norendra modi and shubhendu adhikari

শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণ হল মোদির হাত ধরে, শুভেন্দুকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে

” স্বপ্ন যে সত্যি হল আজ…”

সেই স্বপ্ন, যা অধরা ছিল শ্যামাপ্রসাদের। স্বাধীনতার পর লোকসভায় দক্ষিণ কলকাতায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাশ্মীরে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে (যার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি ) তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল জনসংঘের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারেনি। অথচ সদ্য স্বাধীন ভারতে বিশেষ করে বাংলায় তাঁর জনপ্রিয়তার রেখচিত্র ছিল রীতিমত ঊর্ধগামী। অন্য দলগুলির কাছে ঈর্ষনীয়। খোদ কংগ্রেস ও নেহরুর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর দল। কালের গতির সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিবর্তনে সেই জনসংঘ আজ ভারতীয় জনতা পার্টি। পশ্চিমবঙ্গে অষ্টাদশ বিধানসভায় চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজেপি ক্ষমতা দখল করল।

শ্যামাপ্রসাদের সেই স্বপ্নকে সফল ও ভাস্বর করার জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার ব্রিগেডে নয়া মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রীতিমত ষাষ্ঠঙ্গে প্রণাম করলেন উপস্থিত জনতাকে। বিজেপির এই গৈরিক সরকার গঠন শুধু তো বিজেপির দলীয় ও সাংগঠনিক জয় নয়, এ তো বাঙলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নের জয়যাত্রা।

প্রায় শতবর্ষ ছুঁইছুঁই বিজেপির অন্যতম প্রবীণ কার্যকর্তা শ্রী মাখনলাল সরকারকে অভূতপূর্ব সম্মাননা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন তিনি। ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেই জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন তিনি। তিনি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা।

makhan lal sarkar
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহযোগী মাখনলাল সরকারকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

তাই তো ব্রিগেডে শপথ নেওয়ার পর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গেলেন ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়িতে। তাঁর পারিবারিক উত্তরসূরিদের সঙ্গে দেখা করলেন।

এদিন শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল বাঁধভাঙা আবেগের ঢেউ। যে তরঙ্গে ভেসেছে জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ। বেহালার মান্টনের বাসিন্দা আন্না পাল বারবার আকাশের দিকে তাকিয়ে কপালে হাত ছোঁয়াচ্ছিলেন। কী না, আকাশে উড়েছে মোদির হেলিকপ্টার। তিনি প্রণাম জানাচ্ছেন সেই চপারটিকে। কারণ, শুধোলে বললেন, ‘আরে কোন মানুষটা যাচ্ছেন সেটা তো দেখতে হবে। উনি মাথার উপর আছেন বলেই তো দেশটা রক্ষা পাচ্ছে। আজ বাংলাও রক্ষা পেল। তাঁকে প্রণাম করব না তো, কাকে করব! ‘

পাশেই ছিল তাঁর মেয়ে পৌলমী। মেয়েকেও বললেন, ‘মাথায় হাত টা ঠেকা।’ তাঁর কথায়, ‘মমতার আমলে এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল বাঙলার মানুষকে। সেই রাহুর গ্রাস থেকে বাংলা বেঁচেছে।’

ব্রিগেড শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জলপাইগুড়ি থেকে এসেছেন মতিউর রহমান। তিনি জেলার সংখ্যালঘু সেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি আহ্লাদে আটখানা। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই একটা কথা মাথায় রাখুন । যদি টিএমসি আজ আবার ক্ষমতায় আসত তাহলে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ যেত। এক দু’লাখ বাড়ি ভাঙা পড়ত। বিজেপি এসেছে বলে, যাই বলুন, শান্তি আছে। আমরা স্বস্তিতে আছি।

shubhendu adhikari
ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার পঁচিশে বৈশাখের পুণ্য তিথিতে ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের হৃদয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। জয় শ্রীরাম বা মোদির জয়ধ্বনিতে উত্তাল ব্রিগেডেও মানুষের হাতে ভিড়ের মাঝে কবিগুরুর ছবি। শপথ নেওয়ার দিন রবি তিথিতে মুখ্যমন্ত্রীও গিয়েছেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে।

writers building
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পরে গেরুয়া আলোর মালায় সেজে উঠেছে মহাকরণ

এদিন অবশ্য অধীর আগ্রহে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতীক্ষায় ছিল মহাকরণ। তাঁর অভ্যর্থনায় সাজ সাজ রব রাইটারস বিল্ডিংয়ে। আলোয় সেজে উঠেছে এই ভবন। পুলিশ, কর্মচারী, অফিসার, রাইটার্স বিল্ডিং -এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতার একটাই প্রশ্ন, কখন আসছেন নতুন সিএম। আর রাইটার্স এর ঠিক পিছনের গলিতে মহাকরণের মধ্যেই যে এক চিলতে মন্দিরটি রয়েছে সেখানেও মানুষের ভিড়।শপথ গ্রহণের দিন বিশেষ পুজো চড়ানো হয়েছে মন্দিরে। সেখানেও অনেকেরই অধীর প্রতীক্ষা ছিল । অনেকেরই আশা, সিএম যখনই আসুন, এখানে পুজো দিয়েই পা রাখবেন মহাকরণে।

তেরো বছর আগে ফেলে যাওয়া মহাকরণও প্রতীক্ষায় রইল নতুন যুগের ভোরের।