকের। তাঁর চিত্ত আদৌ ভারাতুর হয়েছিল কিনা বলা মুশকিল। কারণ তখন রবীন্দ্রনাথের বই পেশাদার প্রকাশকের মনোভাব নিয়ে ছাপা হত না। হত আত্মীয়-বন্ধুদের উদ্যোগে। তাই কবি-কাহিনী তেমন কেউ না শুনলেও ‘বন-ফুল’ ছাপা হল এক হাজার কপি। কবি-কাহিনী-এর দাম ছিল দু-আনা। আয়তনে বন-ফুল তার প্রায় দেড় গুণ। ছাপাও হয়েছে অনেক বেশি। তাই দাম চার আনা মতো হলে ঠিক হত। কিন্তু দাম হল আট আনা। বিক্রির হিসেব, লভ্যাংশ এ সব ধরাই হত না রবীন্দ্রনাথের ওই বাল্যকীর্তিগুলির প্রকাশনায়। রবিকে যাঁরা ভালবাসতেন, স্নেহ করতেন তাঁরাই প্রকাশ করতেন তাঁর বই। কবি-কাহিনী যেমন করেছিলেন প্রবোধচন্দ্র ঘোষ। আর, বন-ফুল প্রকাশে ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘পাগল’ দাদা সোমেন্দ্রনাথ অন্ধ পক্ষপাত। জীবন-স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, পাহাড় হইতে ফিরিয়া আসিয়া ‘বনফুল’ নামে যে একটি কবিতা লিখিয়াছিলাম সেটি বোধ করি জ্ঞানাঙ্কুরে বাহির হইয়াছিল। এবং বছর তিন চার পরে দাদা সোমেন্দ্রনাথ অন্ধ পক্ষপাতের উৎসাহে এটি গ্রন্থ আকারেও ছাপাইয়াওছিলেন।
রবির লেখা কবিতা শোনানোর জন্য সকলকে একেবারে অতিষ্ঠ করে তুলতেন এই সোমেন্দ্রনাথ।
জীবন-স্মৃতি বলছে,
হরিণ শিশুর নূতন শিং বাহির হইবার সময় সে যেমন যেখানে সেখানে গুঁতা মারিয়া বেড়ায়, নূতন কাব্যোদগম লইয়া আমি সেই রকম উৎপাত আরম্ভ করিলাম। বিশেষতঃ আমার দাদা আমার এই সকল রচনায় গর্ব অনুভব করিয়া শ্রোতাসংগ্রহের উৎসাহে সংসারকে একেবারে অতিষ্ঠ করিয়া তুলিলেন।
ভাইয়ের কবিতা নিয়ে পাগল ছিলেন সোমদাদা, সে-পাগলামি কণ্ঠভরে জানিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে। সেই দাদাকেই রীতিমতো কাগজেকলমে ‘পাগল’ বলে ঘোষণা করা হল। এবং, কী আশ্চর্য, ওই বন-ফুল প্রকাশেরই কাছাকাছি সময়ে। বন-ফুলের প্রকাশ ১৮৮০-র মার্চে। তার বছরখানেক আগে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৮৭৯ নাগাদ সোমেন্দ্রনাথের মধ্যে ‘মস্তিষ্কবিকৃতি’র লক্ষণ প্রকাশ পেতে আরম্ভ করে। রবীন্দ্রনাথের ন-দাদা বীরেন্দ্রনাথও ‘বিকৃতমস্তিষ্ক’ ছিলেন, তার প্রকাশে ছিল হিংস্রতাও। অন্তত দুবার তাঁকে উন্মাদ আশ্রমেও পাঠানো হয়েছে। সোমেন্দ্রনাথ কিন্তু শান্ত ছিলেন। উন্মাদ আশ্রমে পাঠাতে হয়নি তাঁকে। বাড়িতেই থাকতেন। কেবল বীরেন্দ্রনাথের মতো তিনিও মস্তিষ্কবিকৃতির কারণে দেবেন্দ্রনাথের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।
ঠাকুরবাড়ির হিসেবের খাতায় দেখা যায়, ‘ব্যারিস্টার ইভান্স সাহেবের অপিনিয়ন মতে উক্ত ডাক্তারবাবু [ডাঃ পাইন] সোমেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেখিতে আইসে’। বোঝাই যাচ্ছে, পাগলামির লক্ষণ প্রকাশিত হওয়ায় উইল নতুন করে করার দরকার হচ্ছে। প্রশান্তকুমার পাল Tagore Faimly Papers, No. 70 উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ১৮৭৯ তারিখে হাইকোর্ট সোমেন্দ্রনাথকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করে।
রবীন্দ্রনাথের প্রথম বই কবি-কাহিনী গ্রন্থাকারে প্রকাশে হাত ছিল সোমেন্দ্রনাথের। দ্বিতীয় বই বন-ফুল তাঁর উদ্যোগেই প্রকাশিত। দ্বিতীয় বই, কিন্তু প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্য। তার রচনা ও পত্রিকা-প্রকাশ কবি-কাহিনীরও আগে। কবি-কাহিনি চার সর্গে ধারাবাহিক প্রকাশিত হয় ‘ভারতী’ পত্রিকায়, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দে। অর্থাৎ, ডিসেম্বর ১৮৭৭ থেকে মার্চ ১৮৭৮। ‘বন ফুল’ বেরিয়েছিল ‘জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায়, অগ্রহায়ণ, মাঘ, চৈত্র ১২৮২ এবং জ্যৈষ্ঠ, শ্রাবণ, ভাদ্র, কার্তিক ১২৮৩ সংখ্যায়। খ্রিস্টাব্দে ১৮৭৫-১৮৭৬।
রবীন্দ্রনাথ বন-ফুল লিখেওছিলেন এরই কাছাকাছি সময়ে। জীবন-স্মৃতির একটি পাণ্ডুলিপিতে লিখছেন, ‘পাহাড় হইতে ফিরিয়া আসিয়া বনফুল নামে যে একটি কবিতা লিখিয়াছিলাম সেটি বোধ করি জ্ঞানাঙ্কুরে বাহির হইয়াছিল।’ পাহাড় থেকে রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় ফিরেছিলেন ১৮৭৩-এর মে মাসে। তার পরে পাহাড় থেকে ফিরে এসে লেখার মানে ১৮৭৩-এর বাকি ছমাসে হতে পারে, ১৮৭৪ বা ১৮৭৫-এর নভেম্বরও হতে পারে। ১৮৭৫ হওয়াটাই স্বাভাবিক, দেখিয়েছেন প্রশান্তকুমার পাল, তাঁর রবিজীবনী-তে। কারণ, কালিদাস।
বন-ফুল-এ কালিদাসের শকুন্তলার ছায়া আছে। পত্রিকায় কাব্যটির শুরুতেই শকুন্তলা সম্পর্কে দুষ্যন্তের উক্তি ছাপা হয়েছিল এই ভাবে: “অনাঘ্রাতং পুষ্পং কিসলয়মলনং কররুহৈঃ।” ছাপার ভুলে ‘কিসলয়মলূনং’ হয়েছিল ‘কিসলয়মলনং’। বইয়ে সংশোধিত হয়ে সে উক্তি গেল আখ্যাপত্রে: “অনাঘ্রাতং পুষ্পং কিসলয়মলূনং কররুহৈঃ।” বন-ফুল আরণ্যক কমলার গল্প। শকুন্তলা যেমন অনাঘ্রাত পুষ্প, নখ-দ্বারা-অচ্ছিন্ন কিশলয়, কমলাও, অন্তত শরীরের দিক থেকে, তেমনই।
কালিদাস আর শকুন্তলা তখন ছেয়ে রেখেছে রবীন্দ্রনাথের মন। সংস্কৃত শিখতে শুরু করেছিলেন গৃহশিক্ষক রামসর্বস্ব বিদ্যাভূষণের কাছে। রামসর্বস্ব ‘অনিচ্ছুক ছাত্রকে ব্যাকরণ শিখাইবার দুঃসাধ্য চেষ্টায় ভঙ্গ’ দিলেন। শুরু করলেন অর্থ করে শকুন্তলা পড়াতে। রবীন্দ্রনাথের গৃহশিক্ষক হিসেবে রামসর্বস্বের নিয়োগ ১৮৭৪-এর নভেম্বর নাগাদ। এ সব থেকে প্রশান্তকুমার পালের অনুমান, রবীন্দ্রনাথের প্রথম শকুন্তলা পড়া ১২৮২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিকে, ১৮৭৫-এর এপ্রিলের মাঝামাঝি। পত্রিকায় ‘বন ফুল’ প্রকাশিত হচ্ছে ওই বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি।
বন-ফুলে শুধু শকুন্তলার ছায়া নেই, শেক্সপিয়রের টেম্পেস্ট, বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, গ্যেটের ভেরটরের দুঃখ—সকলেরই ছায়া পড়েছে সেই কিশোর রবির মর্মতলে। ছেলেবেলার এই কাব্য এবং কাছাকাছি সময়ের অন্য লেখায় সেই ছায়াটাই বড় হয়ে উঠেছে, মনে করতেন রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্র-রচনাবলী অচলিত সংগ্রহ প্রকাশের পরে চারুচন্দ্র ভট্টাচার্যকে লিখছেন রবীন্দ্রনাথ,
অকৃত্রিম কাঁচা রচনায় কোনো দোষ নেই, বরঞ্চ তা স্নেহ-হাস্যের যোগ্য। যেমন শিশুর কাঁচা হাতের ছবি সমালোচনা করবার সময় তার যেটুকু স্বাভাবিক রমণীয়তা আছে, তা গুণীরা দেখতে পান। কিন্তু বক্ষ্যমাণ রচনাগুলির মধ্যে যা নির্লজ্জভাবে প্রকাশ পাচ্চে, সে-হচ্চে অকালে উদ্গত নকল কবিত্ব। বড়ো বয়সের যোগ্য বড়ো বড়ো কথা বলার স্পর্ধা এই সব লেখার মধ্যে সর্বত্র অত্যন্ত কাঁচা ভাষায় দেখা দিয়েছে। সেটাকে ছোটো লেখা বলে স্নেহ করা যায় না, বড়ো লেখা বলে মাপও করা সম্ভব নয়।”

‘নকল কবিত্ব’ কেন? কারণ, “সেই যুগটাই ছিল নকলের যুগ।” “পূর্ববতী সাহিত্যের আবির্ভাব তখনো সে ‘সম্পূর্ণ’ আপনার করে নিতে পারেনি। সেযুগের ইংরেজ কবিদের মধ্যে যাদের রচনা গ্রহণ করবার শক্তি জেগেছিল, সেটা বাইরে থেকে ব্যঙ্গরূপেই প্রকাশ পেয়েছে। আমরা সে-সকল আহরিত সাহিত্য-সম্পদ তখনো স্বকীয় করে নিতে পারিনি। সুতরাং আমাদের মধ্যে যদি তাঁদের প্রভাব অক্ষম অনুকরণের পথে চালনা করে থাকে, তবে হয়তো সেই যুগের লজ্জার ভাগী আমরা সকলেই।”
বন-ফুল আসলে গল্প, পদ্যে লেখা। হিমালয়ের এক গভীর বনে মেয়েকে নিয়ে থাকে তার বাবা। বাবার মৃত্যুর পরে একা হয়ে পড়ল মেয়েটি, বিজয় নামের এক যুবক তাকে নিয়ে এল মানুষের সমাজে। বিজয় ও কমলার বিয়ে হল। বিজয়ের বন্ধু কবি নীরদ। নীরদ ভালবাসল কমলাকে, কমলাও ভালবাসল নীরদকে। কমলার পূর্ব-জীবন নির্জন অরণ্য-পর্বতের, সজন সংসারের নিয়ম সে জানে না। সে থাকতে চাইল নীরদের সঙ্গে। নীরদ সংসার চায় না। এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে নীরদকে সংসার ছেড়ে চলে যেতে বলল বিজয়। নীরদ যখন চলে যাচ্ছে, কমলাও তার সঙ্গী হতে চাইল। রাগে অন্ধ বিজয় নীরদকে ছুরি মেরে পালিয়ে গেল। নীরদ মারা গেলে কমলা ফিরে গেল সেই নির্জন অরণ্যে। কিন্তু সে নির্জন আর তার ভাল লাগল না। শেষে পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে তার মৃত্যু হল।
বইয়ের আখ্যাপত্রে একে কাব্যোপন্যাস বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু ভাল করেই জানতেন এ না হয়েছে কবিতা, না হয়েছে উপন্যাস। একে বেঁচে থাকতে আর কখনও আলাদা বই হিসেবে ছাপতে দেননি। পরে ইতিহাসের খাতিরে রচনাবলিতে জায়গা দিতে নিমরাজি হয়েছেন, তাও অচলিত সংগ্রহে। মজা করে লিখেছেন,
মনে একান্ত আশা ছিল এই কবিতাটিও অন্যান্য অনেকগুলি বাল্যকীর্তির সহিত লোপ পাইয়াছে কিন্তু দুই এক খণ্ড বনফুল এখনো কোনো কোনো সঞ্চয়বায়ুগ্রস্ত পাঠকের হাতে আছে খবর পাইয়া হতাশ হইয়াছি। ইহাকে শাস্ত্রে বলে কৰ্ম্মফল।
রবীন্দ্রনাথের এই বাল্যকীর্তিগুলি সেই সময়ের যখন ঠাকুর পরিবার তাঁর ভবিষ্যত সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছেন। জীবনস্মৃতি বলছে, বাড়ির লোকেরা আমার হাল ছাড়িয়া দিলেন। কোনোদিন আমার কিছু হইবে এমন আশা, না আমার, না আর কাহারো মনে রহিল। কাজেই কোনো কিছুর ভরসা না রাখিয়া আপন মনে কেবল কবিতার খাতা ভরাইতে লাগিলাম। সে লেখাও তেমনি। মনের মধ্যে আর কিছুই নাই, কেবল তপ্ত বাষ্প আছে—সেই বাষ্পভরা বুদ্বুদরাশি, সেই আবেগের ফেনিলতা অলস কল্পনার আবর্তের টানে পাক খাইয়া নিরর্থক ভাবে ঘুরিতে লাগিল। তাহার মধ্যে কোনো রূপের সৃষ্টি নাই, কেবল গতির চাঞ্চল্য আছে।…তাহার মধ্যে বস্তু যাহা কিছু ছিল তাহা আমার নহে, সে অন্য কবিদের অনুকরণ; উহার মধ্যে আমার যেটুকু, সে কেবল একটা অশান্তি, ভিতরকার একটা দুরন্ত আক্ষেপ।

সেই অশান্তি থেকে মাঝে মাঝে বেজে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব বীণাটি। কবিতায় নিজের পথ তখন খুঁজছেন তিনি, নিজেরই অগোচরে। যে হিমালয়ের কোলে বন-ফুলের গল্প বেড়ে উঠেছে তার স্পর্শ সদ্য পেয়ে এসেছে নবীন কিশোরটি। সে স্পর্শের রোমাঞ্চ সে লিখেছে গদ্যে, অনেক পরে, জীবনস্মৃতিতে,
হিমালয়ের আহ্বান আমাকে অস্থির করিয়া তুলিতেছিল।…যেখানে পাহাড়ের কোনো কোণে পথের কোনো বাঁকে পল্লবভারাচ্ছন্ন বনস্পতির দল নিবিড় ছায়া রচনা করিয়া দাঁড়াইয়া আছে এবং ধ্যানরত বৃদ্ধ তপস্বীদের কোলের কাছে লীলাময়ী মুনিকন্যাদের মতো দুই-একটি ঝরণার ধারা ছায়াতল দিয়া, শৈবালাচ্ছন্ন কালো পাথরগুলার গা বাহিয়া, ঘনশীতল অন্ধকারের নিভৃত নেপথ্য হইতে কুলকুল করিয়া ঝরিয়া পড়িতেছে, সেখানে ঝাঁপানিরা ঝাঁপান নামাইয়া বিশ্রাম করিত। আমি লুব্ধভাবে মনে করিতাম, এ সমস্ত জায়গা আমাদিগকে ছাড়িয়া যাইতে হইতেছে কেন। এইখানে থাকিলেই তো হয়।
সংস্কৃত বা ইংরেজি ভাষার প্রাচীন কবিকল্পনার ছায়ায় ছন্ন বন-ফুলে আছে এই ব্যক্তিগত আকুলতার ইতিহাসও। আছে একেবারেই নিজের নূতন দেখার দেখাও। ‘দীপ নির্বাণ’ অংশে হিমালয়ের বুকে তটিনীর তীরে একটি কুটীর দেখা যাচ্ছে, সেই ছবিটির এক লাইন,
…কুটীরের এক পাশে, শাখা-দীপ ধূমশ্বাসে
স্তিমিত আলোকশিখা করিছে বিস্তার।
অস্পষ্ট আলোক, তায় আঁধার মিশিয়া যায়—
ম্লান ভাব ধরিয়াছে গৃহ-ঘর-দ্বার।
শাখাদীপ কী? ফুটনোট দিয়ে লিখে দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ, হিমালয়ে এক প্রকার বৃক্ষ আছে, তাহার শাখা অগ্নিসংযুক্ত হইলে দীপের ন্যায় জ্বলে, তথাকার লোকেরা উহা প্রদীপের পরিবর্তে ব্যবহার করে।
এ ভাবেই পুরাতনের ছায়ার মধ্যে ফুটে উঠেছে তার নিজস্ব নূতন।

