lens-vs-canvas-art

লেন্সবন্দি আলোকচিত্র নাকি ক্যানভাসে রঙ-তুলির আঁচড়

ক্যামেরার লেন্সে বন্দি ফটোগ্রাফি বা ‘ছবিই’ শিল্পের এক মাধ্যম…
সেগুলিই যেন ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে নানাবর্ণের রঙ-মিলান্তি খেলায় এক অনবদ্য শিল্প কর্ম। আর এখানে শিল্পী হলেন খোদ ফটোগ্রাফার বা চিত্রগ্রাহক। সব মিলিয়ে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে উদ্ভাসিত শিল্পকলার এক নয়া রূপ নিয়ে সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল অনবদ্য ও সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার এক প্রদর্শনী। বলতে গেলে, বিড়লা আকাদেমি অফ আর্ট এন্ড কালচারে ১৪ থেকে ১৯ এপ্রিল আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ছবির সমারোহে শিল্পের এক ‘নয়া’ অভিমুখের দিশা মিলল কলকাতায় ।

যদিও এই শিল্প কর্মকে একেবারে নয়া মাধ্যম বলতে নারাজ এই প্রদর্শনীর প্রাণপুরুষ তথা প্রসিদ্ধ চিত্র শিল্পী অমিতাভ সেনগুপ্ত। যাঁর প্রথাগত পড়াশোনা কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ, প্যারিসের সবর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। শিল্পের ঘরানায় যাঁকে বিশ্ব-পথিক বললেও অত্যুক্তি হয় না। কারণ, কারণ, মানবজমিনে শিল্পের অন্তর্নিহিত প্রাণ বা উৎসের সন্ধানে যে মানুষটি চরৈবতির মন্ত্রেই বিশ্বাসী। শিল্পী মনের তাগিদে চষে বেড়িয়েছেন ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি আফ্রিকা মহাদেশও।

তাঁর কথায়, এটা কার্যত কলকাতায় একেবারে নতুন। বস্তুত, এর গুণগ্রাহী বা সমঝদার কলকাতায় কজনই বা আছেন, সেটা বোঝাও বোধহয় আরোও অনেকটা সময়ের অপেক্ষা। কিন্ত বিদেশের মাটিতে শিল্পের এই মাধ্যম এখন রীতিমত প্রতিষ্ঠিত।

প্রদর্শনীতে অমিতাভ সেনগুপ্ত ও শিল্পী সুদর্শন ব্রহ্মচারী।
প্রদর্শনীতে অমিতাভ সেনগুপ্ত ও শিল্পী সুদর্শন ব্রহ্মচারী।

যেসব আলোকচিত্রীরা এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুদর্শন ব্রহ্মচারী। পেশাগত ভাবে তিনি কিন্তু আলোকচিত্রী নন। প্রেসিডেন্সি কলেজের এই প্রাক্তনী কর্মজীবনে ছিলেন বরিষ্ঠ সরকারি আধিকারিক। এই মুহুর্তে অবশ্য তাঁর পায়ের তলায় সর্ষে। পাহাড়ে জলে জঙ্গলে অবিরত তাঁর সঙ্গী ক্যামেরা।

নিজের সৃষ্টির প্রেক্ষিতে ক্যামেরার লেন্সের অন্দরে আলো আঁধারির লুকোচুরির খেলায় শিল্পের বিন্যাসে শত ফুল বিকশিত হওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। বললেন , আমি ছবি তোলার জন্য যাই না। আমি প্রকৃতির মধ্যে হেঁটে বেড়াই। তখন হঠাৎ করে প্রকৃতির মধ্যে এমন কিছু চোখে পড়ল, যা ভালো লাগলো, মনকে টানল। তখন ছবি তুলি। শুধু কম্পোজিশনটা ভেবে নিই।

এই প্রদর্শনীতে সমাগম হযেছিল বহু মানুষের। যারা জীবনের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছেন। যেমন, কলকাতা পুলিসের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শোভনলাল মান্না। অথবা পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ও গবেষক ড. শুভঙ্কর ঘোষ।

তাঁরা একমত, যে প্রদর্শিত ফটোগ্রাফগুলি দেখে মনে হয় এগুলি যেন আলোক চিত্র নয়, ক্যানভাসের উপর জলরং বা তেল রঙ দিয়ে নিপুণ হাতে তুলির আঁকিবুকিতে ফুটিয়ে তোলা ‘পেইন্টিং’। চোখ টেনেছে ফটোগ্রাফির সঙ্গে ডিজিট্যাল মাধ্যমেরও মেলবন্ধন।

উল্লেখ্য, এখানে প্রদর্শিত হযেছিল সনাতন সাহা, মীনাক্ষী সেনগুপ্ত, পুষ্পেন রায়, অর্ণব ঘোষালের মতো আরও নানা শিল্পীর কাজ।